শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

করোনাকালে রাউজানে পারভেজের মানবিকতা

প্রতিনিধি, রাউজান (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ০৮:২৪ পিএম

করোনাকালে রাউজানে পারভেজের মানবিকতা

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাউজানের রাজপথের সংগ্রামী যুবক জমিরউদ্দিন পারভেজ। ত্যাগ , সংগ্রাম নির্যাতনের মাঝে আত্মপ্রত্যয়ী তৃণমূল থেকে উঠে আসা বঙ্গবন্ধুর নিখাদ সৈনিক।   স্কুল জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা l বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখন রাউজানের আওয়ামী রাজনীতির প্রথম সারির সৈনিক l মিছিল,মিটিং,সংগ্রাম সভা , প্রতিবাদ, সেবা , উন্নয়ন , সব কর্মসূচিতে দীপ্ত পদচারণা পারভেজের । পশ্চাৎপদ, দারিদ্রপীড়িত পূর্ব রাউজানকে উপজেলার উন্নত , শিক্ষিত , আত্মনির্ভর অর্থনৈতিক জোনে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।  পিছিয়ে থাকা জনপদকে আধুনিক ছোয়ায়  বদলে দেয়ার কারিগর হিসেবে সরকারীভাবে জেলা,বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। 

জমিরউদ্দিন পারভেজ রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন l সংবিধান প্রণেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ  খালেদ তার নানা। নানাকে দেখে বঙ্গবন্ধু , মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল রাজনতিতে উদ্বুদ্ধ হন। স্কুল জীবনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন । ৮৯ সালে রাউজান কলেজে ছাত্রলীগের সাথে পথচলা শুরু করে । ৯১ সালে কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন । পরবর্তীতে রাউজান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।  ২০০৩ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে মননশীল কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলায় শক্ত ভীত রচনা করেন ।  ২০০৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন । বর্তমানে রাউজান উপজেলা আওয়ামীযুবলীগের সভাপতি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন এবং জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে সকল লোভলালসা ও মোহের ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন । বহু অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে আজ এ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন l বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বারবার স্বাধীনতাবিরোধী এনডিপি, বিএনপি, জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ ও নির্যাতিত হন l ১৯৯২ সালে কলেজ সংসদ নির্বাচনে সাকা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে যান । এ সময় দুইবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তাকে দেখতে যান বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা l তিনি স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন।

রাজনীতি করার অপরাধে তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন ভোগ করতে হয় ।  ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে মিছিল থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায় বিএনপি সরকার l ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য রাউজানে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন l করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন রাউজানের এই নির্ভিক যোদ্ধা ।  লকডাউনে কর্মহীন ঘরবন্দী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে গেছেন ।  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আশার আলোর সদস্যদের নিয়ে এখনো ক্লান্তিহীনভাবে মাঠে আছেন । রাতদিন দুর্গত মানুষের পাশে থাকা পারভেজ এখনো পাড়া-মহল্লায় গিয়ে দুস্থদের ত্রাণ দিচ্ছেন ।  খবর পাওয়া মাত্র সংক্রমিত মানুষের বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স সহ গিয়ে রোগীকে পৌঁছে দিচ্ছেন আইসোলেশন সেন্টারে।  উপজেলায় সাংসদ পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী সরকারি একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালকে সংস্কার করে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার করেছেন ।  এটি দেখভাল করেন করোনা যোদ্ধা পারভেজ ।  এখানে চিকিৎসা নিয়ে এখন পর্যন্ত শতাধিক নারীপুরুষ বাড়ি ফিরেছেন ।
পারভেজের তত্ত্বাবধানে থাকা স্বেচ্ছাসেবী দল দাফন সৎকারে ছুটে যাচ্ছে । উপজেলায় এ পর্যন্ত মারা যাওয়া অর্ধশতাধিক নারীপুরুষের দাফন সৎকার করেছেন । গত রমজান মাসে ফারাজ করিম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় করোনা যোদ্ধাদের জন্য রান্না করা সেহরি খাবার চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালগুলোতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা পারভেজ ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেন্ট্রাল বয়েজ অফ রাউজান ও আশার আলোর স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে রাউজানের কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন । রোগাক্রান্ত মানুষকে বিনামূল্যে দিচ্ছেন ঔষধ ও পুষ্টিকর খাবার । ফজলে করিম ফাউন্ডেশনের ব্যানারে গত দুই মাসে ১৬জন প্রতিবন্ধীকে সেমিপাকা ঘর তৈরী করে দিয়েছেন , তিনজনকে খুলে দিয়েছেন তিনটি দোকান ।

সমাজসেবায় নিয়োজিত পারভেজ বলেন,বৈশ্বিক মহামারীর এ দুর্যোগেও মানুষের পাশে আছি । এ কাজে আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবিএম ফজলে করিম এমপি । নিজের জীবন ও কর্মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন ,ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে কয়েকবার গুলিবিদ্ধ হয়েছি। একাধিকবার গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে জীবনমরণ যুদ্ধ করেছি। প্রতিবারই সুস্থ হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছি ।

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সহায়তায় জমিরউদ্দিন পারভেজ তার এলাকায় পিঙ্ক সিটি নির্মাণ,রাউজান মহিলা মাদ্রাসার উন্নয়ন ও মহিলা মাদ্রাসাকে এমপিওকরণ, রাউজানের ঢালারমুখ এলাকায় মাস্টারদা সূর্যসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ,রাউজান রাবার বাগান এলাকায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ,চান্দ মিয়া চৌধুরী সড়ক,আইলিখিল ওয়াহেদেরখিল সড়ক ,তালুকদারবাড়ি সড়ক,নজির আহাম্মদ কট্রাক্টর বাড়ি সড়কের উন্নয়ন ,নুরুল হক চৌধুরী কমিউনিটি সেন্টার ও রাউজান খালের উপর ব্রিজ নির্মাণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।