বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

আফ্রিকাকে ধন্যবাদ দিতেই পারে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার, ১১:০৮ পিএম

আফ্রিকাকে ধন্যবাদ দিতেই পারে বাংলাদেশ

জয়ের ভিতটা আসলে গড়ে দিয়েছিলেন বোলারররা। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা বাকি দায়িত্বটা খুব সহজেই শেষ করলেন। চেস্টার লি স্ট্রিটে একতরফা এক লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হেসেখেলেই হারিয়েছে সেমিফাইনালের রেস থেকে ছিটকে পড়া প্রোটিয়ারা। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৯ উইকেট আর ৭৭ বল হাতে রেখে।

এই হারে অবশ্য শ্রীলঙ্কার সেমির স্বপ্নও কঠিন হয়ে গেল। ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখন তারা তালিকার সাত নাম্বারে। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের শেষ দুই ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচ জিতলেও ১০ পয়েন্টের বেশি হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অনেক হিসেব নিকেশের দিকে।

আগের দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মাঝে আনন্দ বইয়ে দিয়েছিল ভারত। শুক্রবার একই রকমভাবে টাইগার ভক্তদের মাঝে ঈদের খুশি বইয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এদিন চেস্টার-লি-স্ট্রিটে শ্রীলঙ্কাকে ৯ উইকেটে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। তবে শ্রীলঙ্কার জেগেছিল আশা। এদিনে হারেও অবশ্য কাগজে কলমে ১৯৯৬ এর চ্যাম্পিয়নদেরও স্বপ্ন টিকে থাকল। তবে সেই স্বপ্নে একরকম খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে তারা।

৭ খেলায় ৬ পয়েন্ট শ্রীলঙ্কার। বাকি দুই খেলায় দুটিতেই জিততে হবে তাদের। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকেও। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তো ধন্যবাদ দিতেই পারে বাংলাদেশের দর্শকেরা।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করে মাত্র ২০৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৩৭.২ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ বাকি। যার প্রথমটা ভারতের বিপক্ষে ২ জুলাই। আফগানিস্তানকে হারানোর পর বেশ লম্বা বিরতিতে টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপে প্রতিদিনই না থেকেও থাকছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কার ম্যাচের দিকেও নজর রাখছিল দর্শকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশের লড়াই আক্ষরিক অর্থে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে।

২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যক্তিগত ১৫ রানেই কুইন্টন ডি কক ফিরলেও হাশিম আমলা ও ফ্যাফ দু প্লেসি মিলে খেলা শেষ করেছেন। আমলা ১০৫ বলে ৫ চারে ৮০ রানে অপরাজিত ছিলেন। দু প্লেসি অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রানে। প্রোটিয়াদের একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন মালিঙ্গা।

ছোট্ট পুঁজির পরও কি এই ম্যাচ জেতার আশা করেছিল লঙ্কানরা? আগের ৭ খেলায় যে দুই জয় লঙ্কানদের, দুটিতেই ছোট পুঁজি নিয়ে জয় তুলে নিয়েছিল দলটি। হারিয়েছিল আফগানিস্তান ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে। তবে এদিন আর তা সম্ভব হয়নি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল বাকি থাকতেই ২০৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম বলেই দিমুথ করুনারত্নেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কাগিসো রাবাদা। এরপর ক্রিস মরিস ও ডুয়াইন প্রিটোরিয়াসের জ্বলে ওঠা দিনে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেনি লঙ্কান ব্যাটাররা।

সর্বোচ্চ ৩০ রান করে এসেছে কুশল পেরেরা ও অভিস্কা ফার্নান্দোর ব্যাট থেকে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২৪ ও কুশল মেন্ডিস ২৩ রান করেন। প্রোটিয়াদের পক্ষে সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন মরিস ও প্রিটোরিয়াস। ২ উইকেট নিয়েছেন রাবাদা।