ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮

বিশ্বকাপ জয়ের সুবাস পাচ্ছে ফ্রান্স!

ক্রীড়া ডেস্ক :

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ১০:২৭ পিএম

বিশ্বকাপ জয়ের সুবাস পাচ্ছে ফ্রান্স!

আর দুটি ম্যাচ! ফ্রান্স তাদের ফুটবলের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত ফিরিয়ে আনতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ দূরে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আবারও একটি সোনালি প্রজন্ম তারা পেয়েছে। এই প্রজন্ম সুযোগটা হাতছাড়া করতে নারাজ! আজ আরও একটি বাধা সহজেই পার হলো দিদিয়ের দেশমের দল। উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে চলে গেল সেমিফাইনালে।

হোসে মারিয়া হিমেনেজ কাঁদছেন, ফ্রিকিকে তাদের তৈরি দেয়ালের ওপর দাঁড়িয়ে। নব্বই মিনিটের তখনও দুই মিনিট বাকি, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে উরুগুয়েকে তখনও শোধ করতে হবে দুই গোল। মিরাকল প্রয়োজন, যেটা প্রতিদিন আসে না। গ্যালারিতে “শেষ মুহুর্তেও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়ার” নীতিতে বিশ্বাসী উরুগুইয়ান সমর্থকরা তখনও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ততক্ষণে যেন সব শেষ হয়ে গেছে মাঠের উরুগুয়ের! গ্যালারিতে তাদের উৎসাহ তাই চাপা পড়ে যাচ্ছে ফরাসী উৎসবে। উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০০৬ সালের পর আবার সেমিফাইনালে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের দুই গোলের দ্বিতীয়টি এসেছে উরুগুইয়ান গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার চরম এক ভুলের ওপর ভর করে। যে গোলের পর আঁতোয়া গ্রিযমান উদযাপনও করলেন না। এমন গোলে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন? বন্ধুর দলের বিপক্ষে এমন গোলের পর উদযাপনে সাঁয় দেয়নি মন? নাকি স্রেফ অভিজ্ঞ এক ফুটবলারের এমন পরিণতির বিপরীতে উল্লাস করতে বাধা দিয়েছিল তার ফুটবল-সত্ত্বা? নাকি নিজেকে ‘আধা-উরুগুইয়ান’ পরিচয় দেওয়া গ্রিযমান উদযাপনের কথা ভাবতেও পারেননি ওই সময়ে? এসব প্রশ্নের জবাব শুধু গ্রিযমানই দিতে পারবেন। আর মুসলেরার ওই ‘বিভৎস’ ভুলের পেছনের কারণটাও শুধু ব্যাখ্যা করতে পারবেন তিনি নিজেই। তিনটি বিশ্বকাপ, উরুগুয়ের হয়ে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার গোলরক্ষকের ভুলের ওপরই আদতে গড়া হয়ে গেছে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ সমাধি।

দুই অর্ধে ফ্রান্সের হয়ে গোল করেছেন মাদ্রিদের দুই খেলোয়াড়। ৪০ মিনিটে রিয়ালের রাফায়েল ভারান, ৬১ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর আঁতোয়ান গ্রিজমান। এডিনসন কাভানির শূন্যতায় প্রথম মিনিট থেকে ভুগতে থাকা উরুগুয়ে ম্যাচে ফেরার একটিই সুযোগ পেয়েছিল। ডিফেন্ডার মার্টিন কাসেরেসের হেডটি জালে জড়িয়ে গেলেই সমতায় ফিরতে পারত উরুগুয়ে। বলটি ঠিক গন্তব্যেই যাচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বলটা ঠেকিয়ে দিলেন হুগো লরিস।

এমন সেভের পর যেকোনো দলই নতুন প্রাণ ফিরে পায়। অন্য দল নুইয়ে পড়ে। উরুগুয়ের বেলায়ও তা-ই হলো। আর কখনো তেমন ভয় জাগাতে পারেনি উরুগুইয়ানরা। তাদের একমাত্র সাফল্য ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বোতলবন্দী করে রাখা। কিন্তু তাতেও ফ্রান্সের খুব একটা সমস্যা হয়নি। বরং ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে দুই দলকেই হারাল। দিয়ে রাখল বার্তা।

ব্রাজিল-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ী দল শেষ চারে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। নকআউট পর্বের দুই ম্যাচে ৬ গোল করা ফ্রান্স জানিয়ে রাখল, যে-ই আসুক, অসুবিধা নেই! এ এমন এক ম্যাচ, যেখানে শুধু স্কোরলাইন ফ্রান্সের দাপট বোঝাতে পারছে না। তবে এই তথ্য কিছুটা সাহায্য করতে পারে। ম্যাচের ১০ মিনিটের মতো বাকি থাকতে গ্রিজমান যখন ফ্রি কিক নিচ্ছিলেন উরুগুয়ের বক্সে, তখনই কাঁদতে শুরু করে দেন ওয়ালে দাঁড়ানো হিমিনেস! উরুগুয়ের ডিফেন্ডার বুঝতে পারছিলেন, আর কোনো সুযোগ নেই!

সেই ভুলের আগেই উরুগুয়ে সমতায় এসেই গিয়েছিল প্রায়। সেটা হতে দেয়নি এই বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা এক সেভ। উরুগুয়ের ডানদিক থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক এসে পড়েছিল কাসেরেসের কাছে। হেডটা নিচে নামাতে পারলেন, তবে ভেদ করতে পারলেন না হুগো লরিসের হাতজোড়া। তার গ্লাভসে লেগে ফিরতি