মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সন্তানদের স্মার্টফোন নয় বই দিন : তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ১০:৫৭ পিএম

সন্তানদের স্মার্টফোন নয় বই দিন : তথ্যমন্ত্রী

তখ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, সন্তানদের হাতে মোবাইল ও স্মার্টফোন নয় বই দিন।তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখান। বই তাদের জীবনকে আত্মপ্রত্যয়ী করবে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক দিক যেমন আছে তেমনি নেতিবাচক দিকও আছে। ছোটবেলায় আমরা বই পেতাম, এখন সে সময়টি শিশুরা স্মার্টফোনে কাটায়। অভিভাবকদের বলবো, আপনারা সন্তানদের হাতে মোবাইল ও স্মার্টফোন তুলে না দিয়ে, তাদের হাতে বই তুলে দিন।

মন্ত্রী রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি তার শৈশব-কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার ছোটবেলায় হেমসেন লেনের বাসা থেকে মুসলিম হাইস্কুলে হেঁটেই যেতাম। আমাদের দু-তিনজন বন্ধু হাঁটার সময় বই পড়ে পড়ে হাঁটত। আবার তারা যাতে বই পড়তে পড়তে ফুটপাত থেকে পড়ে না যায় সে জন্য আমরা দু-একজন পাহারা দিতাম। তখন বইপড়ার এরকম নেশা ছিল। এখন বই পড়ার নেশাটা চলে গেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এটির একটি বিরূপ প্রভাব সমাজের উপর পড়েছে।

বইপেড়ার প্রতি নিজের ঝোঁকের কথা উল্লেখ করে বলেন এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমি একবার গ্রেফতার হয়েছিলাম। গ্রেফতার হওয়ার পর আমাকে কোতোয়ালী থানার হাজতখানায় রাখা হয়। যে হাজতখানায় রাখা হয়েছিল, সেখানে আমি প্রথমে খেয়াল করিনি, পরে দেখলাম যে কক্ষটির একপাশে এর আগে যে হাজতি ছিল সে শুধু মুত্র নয়, মলও ত্যাগ করে চলে গেছে।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ অবস্থায় সে কক্ষে সারারাত তো আমার ঘুম আসবে না। আমি বাসায় খবর পাঠালাম যে, আমার জন্য বই পাঠাতে। আমার বাবা খুঁজে দুটি বই পাঠালেন। একটি হচ্ছে- ভারতের বিখ্যাত রাজবন্দিদের জীবন নিয়ে লেখা। আমার মনে আছে, সারারাত আমি ঘুমাইনি। সেই বইটি পড়েছিলাম।

‘বইটি পড়ার পর এই যে আমি মলমুত্রের মধ্যে সারারাত ছিলাম, সেটি কিন্তু আমাকে কষ্ট দেয়নি। আমি সারারাত বইয়ের মধ্যে মগ্ন ছিলাম।’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। নতুন প্রজন্ম যেন বই পড়ার দিকে ঝুঁকে সেভাবে শিক্ষা দিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্য প্রযুক্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন প্রথম ক্ষমতায় আসি তখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৮ লাখ, আর এখন ২০১৯ সালে সে সংখ্যা ৮ কোটির বেশি। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। বলা যায় বিপ্লব হয়ে গেছে। যে কেউ চাইলেই তার কথা নিয়ে সবার কাছে যেতে পারছে। কোনো টিভি না দেখালেও, কোনো পত্রিকা না ছাপালেও।’

এর আগে বিকেলে তথ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিকের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন কলেজের ছাত্রীরা। পরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সহায়তায় ১৯ দিনব্যাপী এ বইমেলার আয়োজন করেছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১০টি প্রকাশনার প্রায় দেড়শটি স্টল রয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, চসিক এর আগেও বই মেলার আয়োজন করেছে। কিন্তু এবারের বইমেলার সঙ্গে বিগত সময়ের বইমেলার অনেক ব্যবধান ও পার্থক্য আছে।

কবি-সাহিত্যিক এবং লেখক-প্রকাশক প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আওয়াজ উঠেছিল চসিক এমন একটি বইমেলার আয়োজন করুক। যে বইমেলার সাথে সবাই সম্পৃক্ত হবে। এবং যে বইমেলার একটা মান থাকবে। সেই চিন্তা থেকেই বৃহত্তর পরিসরে এবার বইমেলা হচ্ছে। আগামীতে  বইমেলা হবে ঢাকার কাছাকাছি পর্যায়ের।

স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা। আরও বক্তব্য রাখেন বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, জামাল উদ্দিন, সচিব সুমন বড়ুয়া প্রমুখ।