বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার, ১০:৩৯ পিএম

দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে

জিম্বাবুয়ে শুরুটা দারুণ করলেও অভিজ্ঞ বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও কেপাস ঝুওয়াও ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ২৪৩ রানে। বাংলাদেশ জয় পায় ২৮ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট দখল করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৭২ রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও কেপাস ঝুওয়াও দারুণ সূচনা এনে দেন জিম্বাবুয়েকে। ওভার প্রতি গড়ে ৭ রান নিয়ে ৬ ওভারেই ৪১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।

ভালো খেলতে থাকা ওপেনার কেপাস ঝুওয়াওকে বোলিংয়ে এসেই বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। জিম্বাবুয়ের এই ওপেনার ২৪ বলে ৩৫ রান করেন।

কেপাস ঝুওয়াও আউট হলে ক্রিজে নামেন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু ব্যক্তিগত ৫ রান করে নাজমুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরত যান তিনি। দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

দ্রুত দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। সেই চাপকেই পুঁজি করে বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট তুলে নেয় জিম্বাবুয়ের। অধিনায়ক মাসাকাদজাকে দুর্দান্তভাবে রান আউট করেন মুশফিকুর রহীম। অধিনায়ক ৩৪ বলে মাত্র ২১ রান করে ফিরে যান।  

৬৩ রান তিন উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও ক্রেগ আরভাইন। কিন্তু ২৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলীয় ৮৮ রানে নাজমুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরত যান সিকান্দার রাজা। আউট হওয়ার আগে রাজা ২২ বলে মাত্র ৭ রান করেন।  

চতুর্থ উইকেট পড়ার পর দলের খাতায় ১২ রান যোগ করতে না করতেই আবারও উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। মিরাজের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ক্রেগ আরভাইন ক্লিন বোল্ড হয়ে সাঁজঘরে ফেরত যান। ক্রেগ ৪৮ বলে ২৪ রান করেন।  

২৫ ওভারে ১০০ রান সংগ্রহ করতেই ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মুর ও তিরিপানো ৪৫ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকে। কিন্তু মিরাজ বোলিংয়ে এসেই মুরকে ব্যক্তিগত ২৬ রানে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। দলের খাতায় ৩ রান যোগ করেই তিরিপানো দলীয় ১৪৮ রানে রান আউট হয়ে ফেরত যান। ১৪৮ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষের দিকে শন উইলিয়ামস ও জার্ভিসের ৬৭ রানের জুটিও জিম্বাবুয়ের হার এড়াতে পারেনি। জার্ভিস ব্যক্তিগত ৩৭ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে উইকেট কিপার মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন। জার্ভিস আউট হয়ে গেলেও অর্ধশতক তুলে নেন উইলিয়ামস। ৫৯ বলে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি।  

এদিকে, টস জিতে বাংলাদেশ প্রথম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ওপেনিং জুটি আবার ব্যর্থ হলেও ওপেনার ইমরুল কায়েস একাই বাংলাদেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যান। শেষের দিকে ইমরুল-সাইফুদ্দিনের ১২৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান ইমরুল। ১৪০ বলে ১৪৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। এছাড়া ৫০ রান করেন সাইফুদ্দিন।