শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কর্ণফুলী টানেলের জন্য বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকা

সারাবেলা প্রতিবেদক :

প্রকাশিত: ০২ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ০৯:৩৮ এএম

কর্ণফুলী টানেলের জন্য বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকা টানেল প্রকল্প এলাকা (ফাইল ছবি)

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণে বরাদ্দ বেড়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই প্রকল্পে বরাদ্দ মিলেছে ৩ হাজার ১১৯ কোটি টাকা । সেই সঙ্গে বরাদ্দ বেড়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতুতেও। পদ্মাসেতু প্রকল্পে বরাদ্দের প্রস্তাবনা আছে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ১ হাজার ৯৮১ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে নতুন বাজেটে ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বেড়েছে। চীনের সাংহাইয়ের আদলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে কর্ণফুলী টানেল। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

কর্ণফুলী নদীর ওপর বর্তমানে চালু থাকা দু’টি ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের চাপ কমানো হবে কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে।

বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চলছে।  শুরু হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ। তৈরি হয়েছে প্রকল্প কার্যালয়। চলছে ভূমি সমতলের কাজও। চীন থেকে এসেছে নির্মাণসামগ্রীর দুটি বড় জাহাজ। আসবে আরও ছয়টি। চলমান গতিতে কাজ চললে বর্তমান সরকারের আমলেই নির্মাণাধীন টানলের প্রস্তাবিত দুটি টিউবের একটির কাজ শেষ হবে।
জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেলেটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। বিস্তৃত হবে চট্টগ্রাম নগর। আমূল পরিবর্তন আসবে অর্থনৈতিক আঙিনায়। বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা। প্রতিষ্ঠিত হবে বহুমুখী যোগাযোগব্যবস্থা। চাপ কমবে নগরের ওপর। কমবে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, ‘কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নদীর দুই তীরে শিগগিরই শুরু হবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। ইতিমধ্যে চীন থেকে টানেলের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। আরও ছয়টি জাহাজ আসার অপেক্ষায় আছে। ’’ ।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়,  ‘কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে নদীর উত্তর তীর পতেঙ্গা এলাকায় এর মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারা উপজেলা এলাকায়ও নোটিস দেওয়ার ২০ দিন পর উচ্ছেদ করা হবে। উভয় তীরে মোট প্রায় ২৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে।  

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায়। ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (সম্ভাব্য) ব্যয়ের টানেলের অ্যালাইনমেন্ট হবে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটির দিকে। টানেলের প্রবেশপথ হবে নেভি কলেজের কাছে, বহির্গমন পথ হবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের সিইউএফএল সার কারখানা সংলগ্ন ঘাট। মোট ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৭১ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এ প্রকল্পের মধ্যে টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৫ মিটার (উভয় পাশের ৪৭৭ মিটার ওপেন কাট ছাড়া)।

টানেলে থাকবে ৯২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে শহর প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪৬০ মিটারের আর দক্ষিণ প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪ হাজার ৪০৩ দশমিক ৯৭১ মিটারের। দেশের প্রথম এই টানেল হবে ‘ডুয়েল টু লেন’ টাইপের। টানেল নির্মাণ করা হবে ‘শিল্ড ড্রাইভেন মেথড’ পদ্ধতিতে।

জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগ। আধুনিকায়ন হবে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। সংযোগ স্থাপিত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। যুক্ত করা হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে। ত্বরান্বিত হবে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ। বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা। গতি পাবে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা সৃষ্টি হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৩ সালে। চার বছর মেয়াদকালের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)।

২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সিসিসিসির সঙ্গে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়।