রোববার, ১৬ মে ২০২১

জয়ের পথে আওয়ামীলীগের রেজাউল

হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৭:৪৯ পিএম

জয়ের পথে আওয়ামীলীগের রেজাউল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৭৩৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৪ কেন্দ্রের ফলাফল এসেছে নিয়ন্ত্রন কক্ষে। এসব কেন্দ্রের ফলাফলে ৬৭ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। নিকটততম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ২৫০ ভোট।

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়ামে ভোটের ফল ঘোষণা করেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।

নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীসহ মেয়র পদে মোট ৭জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। প্রথমবারের মতো পুরো নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএমের মাধ্যমে।এছাড়া দলীয় প্রতীকে এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন।  বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে একজনের প্রাণহানি আর দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট নিয়ে ছিল উত্তেজনা।

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩জন এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩জন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমকে হারিয়েছিলেন। আ জ ম নাছির পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট। সাবেক মেয়র মনজুর পান ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭ ভোট।

বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী  রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য বিদায়ী মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ নেতারা।

ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি অভিযোগের পার্টি। সাংগঠনিক অবস্থার কারণে তাদের লোক নেই। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এজেন্ট দিতে পারেনি।”

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম কোনো ভোটে লড়ছেন।নগরীর পূর্ব ষোলশহরের বহদ্দার বাড়ির সন্তান রেজাউল নগর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হন তিনি।রেজাউল করিম চৌধুরীরেজাউল করিম চৌধুরীএরপর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর চরম দুঃসময়ে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন রেজাউল। এরপর হন যুবলীগের সদস্য। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন রেজাউল। এরপর হন সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমান কমিটিতে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদকের পদে আছেন। চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব ও কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল।