মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

হালদায় এবার ডিম কম

প্রতিনিধি, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯ সোমবার, ০৪:২৩ এএম

হালদায় এবার ডিম কম

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। ৮ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন সংগ্রহকারীরা। তবে এই পরিমাণে আগের বছরের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন সংগ্রহকারীরা।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, হালদা নদীতে মা মাছের ডিম দেওয়ার খবর পান গতকাল শনিবার রাত পৌনে নয়টার সময়। ঘোনা এলাকায় রোসাংগির নামের এক ডিম সংগ্রহকারী তাঁকে মুঠোফোনে ডিম পাওয়ার সংবাদটি প্রথম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নদীতে প্রতিটি নৌকায় এক থেকে দুই বালতি করে ডিম পেয়েছেন সংগ্রহকারীরা।

সরেজমিনে গতকাল রাত দশটা থেকে দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত হালদা নদীর রামদাশ মুন্সিরহাট, নাপিতের ঘাট ও খলিফার ঘোনা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত নৌকা নিয়ে মানুষ নদীতে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছেন। রাত যত বাড়ে, তত মানুষের হাঁকডাক বাড়তে থাকে নদীতে।

হাটহাজারী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা ৮ হাজার কেজি ডিম সরকারি ৪টি হ্যাচারি ও সংগ্রহকারীদের ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ১৭৯টি কুয়াতে রাখা হবে। নিয়মানুযায়ী সেখানে প্রতি ৪০ কেজি ডিম থেকে ১ কেজি রেণু উৎপাদন করা হবে। সে হিসেবে ৮ হাজার কেজি ডিম থেকে প্রায় ২’শ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

প্রতি কেজি রেণু থেকে কমপক্ষে ৪ লাখ মাছের পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়ে হাটহাজারী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সেই হিসেবে ২’শ কেজি রেণু থেকে এবার ৮০ কোটি কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন হবে।

প্রতি কেজি রেণু ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া  বলেন, হালদা নদীতে কার্প–জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় মা মাছ কম ডিম ছেড়েছে। এবার ২৩০টি নৌকায় প্রায় ৫০০ মানুষ নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন।