বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

ভালো হয়ে যান, না হয় চলে যান : জাবেদ

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০৮ পিএম

ভালো হয়ে যান, না হয় চলে যান : জাবেদ

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ গঠনে যে চমক দেখিয়েছেন, আমরা কাজ করে তার প্রমাণ রাখবো। দুই বছরের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় কিছু করে দেখাবে। এজন্য ভূমি অফিসগুলো অটোমশনসহ সিসিটিভির আওতায় আনা হবে, গুড গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠা করা হবে। সারা দেশের ভূমি অফিসগুলোর সেবা বাড়ানো হবে।

নতুন দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস মঙ্গলবার (০৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাবেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবো। যারা দুর্নীতি করছেন তারা সতর্ক হয়ে যান। না হলে দুর্নীতি ছেড়ে দিতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে বদনাম নিয়ে যাওয়ার মানুষ আমি নই।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ গঠনে যে চমক দেখিয়েছেন, আমরা কাজ করে তার প্রমাণ রাখবো। তিনি বলেন,  ‘আমরা টপ-১০ এর মধ্যে থাকতে চাই। তবে আমার স্বপ্ন টপ-৫; ভূমি মন্ত্রণালয়কে সেখানেই দেখতে চাই। এ জন্য সবাইকে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের হাত শক্তিশালী হলে সরকারের হাত শক্তিশালী হবে।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসন থেকে নির্বাচিত তিনবারের এই সংসদ সদস্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। সেখানে তিনি বলেন, “ ভূমি অফিসে হয়রানি বন্ধ করাটাই আমার ট্যালেঞ্জ। এই মন্ত্রণালযের অধীন যারা আছেন সবাই  আমাকে ভালো করে চেনে। সুতরাং যাদের সমস্যা তাদেরকে বলব ভালো হয়ে যেতে, আর না হয় অন্য জায়গায় চলে যেতে।”

পাঁচবছর একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসা জাবেদ এবার পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে। প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে বিনা নোটিসে হাজির হতেন চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ।

জাবেদ অকপটে স্বীকার করে বলেন, “এখনও ওভাবে আশানুরূপ কিছু ইমপ্রুভ করতে পারিনি আসলে। সিস্টেমের একটি বিষয় আছে। সিস্টেম প্রপারলি ডেভলপ করতে পারলে হয়রানি কমে যাবে।
“পাসপোর্টে এক সময় হয়রানি হত কিন্তু এখন নাই। কারণ সিসটেম অ্যালাও করছে না কিছু করতে। এখানেও সিস্টেম ডেভলপ করলে হয়রানি থাকবে না এবং এটাই আমাদের কাজ।”

তিনি বলেন, “সকল ভূমি অফিস সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং আমাদের একসেস থাকবে। অফিসে বসে নিজের ইচ্ছামত ভূমি অফিসের চিত্র দেখতে পারব। এটা হলেই পঞ্চাশ শতাংশ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিষয় আছে। আশা করি হয়ে যাবে। আমরা প্রসেস করতে থাকি। বছর দুয়েকের মধ্যে জনগণ পরিবর্তন বুঝতে পারবে বলে আশাবাদ্য ব্যক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী।

মাঠ পর্যায়ে মানুষের ভোগান্তি কিভাবে আরও কমানো যায় সে ব্যাপারে প্রথমদিন কার্যদিবসেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়ে বলে জানান মন্ত্রী।

দেশের ভূমি অফিসগুলোকে অটোমেশনের কাজ অনেক আগে শুরু হলেও এখনও শেষ হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এটা বিভিন্নভাবে হচ্ছে, নানা কাজেও একটু সময় লাগছে।বিশ্বের অনেক দেশে বিশ থেকে পঁচিশ বছরও সময় লেগেছে। যে সময় অতিবাহিত হয়েছে সেটা অত বেশি বড় সময় না। একটু সময় লাগবে। আমরা মনে হয় এটা স্পিড আপ হয়ে যাবে।