বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

ফেভারিট ভাবতেই পারে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক :

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:২৯ এএম

ফেভারিট ভাবতেই পারে ব্রাজিল

প্রথম ম্যাচে হতাশা, পরের ম্যাচে সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠা শেষের ফেরায়। এরপর শেষ ম্যাচে দেখা মিলল ব্রাজিলের দুর্দান্ত ফুটবলের। সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল ব্রাজিল। হেক্সা জয়ের মিশনে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের খেলা মেক্সিকোর সঙ্গে।

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল ফেবারিট—এ এক অলিখিত নিয়ম। কিন্তু এবার ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচের পর কথাটা কেউ শুনেছেন? বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর। সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ তিতের মুখ ফুটেও কথা বেরোয়নি। পাছে, যদি হাঁটতে শুরু করতেই পা পিছলে যায় এই ভয়ে? কথাটা এখন ব্রাজিল সমর্থকেরা বলতেই পারেন। কারণ, নকআউট পর্বে ওঠার পর ব্রাজিলকে দেখছেন ফেবারিট হিসেবে দেখছেন তিতে।

তাও কথাটা সরাসরি বলেননি। ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে এমনিতেই প্রত্যাশার পারদ সব সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তিতে তা জানেন। আর জানেন বলেই প্রথম দুই ম্যাচে তাঁর শিষ্যরা সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান সেভাবে মেটাতে না পারায় ‘ফেবারিট তত্ত্ব’ নিয়ে কিছু বলেননি। কিন্তু সার্বিয়ার বিপক্ষে নেইমার-কুতিনহোরা সৌরভ ছড়ানোর পর ব্রাজিল কোচ মুখ খুললেন, ‘আমরা প্রত্যাশাকে স্বাভাবিক ভাবেই নেই। তবে এই দলটা সবার প্রত্যাশাকে অনেক উঁচুতে স্থাপন করেছে। কারণ বাছাইপর্ব ও প্রীতি ম্যাচে তাঁরা খুব ভালো করেছে।’

তিতের সেই ‘উঁচু’ জায়গাটা যে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরার মঞ্চ তা না বললেও চলে। তবে শেষ ষোলোয় ওঠার পর মাটিতেই পা রাখছেন ব্রাজিলের এই কোচ, ‘আমরা প্রত্যাশা নয় বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেই। এই টুর্নামেন্টে দলটা মানসিকভাবে ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে উঠছে। চাপ নিয়ে কীভাবে ভালো খেলতে হয় সেটি তাঁরা জানে। তবে বিকল্প পথও থাকতে হবে। যেমন ধরুন, মার্সেলো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ল। এ জন্য আপনার শক্তিশালী স্কোয়াড থাকতে হবে।’

দিনের শুরুতে জার্মানির হারের পর খানিকটা শঙ্কা ভর করেছিল। বিশ্বকাপ যে গতিতে এগুচ্ছিল তাতে যে কোনো কিছুই তো সম্ভব। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হার এড়ালেই হতো ব্রাজিলের। ব্রাজিলের খেলায় অবশ্য অনুমিতভাবেই ওই সমীকরণের ছাপ থাকল না। শুরু থেকেই স্পার্টাকে আক্রমণাত্মক ব্রাজিল। কিন্তু ১০ মিনিটে অবশ্য শঙ্কার মেঘ ভর করেছিল ব্রাজিল দলে। ১০ মিনিটে পিঠের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন মার্সেলো। তার জায়গায় নেমেছিলেন ফিলিপে লুইস। ব্রাজিল দলের শক্তিটাও পরীক্ষা হয়ে গেছে এই ম্যাচে।

এর আগে তিতে নামিয়েছিলেন অপরিবর্তিত একাদশটাই। নেইমারকেও দিয়েছিলেন স্বাধীনতা। সেটা কাজে লাগিয়েই ২৫ মিনিটে নেইমার ঢুকে পড়লেন ডিবক্সের ভেতর। কিন্তু গোলরক্ষক স্টইকোভিচকে কোণাকুণি শটে হারাতে পারেননি। মিনিট চারেক পর গ্যাব্রিয়েল হেসুসও প্রায় একইরকম জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু কম্পোজারের অভাবে শটই নিতে পারেননি। প্রথমার্ধে সার্বিয়া বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের অর্ধে থেকে প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টায় ছিল। ব্রাজিলের আক্রমণের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে খাপ খাইয়ে নিচ্ছিল সার্বিয়ার রক্ষণও। কিন্তু সেই স্বস্তিটা বেশিক্ষণ টেকেনি সার্বিয়ার।

৩৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দারুণ একটা বল বাড়ালেন ফিলিপ কৌতিনহো। সার্বিয়ার দুইজন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলেন পাউলিনহো। সেই বলেই পায়ের টোকায় গোলে পরিণত করেন তিনি। বার্সেলোনার দুই সতীর্থের বোঝাপড়ায় ব্রাজিল এগিয়ে গেল শুরুতেই।

প্রথমার্ধ শেষের আগেই নেইমার ব্যবধান বাড়াতে পারতেন, কিন্তু তার নেওয়া বাঁকানো শট চলে যায় সার্বিয়ার গোলরক্ষককে কোনোরকম বিপদে না ফেলেই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকটাতেও অবশ্য খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাকে। ব্রাজিলের আক্রমণ সার্বিয়ার রক্ষণ থেকেই ফেরত আসছিল ঠিকঠাকভাবে। ৫৭ মিনিটে অবশ্য আরও একবার নেইমারকে গোলবঞ্চিত করে দলকে অনুপ্রেরণাই যুগিয়েছিলেন গোলরক্ষক স্টইকোভিচ। সেটাই ক্ষণিকের জন্য ম্যাচে ফিরিয়েছিল সার্বিয়াকে। ম্যাচের ঘন্টা খানেক পার হওয়ার পর চাপেই পড়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। ৬১ মিনিটে রুকাভিনার ক্রস প্রথমে ক্লিয়ার করেছিলেন গোলরক্ষক অ্যালিসন, কিন্তু সেই বল গিয়েছিল সোজা মিট্রোভিচের কাছে। সার্বিয়ার স্ট্রাইকার হেডও করেছিলেন, কিন্তু সিলভার গায়ে লেগে সেটা আর গোলে পরিণত হয়নি। এরপর মিট্রোভিচকে উদ্দেশ্য করে আরও কয়েকবার ডান দিক থেকেই ক্রস করেছিলেন রুকাভিনা। কিন্তু সার্বিয়াকে ম্যাচে ফেরাতে পারেননি মিট্রোভিচ।

ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটা তখন দরকারই হয়ে পড়েছিল। ধারার বিপরীতে হলেও সময়মত গোলটা করে সার্বিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিলেন সিলভাই। ৬৮ মিনিটে নেইমারের নেওয়া কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেছিলেন সিলভা। রক্ষণে গুরুত্বপুর্ণ একটা ব্লকের পর সিলভার ওই গোলে স্বস্তি ফেরে সেলেসাওদের। আর সার্বিয়ার প্রতিরোধও ভাঙে তাতে।

জয়ের ব্যবধানটা আরও বাড়তেই পারত ব্রাজিলের। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছে খেলা। ফিলিপে লুইস সুযোগ পেয়েই গোলটা প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন ৭০ মিনিটে। সেটার উৎসও ছিল কর্নার। ডিবক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট স্টইকোভিচ ঠেকিয়েছেন কোনোমতে। শেষদিকে নেইমারও বেশকিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, না হলে গোলটা আজও পেয়ে যেতে পারতেন তিনি।
সেটা নিয়ে অবশ্য খুব বেশি হতাশ হওয়ার কথা নয় ব্রাজিলিয়ানদের। দলের খেলা ভালোকিছুর সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে তাদের। আর দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই অপেক্ষা করছে ব্রাজিলিয়ানদের জন্য। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে এমন একটা দিনই তো চেয়েছিল ব্রাজিল।

শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। গ্রুপপর্বে এই মেক্সিকোর কাছেই হেরেছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। জার্মানরা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় না নিলে শেষ ষোলোয় হয়তো তাদেরই মুখোমুখি হতে হতো তিতের শিষ্যদের। জার্মানরা সেই সুযোগ না দেওয়ায় তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে ব্রাজিল। যদিও এই বিশ্বকাপে এখন আর সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। তারপরও জার্মানির বদলে প্রতিপক্ষ হিসেবে মেক্সিকো পেয়ে ব্রাজিলের অনেক সমর্থক এখনই কোয়ার্টার ফাইনাল দেখছেন। নেইমারদের ফেবারিট হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে তিতে কি সমর্থকদের সঙ্গে সুর মেলালেন?