বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

গোল করলেন করালেন মেসি, আর্জেন্টিনাও জিতেছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২১ রবিবার, ০৮:৪০ এএম

গোল করলেন করালেন মেসি, আর্জেন্টিনাও জিতেছে

ফ্রি-কিক থেকে মেসির দুর্দান্ত গোল। খেলা শেষ হতে তখন অল্প কিছুক্ষণ বাকী। ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে গেছে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল। চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো আলবিসেলেস্তেরা।

বলা চলে দিনটি ছিল আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির। আরও একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিলেন এই ফুটবল যাদুকর। প্রায় একা হাতে জাদুকরী পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে তুললেন সেমিফাইনালে। প্রথমে জোড়া গোল করালেন দুই সতীর্থকে, পরে নিজেই করলেন ফ্রি-কিক থেকে অবিশ্বাস্য এক গোল।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়েকে বিদায় করে সেমির টিকিট পাওয়া কলম্বিয়া।

প্রথম গোলেও ছিল মেসির ভূমিকা। আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির দারুন এক পাসে  রদ্রিগো ডি পলের গোল। ম্যাচের তখন ৪০ মিনিট। এই এক গোলের স্বস্থি নিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।পরে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৮৪ মিনিটের সময় মেসির পাস থেকেই দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। আর শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে দর্শনীয় এক ফ্রি-কিকে ইকুয়েডরের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

বলিভিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ থেকে ৭টি পরিবর্তন নিয়ে এ ম্যাচের একাদশ সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। গোলবারের নিচে ফিরেছেন প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আক্রমণে মেসির দুইপাশে ফেরানো হয়েছে লাউতারো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস গনজালেজকে।

খেলায় আরো আগে এগিয়ে যেতে পারত অর্জেন্টিনা। ২২ মিনিটে প্রতিপক্ষ রক্ষণের ভুলে সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি।ঠিক যেমনটা জার্মানির বিপক্ষে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে মিস করেছিলেন তারকা ফরোয়ার্ড গনজালো হিগুয়াইন। তার শট প্রতিহত হয় বারে। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মনে তখন দুশ্চিন্তা।

তবে কি এবার কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালেই ফিরে আসবে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের দুঃসহ স্মৃতি? উত্তর মিলবে আরও ৪৫ মিনিট পর। তবে আপাতত ভুলের মাশুল দিয়েছেন মেসি, সহায়তা করেছেন সতীর্থের গোলে।

এরপর কিছুক্ষণ আক্রমণে উঠেছিল ইকুয়েডর, সেসব আর্জেন্টিনা রক্ষণ সামলেছে দারুণ দক্ষতায়।

শুরু থেকে বলের দখল ধরে খেলছিল আর্জেন্টিনা। তবু প্রথম আক্রমণটা পেতে পেতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২২ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে লাওতারো মার্টিনেজ একবার সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের, কিন্তু লাইন্সম্যানের অফসাইডের বাঁশি বাজে এরপরই।

১৫ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে বল পেয়েছিলেন হেরমান পেজ্জেলা। কিন্তু তিনিও বলটা মারেন গোলপোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল হতে পারত আরও একটি। মেসির নেয়া ফ্রি-কিক থেকে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ফরোয়ার্ড নিকোলাস গনজালেজ। ফলে এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেছে ১৪ বার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নরা।

বলিভিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ থেকে ৭টি পরিবর্তন নিয়ে এ ম্যাচের একাদশ সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। গোলবারের নিচে ফিরেছেন প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আক্রমণে মেসির দুইপাশে ফেরানো হয়েছে লাউতারো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস গনজালেজকে।

অবশ্য প্রথমার্ধে তেমন কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে। কেননা পুরো ৪৫ মিনিটে একটি শটও লক্ষ্য বরাবর করতে পারেনি ইকুয়েডর। অন্যদিকে ঠিক বিপরীত চিত্র ইকুয়েডের গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেজের। আর্জেন্টিনার অন্তত ৪টি প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দিলেও, ৪০ মিনিটের সময় আর পারেননি আটকে রাখতে।