রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

পছন্দের এপিএস পাচ্ছেন মন্ত্রীরা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১১:৩৫ পিএম

পছন্দের এপিএস পাচ্ছেন মন্ত্রীরা

আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পছন্দের ভিত্তিতে পিএস (একান্ত সচিব) নিয়োগ দেওয়া হলেও এবার তা হয় নি। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার ৪৬ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পিএস নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের কারও কোনো মতামত নেয়া হয়নি।

এরপর থেকে গুঞ্জন চলছিল পছন্দের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)-ও থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অন্যান্য সময়ের মতো পছন্দের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পাবেন তারা। এ সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আগের মতোই এপিএস নিয়োগ দেয়ার পক্ষে মত দেন। সেই বিষয়টিই নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ দফতরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে সময়ের প্রয়োজনে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে যাচাই-বাছাই করে সৎ, যোগ্য এবং পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের একান্ত সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামীতে এই নতুন ব্যবস্থাটিই বহাল থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘তবে আগের মতোই মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী এপিএস নিয়োগ দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী এবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত ছাড়াই পিএস নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মূলত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের তদারকির অংশ হিসেবে অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া গত দু’টি মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্য পিএস ও এপিএসের কারণেও বিতর্কিত হয়েছেন। কোনো কোনো পিএস ও এপিএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অভিযোগও ওঠে। এবার সেই বিষয়গুলো এড়ানোর জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত ছাড়াই পিএস-এপিএস নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় সরকার দেখেছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিপ্রায় থাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিবার থেকে পিএস বা এপিএস পদে অনেকেই নিয়োগ পান। ভবিষ্যতে পোস্টিং, পদোন্নতি বা নানা সুবিধার জন্যই এসব কর্মকর্তা পিএস বা এপিএস হয়ে থাকেন। এমন চিন্তা মাথায় রেখেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পিএস হিসেবে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পছন্দ মতো পিএস নিয়োগ দিতে পারতেন।

পিএস পদে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও এপিএস হিসেবে নিজেদের পছন্দে যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, এপিএস যিনি হচ্ছেন, তার যেন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার পদে আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা থাকে।

বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার কারণে এপিএস পদে পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবার বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। আর এপিএস হিসেবে সরকারের ক্যাডার সার্ভিস বা নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার একটি প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পছন্দ মতো এপিএস নিয়োগ দিতে আধা সরকারি পত্র দিলে সেটার ওপর ভিত্তি করে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গত সোমবার ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন উপমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় আগের মন্ত্রিসভার ১৫ জন সদস্য রয়েছেন, তাদের আগের পিএসও পরিবর্তন করে নতুন পিএস দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।