শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

জুনে মিলবে ই-পাসপোর্ট, মেয়াদ-ফি বাড়বে

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৮:১৭ এএম

জুনে মিলবে ই-পাসপোর্ট, মেয়াদ-ফি বাড়বে

যন্ত্রে অপাঠযোগ্য কাগুজে পাসপোর্টের দিন শেষ হয়েছে বেশ আগেই। যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট-এমআরপি) ধারণাও শেষ প্রায়। কারণ, যুগ এখন ইলেকট্রনিক বা ই-পাসপোর্টের। এর মধ্যে বিশ্বের ১১৯টি দেশে চালু হয়ে গেছে এই পাসপোর্ট। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। আগামী জুন মাস থেকে চালু হতে পারে ই-পাসপোর্ট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রবিবার সংসদে জানিয়েছেন, আগামী জুন থেকেই ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হবে এবং তখন থেকেই গ্রাহকরা ই-পাসপোর্ট হাতে পাবেন।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমরা যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) করেছি। প্রায় দুই কোটি এমআরপি করেছি। এখন আমরা ই-পাসপোর্টে যাচ্ছি। জুন থেকেই ই-পাসপোর্ট গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা করছি।

কেবলই-পাসপোর্টই নয়, ই-ডাটাও হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানো ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

জুন মাসে জনসাধারণের হাতে যাবে বিশেষায়িত এই পাসপোর্ট। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসগুলোতে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় এর মধ্যে দুদিনের প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের দুটি পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালকরা।

তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট হবে ১০ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি। ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স তারা ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন। ১৮ বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর। তবে তারা চাইলে ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে পারবেন বলে জানিয়ে মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা বলেন, বর্তমানে চালু থাকা মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) তুলনায় ই-পাসপোর্টে খরচ বেশি হবে। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট হবে ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট হবে ৪৮ পৃষ্ঠার।

উল্লেখ্য, দেশে ২০১০ সালের এপ্রিলে এমআরপি পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামেও শুরু হয় এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের
অংশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (আইসিএও) গাইডলাইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সেই থেকে এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু ও বিতরণ চলছে।

সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট বইয়ের কভার পাতার ভেতরে থাকবে মোবাইল সিমের মতো একটি ডিভাইস। এটাতেই থাকবে পাসপোর্টধারীর যাবতীয় তথ্য। মেশিন মুহূর্তের মধ্যেই রিড করবে এসব তথ্য।

মনসুরাবাদ অফিস থেকে নগরীর বন্দর, ডবলমুরিং (সদরঘাট), সীতাকুণ্ড, পাহাড়তলী (আকবরশাহ), মীরসরাই, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, রাউজান, বায়েজিদ, খুলশী, ভূজপুর, সন্দ্বীপ, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম পোর্ট ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দাদের পাসপোর্ট ইস্যু করে। একইসাথে এ অফিস ভিসা প্রদানের কাজটিও করে। বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালী এবং নগরীর কোতোয়ালী, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও চকবাজার (পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালীর অংশ) এলাকার আবেদনকারীদের পাঁচলাইশ অফিস থেকে ইস্যু করা হয় পাসপোর্ট।

কেমন হবে ই-পাসপোর্ট

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডেটাবেইসে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়সভেদে ৫ ও ১০ বছর। ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে না। তবে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাঁকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে।
বর্তমানে বই আকারে যে পাসপোর্ট আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে বর্তমানে পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে থাকবে পালিমারের তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (পিকেডি)। আন্তর্জাতিক এই তথ্যভান্ডার পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)। ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্যভান্ডারে ঢুকে তথ্য যাচাই করতে পারে।

ই-পাসপোর্টের বাহক কোনো দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে পিকেডিতে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করে নেবে এবং আবেদন গ্রহণ করে বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার কিংবা বাতিল করে সিল দেবে। স্থল ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও একই পদ্ধতিতে পিকেডিতে ঢুকে ই-পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য দেশের প্রতিটি বিমান ও স্থলবন্দরে চাহিদামোতাবেক ই-গেট স্থাপন করে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হবে। যাঁদের হাতে ই-পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের এই গেট দিয়ে সীমান্ত পার হতে হবে। তবে যাঁদের হাতে এমআরপি পাসপোর্ট থাকবে, তাঁদের ইমিগ্রেশনের কাজ বিদ্যমান পদ্ধতিতে চলমান থাকবে।