ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

মর্মাহত তাসকিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ১০:২১ পিএম

মর্মাহত তাসকিন

এ দেশে একজন বাবাকে তার পিতৃত্বের প্রমাণ দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে হয়, এর চাইতে দুঃখজনক বিষয় আর কি হতে পারে? বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় তাসকিন আহমেদের প্রতি সমমর্মিতা জানিয়ে এভাবেই শত শত স্ট্যাটাস ফেসবুক টাইমলাইনে ভেসে বেড়াচ্ছে।
সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেনের পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির শিকার তাসকিন ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছেন।

অবশ্য খেলোয়াড়দের ব্যক্তি জীবন নিয়ে বাজে কমেন্ট করার প্রবণতা মোটেও নতুন কিছু নয়। বর্তমানে ফেসবুকে সব শ্রেণির মানুষের অবাধ বিচরণ থাকায় অনেকেই বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করে যা ইচ্ছে তাই করছেন। এতে করে আমাদের দেশের সব শ্রেণির মানুষের সুপ্ত রুচিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এমনটি করে নিজেদের রুচি প্রকাশ করতে পারা মানুষ যতটা তৃপ্তি পাচ্ছেন, ঠিক তার তুলনায় শতগুণ কষ্ট পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট তারকা খেলোয়াড়।

এমনটি তো কখনোই কাম্য হতে পারে না। যাদের আনন্দের জন্য তারা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদেরই একটি অংশ যদি এভাবে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিজীবন নিয়ে মনগড়া মন্তব্য করেন তা মেনে নেওয়াটা খুব কষ্টের। অতীতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেনসহ তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীমদের মতো খেলোয়াড়দেরও ভক্তদের বাজে মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে।

সাকিব আল হাসানকে এখনো তার স্ত্রীকে নিয়ে নিয়মিত কটূক্তি শুনতে হয়। এর আগে নাসির হোসেনকে তার বোনের সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে দেওয়ার পর নানা বাজে মন্তব্য শুনতে হয়েছিল।

সে সময় এ দেশের প্রশ্নাতীত জনপ্রিয় খেলোয়াড় মাশরাফি বিন মর্তুজা এর প্রতিবাদ করেছিলেন।
এভাবে প্রতিবাদ প্রতিবারই হয়েছে, কিন্তু দেখা মেলেনি প্রতিকারের। নিজের স্ত্রীসহ ছেলের ছবি ফেসবুকে দেওয়ার পর এরকম প্রতিক্রিয়ায় তাসকিন আহমেদ এখন প্রচণ্ড মর্মাহত। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাসকিন বলেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয়েছিল তখন বেশকিছু সংবাদমাধ্যম আবোলতাবোল সংবাদ করে, তখন মানুষ সেটা বিশ্বাস করেই অনেক মন্তব্য করতে থাকে, তাই একটা আক্ষেপ থেকেই উত্তরটা দিয়েছি।

তাসকিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটা ভালো মুহূর্তেও এমন মন্তব্য যারা করে তাদের মন-মানসিকতা কেমন সেটা বলা মুশকিল।’

তাসকিন আহমেদ তার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিলেও সে ব্যাখ্যা যে মোটেও কাজে লাগেনি, সেটা বুঝতে পেরে তিনি আরও বেশি মর্মাহত হয়েছেন। তার অনেক ভক্তই এভাবে বিরূপ মন্তব্যের জবাব দেওয়াকে সমর্থন করতে পারেননি।    

এমন নেতিবাচক মন্তব্য কেন করা হয়, তার ব্যাখ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘বাংলাদেশে সমাজের যে জায়গা, সেখানে শিক্ষার হার, সচেতনতা বা ধর্মান্ধতা সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যে মিডিয়া লিটারেসি, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তাদের সাংস্কৃতিক রুচির মান কেমন সেটার ওপর নির্ভর করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেলিব্রিটিদের যে ব্যক্তি মানস, সেই ব্যক্তি মানসকে আমরা সম্মান করতে চাই না। তাদের যে একটা খারাপ লাগা কাজ করে এটা বুঝতে চাই না, সেখান থেকেই এসব মন্তব্য উঠে আসে।’