সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

যেভাবে বেঁচে গেলেন তামিম-মুশফিকরা

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ১০:৫৬ এএম

যেভাবে বেঁচে গেলেন তামিম-মুশফিকরা

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদ আল নূরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্যজন। তবে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। সেখানে জুমার নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামরা। সঙ্গ দিতে সঙ্গে ছিলেন সৌম্য সরকারও।

মসজিদে ঢোকার ঠিক আগমুহূর্তে অজ্ঞাত এক নারী এসে তামিমদের সতর্ক করে জানান যে মসজিদের ভেতরে গোলাগুলি হচ্ছে, এখন ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে না। সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিক জানিয়েছেন এমন তথ্য।

সে মহিলার সতর্কবার্তা শুনে তড়িঘড়ি করে টিম বাসের মধ্যে ঢুকে যায় বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা এবং শুয়ে পড়ে মেঝেতে। খানিক পরেই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপদ হবে না ভেবে তামিম-মিরাজরা বাস থেকে বেরিয়ে হাগলি পার্ক দিয়ে চলে গিয়েছে ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে।

আপাতত সেখানেই `বন্দী` রয়েছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তবে দলের কোচিং স্টাফ এবং দুই তরুণ সদস্য লিটন কুমার দাস ও নাঈম হাসান রয়েছেন টিম হোটেলেই। তাদেরকে সেখানেই থাকতে বলে দিয়েছেন দলের টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছেন দেশে বিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, সবাই নিরাপদে আছেন। কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ২টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আনুমানিক ২০-৩০ জন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা ছিল। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নুরে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টটি। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে হামলার সময় ঘটনাস্থলের খুব কাছে ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম টুইট করেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।’

দলের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ মারি ভিল্লাভারায়েন বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দেখেনি তবে গুলির আওয়াজ শুনে হাগলি পার্ক দিয়ে মাঠে ফিরে গেছে। কোচিং স্টাফের সবাই টিম হোটেলেই ছিলেন। খেলোয়াড়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে গিয়েছেন।’