শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে কারা পাচ্ছেন আওয়ামীলীগের টিকেট

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:১৫ এএম

চট্টগ্রামে কারা পাচ্ছেন আওয়ামীলীগের টিকেট

কারা পাচ্ছেন নৌকার টিকেট । চূড়ান্ত তালিকা পেতে সময় লাগবে আরো দু’একদিন। আওয়ামীলীগের পার্লামেন্টরি বোর্ড এর মধ্যে ২৩০জনের খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। আবার এই তালিকা থেকে শেষ মুহুর্তে কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন এমন কথাও শুনা যাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে চমক থাকতে পারে দুইটি। সীতাকুন্ড আসনে আওয়ামীলীগের টিকিট পেতে পারেন সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলম। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন মনজুর আলমের ভাতিজা দিদারুল আলম। মনজুর অবশ্য পাহাড়তলি-হালিশহর আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

এছাড়া পরিবর্তন হতে পারে বাঁশখালী আসনের প্রার্থী। শেষ মুহুর্তে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে।

প্রাথমিকভাবে খসড়া তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, চট্টগ্রাম-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৬ আসনে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ডা. আফছারুল আমীন. চট্টগ্রাম-১১ আসনে এম আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ আসনে সামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী।

এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনটি জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯  আসনটি একই দলের জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত।

জাপার একটি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন দাবি করে এলেও সর্বশেষ ৫০টি আসনের জন্য গো ধরেছেন দলের প্রধান এরশাদ। আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করার জন্য ৫০ আসনে প্রার্থীর একটি তালিকাও এরশাদ নিজেই তৈরি করছেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হয়ে নির্বাচন করে জাপা ২৯টি আসন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৪৯টি আসনে লড়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আসন পায় ৩৪টি।

জাপার একটি সূত্র মতে, ১০০ আসনের দাবি তুললেও শেষ পর্যন্ত দলটিকে ৫০ আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এরই মধ্যে এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সর্বশেষ ৪৫ আসনে জাপাকে ছাড়া দিতে রাজি হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি এখন অতিরিক্ত পাঁচটি আসন নিয়ে দর-কষাকষি করছে।

শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ৫০ আসন পেলে সেখানে থাকতে পারে শরিক দলের ৪ জনের নাম। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক খেলাফত মজলিশের তিন ও ইসলামী ফ্রন্টের একজন প্রার্থীর নাম রয়েছে তাদের প্রাথমিক তালিকায়। খেলাফত মজলিশের নতুন প্রার্থী মুফতি শরাফত হোসেন ফরিদপুর-১, মাওলানা জালালউদ্দিন শরীয়তপুর-১ ও মুফতি হাবিবুর রহমানকে ময়মনসিংহ-৫ আসনের প্রার্থী দেখানো হয়েছে। আসন উল্লেখ করা না হলেও ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা এম এ মতিনের নাম রাখা হয়েছে।
 
এদিকে বাঁশখালী আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসনে জাপার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন’ দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধানেত্ম তিনি পরে সরে দাঁড়ান। এবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কাছে বাঁশখালী আসনটির ব্যাপারে জোরালো দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, এ আসনে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী বাঁশখালীর বর্তমান সংসদ সদস্য মোসত্মাফিজুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যড়্গ মজিবুর রহমানের বিরোধের কারণে আসনটি এবার জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্বশীল সূত্রটি জানায়, আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে বাঁশখালীর বর্তমান সংসদ সদস্য মোসত্মাফিজুর রহমানকে ‘রেড সিগন্যাল’ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন। কিন্তু এই আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি এক রকম নিশ্চিত। তবে সীতাকুন্ডে বিএনপির শক্ত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর কথা বিবেচনা করে দিদারম্নল আলমের চেয়ে মনজুর আলমকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মনজুর আলম আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বার্তা পাননি বলে জানান। মনজুর আলমে ভাতিজা ও বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন , ‘দল যদি আমার চাচাকে (মনজুর আলম) সীতাকুন্ড আসনে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন তাতে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি তো আমার ফ্যামিলির মেম্বার।’

এদিকে চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে মহাজোটের শরিক জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল ও ফটিকছড়ি থেকে  তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবারও মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনের মহাজোট প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মনোনয়নের বার্তা পেয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। বাকি ১১টি আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যরাও দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আনোয়ারা-কর্ণফুলীর সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব চলে গেছেন।

২৬ নভেম্বরের মধ্যে মহাজোটের শরিক দলগুলোর সাথে ভাগ ভাটোয়ারা করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর চূড়ানত্ম তালিকা প্রকাশ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।