মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কেইপিজেডে আন্দোলন স্থগিত

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১০:০৭ পিএম

কেইপিজেডে আন্দোলন স্থগিত

বেতন বৈষম্য নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের পর এক মাসের মধ্যে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন স্থগিত করে শনিবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, কর্তৃপক্ষকে এক মাসের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তারাও এই সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এ কারণে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আবার জোরালো আন্দোলন শুরু হবে।   

জানা যায়, সরকারি সংশোধিত মজুরি অনুযায়ী বেতন না পেয়ে বুধবার দুপুর থেকে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করে কেইজিডের অভ্যন্তরে বৃহত্তম জুতা কারখানা কেএসআইসহ অন্যান্য কারখানার শ্রমিকেরা।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কারখানার কেন্টিনে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা সাথে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় শ্রমিকদের মুখপাত্র এস.এম মুজিবুর রহমান ৪০  সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সামনে দাবি তুলে ধরেন। টানা ৩ ঘন্টার বৈঠকের শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে নিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। শনিবার থেকে তাদেরকে কর্মস্থলে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আবারো আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।

সূত্র জানায়, গত বুধবার বেলা একটার দিকে শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতনের পে স্লিপ হাতে পায়। এতে নতুন ঘোষিত সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা বেতন গ্রহণ না করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। বর্তমানে কেইপিজেডে প্রায় ২১ হাজার শ্রমিক রয়েছে। এখানকা কর্ণফুলী সু ইন্ডাস্টিজ  (কেএসআই) ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম জুতা কারখানা হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

কোরিয়ান ইপিজেডে কর্মরত ক্ষুদ্ধ শ্রমিকেরা আজাদীকে জানায়, গত ২০১১ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণফুলী স্যুজ লিমিটেড জুতো তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করে। যোগদানকালীন সময়ে তাদের মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ভাতা সহ সব মিলিয়ে একজন শ্রমিক ৫,১০০ টাকা বেতন পেত। ২০১৪ সালের দিকে শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলনে গেলে এ দফায় বেতন পরিবর্তন হয়ে ৭,২০০ টাকা হয়।

কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে সরকার ঘোষিত নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে একজন শ্রমিক সব মিলিয়ে ৯,৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পাওয়ার কথা। নতুন শ্রমিকদের সাথে পুরাতন শ্রমিকদের মূল বেতসের তেমন পার্থক্য না থাকা এবং যথাযথভাবে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা। এসব অভিযোগ শ্রমিকেরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সুরাহা হয়নি। উপরন্তÍ  বুধবার শ্রমিকদের কাছে জানুয়ারী মাসের বেতনের পে স্লিপ পাঠানো হয়। শ্রমিকেরা পে স্লিপ হাতে পেয়ে বেতন বৈষম্য দূর না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে।