শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাখাইন আমরা চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:৩২ এএম

রাখাইন আমরা চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা আর কারও কাছে পানি চাইব না। দেশের সমস্ত নদী খনন করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হবে। এ কারণে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে আর পানির অভাব হবে না। তিস্তার পানির দরকার হবে না।’

সোমবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইলিশ মাছ ও তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন।

প্রধামন্ত্রীর চীন সফর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাখাইনকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার নিয়েই খুশি। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। আমরা আমাদেরটা নিয়ে থাকবো। অন্যের জমি নিয়ে আসা বা অন্যের প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত করা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। এটা আমরা কখনোই নেব না। কারণ প্রত্যেক দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রাখাইন মিয়ানমারের অংশ। আমরা এটা চাই না। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইনকে জুড়ে দিতে চায় কেন?

‘কোনো বড় দেশের কংগ্রেসম্যান হয়তো ভুলে গেছেন তাদের অতীত। তাদের দেশে গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকতো। রাখাইনে সারাক্ষণ গোলযোগ লেগেই থাকে। আমরা গোলযোগপূর্ণ অংশ কেন নেবো? এটা কোনোদিনই করবো না। এটা আমরা চাই না।’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে যখন আলোচনা শুরু হয় তখনই আমি পিএসসির চেয়ারম্যানকে ডেকে এ বিষয়ে আলোচনা করি। কিন্তু এটা সম্ভব না।

গত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় পাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটু দেরি হলেও ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮-তে ইন্টারমিডিয়েট, চার বছর অনার্স, এক বছর মাস্টার্স। সে হিসেবে ২৩-২৪ বছরে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারে।

তিনি বলেন, কাজ করার জন্য একটা সময় থাকে, বয়স থাকে। একটা সময় পর তা আর হয় না। তাই শুধু আন্দোলন করার জন্যই যদি দাবি তোলা হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। এক্ষেত্রে তারা হয়তো কোনো জায়গা থেকে সুবিধা-অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন কিনা- সেটিও বিষয়।

‘এ নিয়ে পার্লামেন্টেও একটা প্রস্তাব হয়েছে। তারা আন্দোলন করেই যাবে। আন্দোলন করুক। আন্দোলন করলে অন্তত রাজনীতিটা হয়তো শিখবে।’

এসময় পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

ধর্ষণ বন্ধে পুরুষদেরও সোচ্চার হতে বলবো

দেশজুড়ে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সব সময় সব দেশেই আছে। তবে হ্যাঁ, এখন মেয়েরা সাহস করে নির্যাতনের কথাটা বলে। এর বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে তাদের (অভিযুক্ত) ধরা হচ্ছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

‘এ ধরনের জঘন্য কাজ যারা করছে, তারা মানুষ না। এক্ষেত্রে পুরুষ সমাজকেও বলবো, তাদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত।’

বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়বে না বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়বে না। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করছি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও নিজস্ব অর্থায়নে নেওয়া হচ্ছে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বাড়লে আমেরিকার সঙ্গে কোনো সমস্যা হবে কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। আমরা এ নীতি মেনে চলেছি।

‘কার সঙ্গে কার দ্বন্দ্ব, তা দেখা আমাদের দরকার নেই। আমার কাজ করার ধরনটা আলাদা। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে চলতে চাই। দেশকে এগিয়ে নিতে কোথা থেকে সাহায্য আসবে, সুবিধা কোথায় পাবো, সেটাই মূল বিষয়।’

আমাদের ছেলেরা খেলেছে, সেটাই কম কী?

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ খেলায় যথেষ্ট উন্নতি করেছে। বিশ্বের নামিদামি টিমের সঙ্গে খেলে হারিয়ে দিচ্ছে, কম কথা না। তাদের পারফরমেন্স ভালো ছিল।

‘সাকিব একটা স্থান করে নিয়েছে, মোস্তাফিজ নিয়েছে। আমি দোষ দেবো না, আসলে খেলায় ভাগ্যও লাগে। তবে সাহস নিয়ে মোকাবিলা করার প্রশংসা করি তাদের।’

চীন সফরেও খেলা দেখার কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বিশ্বকাপে চারটা দেশ সেমিফাইনালে উঠেছে। তাই বলে কী বাকিরা খারাপ খেলেছে? আমরা নিজেরাই নিজেদের ছোট করি কেন?

‘জাঁদরেল দলের সঙ্গে আমাদের ছেলেরা খেলেছে, সেটা কম কী? নিজেদের দোষ দেওয়ার কিছু নেই। আমার ছেলেরা ভালো করেছে। ’