শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কমান্ডো অভিযানে বিমান ছিনতাইকারী নিহত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৭:৪২ পিএম

কমান্ডো অভিযানে বিমান ছিনতাইকারী নিহত

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিনামবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ কমান্ডো টিম।  প্রথমে সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীকে আটকের খবর জানানো হলে পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম বিমান ঘাটি প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, কেবিন ক্রু দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উড়োজাহাজে  কোনো যাত্রী জিম্মি নেই। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো টিমের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএনসহ সম্মিলিত অভিযানে অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী তার দাবি নিয়ে সেভাবে কিছু বলেনি। তবে সে কিছু ইচ্ছা-আকাঙ্খার কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কৌশলে তাকে আটক করা হয়। 

মফিদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল অস্ত্রধারী। পরে আমরা অভিযান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি যেভাবে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা কাজ করেছি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)  চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নাইম হাসান বলেন, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। চার ঘন্টা পর বিমান উঠানামা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে মানসিক সমস্যাগ্রস্থ মনে হয়েছে। বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, এক নায়িকার সঙ্গে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে।

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করে শাহ আমানত বিমানবন্দরে। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রধানী একজন উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছেন। ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা সবাই বেরিয়ে আসতে পারলেও দু’জন কেবিন ক্রু ভেতরে আটকা পড়েন। এসময় উড়োজাহাজটি ঘিরে রাখে পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে এক নায়িকার ব্যর্থ প্রেমিক। খবরটি জানিয়েছে বেসরকারি সময় টিভি। তবে কোন নায়িকার সঙ্গে হৃদয়ঘটিত কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছিনতা্ইয়ের চেষ্টা সন্দেহে চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। নিরাপত্তাকর্মীরা এটি ঘিরে রেখেছেন।

সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সমন্বিত ভাবে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিমানটি বাংলাদেশ বিমানের ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমান বলে জানা গেছে।

ময়ূরপঙ্খী বিমানটি রোববার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে জরুরি অবতরণ করে।

অসমর্থিত সূত্রের খবর, দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ওই ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। বিমানের এক যাত্রী পিস্তল হাতে পাইলটের ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পাইলট ও কেবিন ক্রুরা ফ্লাইটটি জরুরিভাবে শাহ আমানতে অবতরণ করান।

দুবাইগামী ফ্লাইট ময়ূরপঙ্খীতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল। তিনি বলেন, ভেতরে একজন হাইজ্যাকার আছে। তিনি বাঙালি। বিমান থেকে সব যাত্রীকে নামানো হয়েছে। এখন হাইজ্যাকারকে নামানোর চেষ্টা চলছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ১৪৭ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি ছেড়ে যায়। এর মধ্যে ৮৬ জন ছিলেন দুবাইগামী যাত্রী। বাকি ৬১ জন অভ্যন্তরীণ যাত্রী, যাদের চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল। আর চট্টগ্রাম থেকে দুবাইগামী বাকি যাত্রীদের ওঠার কথা ছিল। বিমানটির যাত্রী বহনের ক্ষমতা প্রায় আড়াইশ জন