ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

বীরত্ব আর সাহসিক জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:১০ এএম

বীরত্ব আর সাহসিক জয়

শুরুতেই সাজানো বাগান তছনছ। একটু পরেই দেখা গেল সেই বাগানের প্রধান মালিও নেই। তা-ও আবার তাঁর না থাকাটা অপঘাতে।

অপঘাতেই তো। ডান হাতের ফুলে থাকা আঙুলের ব্যথা নিয়ে নামা তামিম ইকবালের বাঁ হাতের কবজিও যে আক্রান্ত, সুরঙ্গা লাকমলের বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে। তা নিয়ে সবিস্তারে যাওয়ার আগে আরেকটি কথাও বলে রাখা দরকার। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজজয়ী দলটি সাজানো বাগানই হয়ে উঠেছিল। আর সেই বাগানের প্রধান মালি তিন ম্যাচে অপরাজিত ১৩০, ৫৪ ও ১০৩ রানের ইনিংস খেলা তামিম ছাড়া আর কে!

সেই তিনি ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে বেরিয়ে গিয়ে ছুটলেন হাসপাতালে। কিন্তু দিনের শেষে হোটেলে ফিরলেন ১৩৭ রানের বিশাল জয় ঝলমলে চেহারায়। পুরো দলকে সেই চেহারায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বীরত্বগাথাও তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন ইতিহাসে গ্রন্থিত হয়ে থাকবে।
ইনজুরির মিছিলে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ দল। ম্যাচের আগে থেকেই ইনজুরিতে জর্জরিত দল। সাকিব, তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ইনজুরিতে। ম্যাচের আগে জানা গেলো, ইনজুরি মুশফিকেরও। শেষ পর্যন্ত, সাকিব, তামিম এবং মুশফিক- তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে নিয়েই মাঠে নামলো বাংলাদেশ।

মাঠে নামার পরেরটা যেন পুরোটাই স্বপ্ন। ইনজুরির ওপর ইনজুরিতে পড়ে তামিমের মাঠ ছাড়া, মালিঙ্গার একের পর তোপে দিশেহারা হয়ে পড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মুশফিক-মিঠুনের ১৩১ রানের অবিশ্বাস্য জুটি, মুশফিকের অসাধারণ এক সেঞ্চুরির পর শেষ মুহূর্তে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তামিমের মাঠে নামা এবং মুশফিকের বীরোচিত ব্যাটিং- সব কিছুই যেন সত্যি সত্যি এক স্বপ্ন।
সেই স্বপ্নের বাতায়ন খুলে শেষ পর্যন্ত, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে টিম বাংলাদেশ। তামিম-মুশফিক-মিঠুনদের গড়ে দেয়া ভিতকে পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছেন বোলাররা। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বাংলাদেশের মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন কিংবা সাকিব আল হাসান। ৩৫.২ ওভারে মাত্র ১২৪ রানেই শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দিয়েছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল যেভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সাহসের সঞ্চার করেছেন, সেটাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের ক্ষেত্রে বিশাল এক অনুপ্রেরণা তৈরি করে দিলো। সেই অনুপ্রেরণা নিয়েই শুরু থেকে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ওপর চেপে বসে বাংলাদেশের বোলাররা।

বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ২২ রানে মোস্তাফিজের বলে কুশল মেন্ডিস আউট হওয়ার পর থেকে বিপর্যয় শুরু লঙ্কানদের। ২৭ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে মাশরাফি একটা বার্তা দিয়ে দেন।
২৮ রানে ২, ৩২ রানে ৩, ৩৮ রানে ৪, ৬০ রানে ৫, ৬৩ রানে ৬ এবং ৬৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। ২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক লঙ্কানদের উইকেট হারানো জয় ত্বরান্বিত হয় বাংলাদেশের।

শুরুতেই ঝড় তুলেছিলেন মোস্তাফিজ এবং মাশরাফি। তাদের সঙ্গে পরে যোগ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং রুবেল হোসেনরা। একটি আবার রানআউটও হয়েছে।

লঙ্কানদের কোনো ব্যাটম্যানকেই দাঁড়াতে দিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছিলেন উপুল থারাঙ্গা। মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। ১৬ রান করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। ১১ রান করেছিলেন কুশল পেরেরা। তার উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

থিসারা পেরেরা ছিলেন শেষের শঙ্কা। কিন্তু তাকে মাত্র ৬ রানেই ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ মুহূর্তে দিলরুযান পেরেরা আর সুরাঙ্গা লাকমাল ভালো দুটি ইনিংস খেলেন। ২৯ রান করেন দিলরুয়ান। আর লাকমাল করেন ২০ রান।

দিলরুয়ানকে ফেরান মোসাদ্দেক। লাকমালকে বোল্ড করে ফেরালেন মোস্তাফিজ। আমিলা আলফনসোকে ফিরিয়ে দিয়ে উইকেটের খাতায় নাম লেখান সাকিবও। মাশরাফি, মোস্তাফিজ এবং মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। সাকিব, রুবেল এবং মোসাদ্দেক নেন ১টি করে উইকেট।