মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কে হুমকি দিচ্ছে, পার পাবে না : ভূমিমন্ত্রী

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৮:২৮ পিএম

কে হুমকি দিচ্ছে, পার পাবে না : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন,কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হুমকি দিয়ে কেউ পার পাবে না । এটা একবিংশ শতাব্দী। এসব হুমকি আমলে নেওয়ার মত নয়। হুমকি দেওয়া মাত্রই খুঁজে বের করা হবে। কেউ হুমকি দিলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের গতি দ্বিগুণ করা হবে বলে ।

মন্ত্রী পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন,  আগের বাংলাদেশ এখন আর নেই এটি শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন আমরা ডিজিটাল। আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাইকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আবারও কর্ণফুলীকে বাঁচানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। এই নদী সারাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  যেভাবে হোক কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে হবে। ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজসহ সবাইকে কর্ণফুলী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। 

শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি)  কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন ছাড়াও মন্ত্রীর সঙ্গে উচ্ছেদকারী দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত এবং তৌহিদুর রহমান ছিলেন। ভূমিমন্ত্রী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের উচ্ছেদ কার্যক্রম কখন শুরু হবে সেটা গণমাধ্যমকে দ্রুত জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। ওইদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছিলেন, উচ্ছেদ শুরুর পর তিনি হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন। এছাড়া উচ্ছেদকারী দুই ম্যাজিস্ট্রেটকেও হুমকি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীর দখলমুক্ত জায়গা ১ম ধাপে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়েছে। আমরা যেভাবে টার্গেট নিয়েছিলাম সেভাবে কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ২য় ও ৩য় ধাপে উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হবে। ১ম ধাপে আমরা ১০ একর জমি দখলমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া ৫টি খালও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দখলমুক্ত জায়গা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে বন্দর জেটি করার। কাজ বন্ধ হবে না। কোন অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, অনেকে মনে করছেন, শুরুটা করলাম- তারপর মনে হয় উচ্ছেদ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। নো, এটা হবে না। আমি থাকতে কাজ বন্ধ করতে দেবো না। কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে যে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি, সেটা বাস্তবায়ন করা হবে।

পাঁচদিন ধরে টানা অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও আলোচিত এক শিল্পপতির মালিকানাধীন একটি হিমাগার এখনও রয়ে গেছে। সেটির সামনের অংশ ভাঙ্গা হলেও মূল অংশে আঘাত পড়েনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ কোনো স্থাপনা আমরা রাখবো না। তবে এখানে কিছু বিষয় আছে। অবৈধ স্থাপনার মধ্যে একটা কোল্ড স্টোরেজ আছে। এতে ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার টন মাছ স্টকে রাখেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে কোনো কাজ করলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।আমি প্রশাসনকে বলেছি, তাদের সঙ্গে বসেন। তাদের টাইম দেন। কতদিন সময় লাগবে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু প্রচুর সময় দেওয়া যাবে না এবং কোল্ড স্টোরেজও থাকতে পারবে না।’

কর্ণফুলীর তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না বলে আবারও জানান ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অবৈধ কোনো স্থাপনা থাকতে পারবে না। কেউ কোনো ছাড় পাবে না। আমরা দেশের জন্য কাজ করছি, জনগণের জন্য কাজ করছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ কোনকিছুই থাকবে না। কোনটাই ছাড় হবে না। আবারও শো-অফ করার জন্য ধুমধাম করে ভেঙ্গে ফেলব, এমনও হবে না। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। কোনো ব্যবসায়ীর ক্ষতি করা হবে না। ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিকে অবদান রাখছেন। আমরা যে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছি, এতে বরং ব্যবসায়ীদের লাভ হচ্ছে।’

উদ্ধার করা জায়গায় ‘দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা’ অথবা ‘পল্টন জেটি’ বানানোর পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দৃষ্টিনন্দন কিছু কাজ করতে চাই। ভালো পরিবেশে যাতে ভালোভাবে কর্ণফুলী নদীর সৌন্দর্য্য দেখা যায়। এছাড়া পল্টন জেটি টাইপের কিছু করারও চিন্তাভাবনা করছি। কারণ বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে প্রচুর জাহাজ আসে কার্গো নিয়ে। জেটিতে সিরিয়ালের কারণে সেগুলো অনেক সময় আউটারে বসে থাকে। এতে ডেমারেজ দিতে হয়। আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ডেমারেজের কারণে চলে যাচ্ছে। পল্টন জেটি করে সেই জাহাজগুলোকে যদি সুযোগ করে দিতে পারি, ভালো হবে। তবে সেটা তো আর আমরা করবো না। বন্দর কিংবা বিআইডব্লিউটিসি, তাদের সঙ্গে কথা বলব। অথবা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমেও হতে পারে।’ বলেন ভূমিমন্ত্রী।