বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

কর্ণফুলীতে ইয়াবার টাকায় দালানবাড়ি !

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ১০:৫৭ পিএম

কর্ণফুলীতে ইয়াবার টাকায় দালানবাড়ি !

কর্ণফুলী ইছানগর এলাকার আলীশান দুই বাড়ি ঘিরে রহস্য বাড়ছে। ভবন দু’টির মালিকের আদিনিবাস কক্সবাজারের হ্নীলা উপজেলায়। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। প্রায় ৩০ শতক জমির উপর বিশাল বাউন্ডারি ওয়ালে ঘেরা দু’টি ভবনের একটি ৫ তলা ও অপরটি ৪ তলা বিশিষ্ট। পাঁচতলা বাড়িটির মালিক হিসাবে আলোচনায় থাকা হেলাল উদ্দিন (৪৫) এর একার নামেই সারাদেশে রয়েছে প্রায় ৪০টি ইয়াবা ও মাদক মামলা। চারতলা অপর বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ হোসাইন (৪০)। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ।

মঙ্গলবার কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজের ভ্রাম্যমান আদালত বাড়ি দু’টিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিসিটিভি ক্যামেরা জব্ধ করে। এ সময় কর্ণফুলী থানার ওসি তদন্ত মো. হাসান ইমাম, এসআই  মো. দিদার হোসেন, এসআই মোহাম্মদ আলম খাঁন, অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, এই দু’টি ভবনের অনেক কিছুই রহস্যজনক। ভবনের মালিকেরা পলাতক রয়েছে। এই বাড়ি থেকে ৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া গেছে। ধারণা করছি এসব ক্যামেরার মাধ্যমে তারা দূরে বসে এলাকার লোকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। এখানে আরো খোঁজখবর নিতে হবে। এজন্য আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও থানা সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত ভবন দুটির মালিক যথাক্রমে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৪৫) ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ও একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন (৪০)। এর মধ্যে হেলালের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৪ টির মতো মামলা আছে। দেশের বিভিন্ন থানায় তার মামলার সংখ্যা ৪০ এর বেশি হতে পারে।  সর্বশেষ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ১ লাখ ১৫ হাজার ইয়াবাসহ ফারুক আহমেদ নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। হেলাল ওই মামলারও আসামি।

সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেও দু’বাড়িতে একবার অভিযান চালানো হয়েছিল। সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের মুখে বাড়ি দুটির মালিক হেলাল ও হোসাইন মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে পালিয়ে যায় বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। তাদের বৈধ ব্যবসার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত মাদক ব্যবসার আয়ে এই রহস্যময় দুটি বাড়ি তৈরী করা হয় বলে এলাকাবাসীর ধারণা।  অভিযানকালে দু’বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে কিছু মহিলা ও শিশু সন্তান ছাড়া তেমন কাউকে পাওয়া যায়নি। মৌখিক ভাবে দুই ভবনের সকল ভাড়াটিয়াকে আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে বাসা ছাড়ার নিদের্শনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যথায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বন্ধ করা হবে বলে সর্তক করেন তাদের।

সরেজমিনে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইছানগর এলাকার বিএফডিসির ঠিক বিপরীতে ডায়মন্ড সড়কের বাঁ পাশে বানানো হয়েছে এ দুটি আলিশান বাড়ি। প্রায় ১০ থেকে ১৫ গন্ডা জমির উপর বাড়ি দুটির বাউন্ডারি। দেখতে সুবিশাল রাজ প্রাসাদের মতোই নীল রংয়ের পাঁচতলা বাড়িটির মালিক হেলাল । সোনালী রঙের চারতলা বাড়িটির মালিক হোসাইন। কিছুদিন আগে ইছানগরের মীর্জা বাড়ির হাফেজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে বেশ দ্রুতই ভবন দু’টি নির্মাণ করা হয় বলে এলাকাবাসী জানায়।  

অভিযোগ ওঠেছে, রহস্যময় এ দুটি প্রাসাদের দুই মালিক কর্ণফুলীতে বাড়ি বানানোর পর থেকে  এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে যায়।  বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে দূর থেকে তারা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ধারণা প্রশাসনের।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামশুল তাবরীজ জানান,  ৫টি সিসিটিভি জব্দ করা হয়েছে। এই সিসিটিভি ক্যামেরা ঘিরে সন্দেহ বাড়ছে। এখন প্রযুক্তির যুগ। মাদক ব্যবসার জন্য অপরাধীরা নানা কৌশল নিতে পারে।