রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

দাপুটে জয়ের পর টার্গেট ভারত পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০২ এএম

দাপুটে জয়ের পর টার্গেট ভারত পাকিস্তান

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের মনে যেন খানিক ভয়ই ঢুকিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু সেসবকে থোড়াই কেয়ার করে আফগানদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

সাউদাম্পটন বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া টাইটানিক জাহাজ লুকিয়ে থাকা বরফ খণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। সেই সাউদাম্পটনে বাংলাদেশের অবস্থা কি তেমন হবে,আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ছিল এই শঙ্কা। কেননা গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশকে পেলে জ্বলে ওঠার চেষ্টা করেছে আফগানিস্তান। সবশেষ এশিয়া কাপে দুই দলের মুখোমুখিতেও তেমনটা দেখা গেছে।

সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেটের মূল্যায়ন ঠিকঠাক হয়নি বলেই হেরেছিল। ওই ম্যাচের অভিজ্ঞতা সোমবার দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন ছিল। সেই কাজটা ঠিকমতোই করতে পেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আগেই জানা ছিল, রোজ বোলের এই উইকেটে ২৫০ প্লাস রান নিরাপদ। সাকিব-মুশফিকরা এই নিরাপদ রানের দিকেই ছুটেছেন।

আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। যা কি-না ঢের প্রমাণিত হয় আফগানদের জন্য। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।

লক্ষ্য ২৬৩ রানের। এ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে`র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।

পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।

নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।

শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।

হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি দলে টানা কয়েক বছর খেলা শেন ওয়ার্নকে সম্মান জানিয়ে ড্রেসিংরুমের বাঁ পাশের স্ট্যান্ডটিকে ‘শেন ওয়ার্ন স্ট্যান্ড’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। এই স্ট্যান্ডে খেলা দেখা বেশিরভাগ দর্শকই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঠের এক পাশ থেকে লাল-সবুজ রংটাই কেবল চোখে পড়লো। সেখানে বসে খেলা দেখেছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দারুণ উচ্ছ্বসিত এই সংগঠক, ‘বাংলাদেশ তো অনেক আগেই উন্নতি করেছে। এই বিশ্বকাপে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি ম্যাচে আমাদের দুর্ভাগ্য ছিল, নয়তো পয়েন্ট টেবিলে আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম। এই মুহূর্তে আমাদের বাকি ম্যাচগুলো নিয়েই চিন্তা করা উচিত। সেমিফাইনাল খেলব কী, খেলব না, সেটা পরের ব্যাপার। সামনে টার্গেট এখন ভারত-পাকিস্তান।