বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

মন্ত্রণালয়ের সব কর্মীর সম্পত্তির হিসাব দেয়ার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১২:৩৭ পিএম

মন্ত্রণালয়ের সব কর্মীর সম্পত্তির হিসাব দেয়ার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

ভূমি মন্ত্রণালয়ে কোন ধরণের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না জানি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কর্মকর্তা সম্পদের হিসাব জমা দেবেন। প্রয়োজনে সার্কুলার জারি করা হবে। আমি এই সম্পদের হিসাব মিলিয়ে নেব। দুর্নতির বিষয়ে কোন ছাড় নেই নেই। যারা সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন তারা থাকেন , না পারলে অন্যত্র চলে যান।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্রাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন নতুন মন্ত্রীসভায় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনবারের এই সংসদ সদস্য এক সময় চট্টগ্রাম চেম্বারেরও সভাপতি ছিলেন।

জনগণের মধ্যে যেকেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকবেন বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন , সারাদেশে ভূমি অফিসে অনেক সমস্যা রয়েছে । কর্মকর্তাদের সাহস দিতে চাই। মাঠ পর্যায়ে হাত দিচ্ছি। উপজেলা, ইউনিয়নের সব ভূমি অফিসকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসবো। ভয়েস রেকর্ডিংয়ের সুযোগ রাখবো বিভিন্ন পয়েন্টে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবো।

‘আমি মনে করি, যারা অভ্যাস ফেলতে পারবে না তাদের কেটে পড়া উচিত। আমি এসেছি সম্মানের জন্য। দুর্নীতি যেদিন স্পর্শ করবে সেদিন হবে আমার শেষ দিন। যেকেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকবো। আমি সবার সেবক হিসেবে থাকতে চাই।’

ভূমিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য একদম শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একদম ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেবো। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদেরকে সম্পদের বিবরণ দিতে হবে। এখান আমি মৌখিক সিদ্ধান্ত আপনাদের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তাদের সবাইকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তখন অভিজ্ঞতা ছিল না। তবুও নিজস্ব উদ্যোগে অনেক কাজ করেছি। ওই সময় অনেক ভালো কাজ করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ে জটিলতা, হয়রানি কাটাতে অটোমেশনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর সুফল পেতে থাকবে মানুষ।

তদবিরে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, যা কপালে থাকবে তা-ই হবে। তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছি। নির্বাচনের পর ঢাকায় দৌড়াইনি। এলাকার মানুষের সঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছি। শপথ গ্রহণের দিন ঢাকা যাই। শপথ নিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। রোববার শেষ কর্মদিবসে অফিস করি। তখন মন্ত্রী হওয়ার ফোন আসে। আমি বিশ্বাস করি, সততার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, শুভানুধ্যায়ীরা বিব্রতবোধ করে-এমন কোনো কাজ করবো না। দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণমন্ত্রী করে পুরস্কার দিয়েছেন। আমি সততা, দক্ষতা, স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে কাজ করবো।

মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় একসময় ছিল ডাম্পিং স্টেশন। কিন্তু এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৫ বছরের মধ্যে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসবো। অটোমেশনসহ সব উদ্যোগ গতিশীল করবো। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবো।’

তিনি বলেন, আমি নিজেও দুর্নীতির ধারে কাছে থাকি না, বরদাশতও করি না।সবার আগে আপনারা আমার সম্পদ মিলিয়ে নেবেন। আর আমি আমার অধস্তনদের সততা দেখব। আমি চাই ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে যেতে। আগে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন অফিস নিয়ে অনেক কথা শোনা যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আস্থায় নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখনও সুযোগ আছে । যারা খারাপ কাজে ছিলেন ভাল হয়ে যান। সবাই মিলে আমরা আমাদের স্বপ্নের মত করে সুন্দর বাংলাদেশ সাজাব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, নির্বাহী সদস্য শহীদ উল আলম, ম. শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক পঙ্কজ কুমার দস্তিদার, তপন চক্রবর্তী, মোস্তাক আহমেদ, এম নাসিরুল হক, এজাজ মাহমুদ, শফিউল আলম, একরামুল হক, আলমগীর সবুজ, সুমন দাশ, আলমগীর অপু প্রমুখ।