শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

ছোটরা দেখালো বিশ্বকাপ আমাদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৯:০৮ এএম

ছোটরা দেখালো বিশ্বকাপ আমাদের

জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরকে ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে ধরা হয়। তিনি ‘মহামতি আকবর’ নামেও পরিচিত। রবিবার ভারতের ক্রিকেটারদের শাসন করেছেন বাংলাদেশের আকবর, খেলেছেন ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস। এমন অধিনায়কোচিত ইনিংসের পর তাকে ‘আকবর দ্য গ্রেট’ বলা যেতেই পারে! ভারতকে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৩ উইকেটে হারানোর পর আকবর তো বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু ‘গ্রেট’ নন, ‘দ্য গ্রেটেস্ট’।

ক্ষণে ক্ষণে বাঁক পরিবর্তন। পেন্ডুলামের মত দুলতে দুলতে থাকা ম্যাচটিতে স্নায়ুর চাপ বাড়ছিল মুহূর্তে মুহূর্তে। উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ ওঠার পর যেভাবে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে জয় সম্ভব- এটাই ছিল যেন দুঃস্বপ্ন। অবশেষে চরম অনিশ্চয়তার ম্যাচটিকে সম্ভবে পরিণত করলেন অধিনায়ক আকবর আলির অসাধারণ ব্যাটিং।

সত্যিকার একটি ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলো পচেফস্ট্রমের সেনওয়েজ পার্কের সমর্থকরা। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানোর ম্যাচটিতে সব বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েই চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। ভারতের মত শক্তিশালী দলকে ২৩ বল হাতে রেভে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারেরমত যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

এই প্রথম যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললো বাংলাদেশ এবং প্রথমবারেই বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে নিলো ঘরে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সাতবার তারা খেলেছে ফাইনালে। তেমন একটি দলকে হারিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো বাংলাদেশের যুবারা।

কি অসাধারণ ব্যাটিংটাই না করলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলি! একের পর এক যখন উইকেট পড়ছিল, তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৭৭ বলে ৪৩ রান করলেন আকবর। রাকিবুল হাসান ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্ক স্টেডিয়ামে দারুণ শুরুর পরও রবি বিশনয়ের লেগস্পিনের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভয়ঙ্কর চাপ সামলে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া পারভেজকে নামতে হয়েছে দলের বিপর্যয়ে। তিনিই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন ৪৭ রান করে। রাকিবুলকে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় শিরোপার লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন অধিনায়ক আকবর। আর তাই কোনও বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন।

একটি ট্রফির জন্য হাহাকার ছিল। কবে বাংলাদেশ ট্রফি জিতবে এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ ছিল না। বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। জাতীয় দল বা অনূর্ধ্ব-১৯ দল, কেউ পারেনি শিরোপা-খরা ঘোচাতে। শুধু মেয়েদের হাত ধরে এসেছে এশিয়া কাপ। বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হার যখন দুঃখের সঙ্গী, তখন এলো মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিক-মাশরাফিরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন আকবর-শরিফুলরা। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়লো লাল-সবুজ বিজয় নিশান।

বাংলাদেশের ফাইনাল মানেই আবেগ, হতাশা আর ব্যর্থতার গল্প। তবে দেশ থেকে বহু দূরে পচেফস্ট্রুমে হলো স্বপ্নপূরণ। প্রতিশোধও হলো। ভারতের বিপক্ষে গত দুই বছরে তিন-তিনটি করুণ হারের কথা তো ভুলতে পারবেন না তরুণরা।

২০১৮ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভারতকে ১৭২ রানে আটকে দিলেও থেমে যায় ১৭০ রানে। গত আগস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও হার এড়ানো যায়নি। ২৬১ রান করে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। পরের মাসেই এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করেও জিততে পারেনি। ১০১ রানে অলআউট হয়ে ৫ রানের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আকবর আলীর দলকে।

রবিবার আর হতাশা সঙ্গী হয়নি। শুরুতে তামিম-পারভেজ আর শেষে আকবর-পারভেজ-রাকিবুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশে জয়ের দেখা পায়।

বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই নায়ক হওয়ার মঞ্চ। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ তাকিয়েছিল ফাইনালে। শিরোপা যুদ্ধ কোথাও গিয়ে হয়ে ওঠে মানসিক শক্তির পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেলেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা।