সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

জোবায়েরের ভরসা সংগঠন ও উন্নয়ন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৯:২৮ এএম

জোবায়েরের ভরসা সংগঠন ও উন্নয়ন

সাতকানিয়া মানেই একসময় ছিল জামায়াতের দূর্গ; ভোটে-মাঠে তান্ডব আর সন্ত্রাসের চিত্র। সেই সাতকানিয়ায় দিন বদলেছে। যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে আওয়ামীলীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। জামায়াতি তান্ডবের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে সাতকানিয়ায় আওয়ামীলীগকে সুসংহত সাংগঠনিক ভিতে দাঁড় করানোর পেছনে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের একজন সাতকানিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের। তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রাম সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও।

চট্টগ্রামের আলোচিত এই পৌরসভার তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মেয়র পদে কাকে দেখা যাবে এই প্রশ্ন এখন সবখানেই। ফের জোবায়েরের উপর ভরসা রাখবে আওয়ামী লীগ নাকি নতুন কেউ আসবে-এই জনপদে এটিই এখন বড় প্রশ্ন।  বর্তমান মেয়র জোবায়ের মনে করছেন পৌর এলাকাসহ পুরো সাতকানিয়ায় সংগঠনের পেছনে তিনি যেভাবে সময় দিয়েছেন সেটিই তাকে এগিয়ে রাখবে। আর পাঁচ বছর মেয়াদকালে এলাকার সুষম উন্নয়নই তার বড় শক্তি।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, সাতকানিয়া পৌর মেয়র পদে এবার যিনিই মনোনয়ন পান না কেন, পাঁচ বছরে জোবায়েরের করা প্রায় ৩০ কোটি টাকার  উন্নয়ন কাজের তালিকা নিয়েই নামতে হবে ভোটের মাঠে। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় তার মেয়াদকালে পৌরসভার অধীনে বাস্তবায়ন করেছেন প্রায় দেড়শ‘ প্রকল্প। এর বাইরে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে ব্যয়বহুল পানি সরবরাহ প্রকল্প, পরিবেশ মন্ত্রণালয় হতে সোলার বাতি স্থাপন এর জন্য ৭ কোটি ৫৩লক্ষ টাকার অনুদান, মানব বর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকল্পে তালিকাভুক্তির মতোই বড় ধরনের কাজ হয়েছে তার হাত ধরে।এত বিশাল উন্নয়ন সাতকানিয়া পৌরসভায় অতীতে কখনো হয়নি বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমান মেয়র জোবায়েরের পাশাপাশি নৌকার টিকেট চান  দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ শফিকুল ইসলামের। দু‘জনই নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

চতুর্থ ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি।

এদিকে প্রার্থী নিয়ে এখন পর্যন্ত  চুপচাপ জামায়াত ইসলাম। বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবাব মিয়া ও বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি রফিকুল আলম।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামীলীগের টিকেটে গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বর্তমান মেয়র জোবায়ের নিয়মিতভাবে এলাকায় সময় দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়ক থেকে সিকদারপাড়া রাস্তার আরসিসি ঢালাই, চরকা সমিতি সড়ক উন্নয়ন, সাতকানিয়া টাউন প্রইমারি স্কুলের সামনে পুকুর ঘাট, সাতকানিয়া কোর্ট রোড সড়কের আরসিসি ঢালাই, ডলু ব্রিজ-খন্দকার পাড়া সড়কের আরসিসি ঢালাই, ছমদরপাড়া সড়কের উন্নয়ন,ছিটুয়াপাড়া জীবন মার্কেট সড়কের উন্নয়ন, সাতকানিয়া কলেজ রোড উন্নয়ন, সাতকানিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের উন্নয়ন,পোস্ট অফিস-ডলু ব্রিজ সড়কের উন্নয়ন, ডেপুটি হাট রোড উন্নয়ন,দুদু ফকির সড়ক উন্নয়নের মত বড় প্রতকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে তার হাত ধরে।

এছাড়া পৌরভবনের আধুনিকায়ন, কম্পিউটারাইজড নাগরিক সেবা, পৌরসদরের ৪ কিলোমিটার সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ফোরকানিয়া চালু, স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ২নং ওয়ার্ডের প্রায় ৪৪শতক জমিতে  কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ, ৬ কিলোমিটার সড়কে নতুন সড়কবাতি স্থাপনসহ বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়।

এদিকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় সিনিয়র নেতাদের প্রায় সবার সাথে মোহাম্মদ জোবায়েরের সুসম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রচার রয়েছে। সবমিলিয়ে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া জোবায়ের জন্য যতটা সহজ তা অন্যদের জন্য হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটারেরা।  

মনোনয়ন ও ভোটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশা-ভরসার শেষ ঠিকানা। আমরা তাঁর একজন নগণ্য প্রতিনিধি। তাছাড়া মনোনয়ন বোর্ড ও সিনিয়র নেতারা আছেন। সাতকানিয়ায় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক শক্তির বিষয়ে উনারা অবগত আছেন। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তাছাড়া আমি ৫ বছর ধরে এলাকার মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সাথে ছিলাম। মনোনয়ন ও নির্বাচিত হলে অতীতের মতোই ধারাবাহিক উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়াই হবে আমার কাজ।

গত ৫ বছরে সাতকানিয়া পৌরসভার সরু রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে, ভাঙা রাস্তা আর সি সি হয়েছে, অন্ধকারে ঝলমলে বাতি লেগেছে-জনগণ এসব কাজের প্রতিদান দেবেন বলে মনে করেন তারুণ্যদীপ্ত এই নেতা।

পৌরসভা সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে এখানকার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে পৌর কর্তপক্ষের মাধ্যমে কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। ১ নং ওয়ার্ডে ১০ প্রকল্পে প্রায় এক কোটি টাকা, ২ নং ওয়ার্ডে ১৫ প্রকল্পে কোটি টাকা, ৩ নং ওয়ার্ডে ১৮ প্রকল্পে সোয়া দুই কোটি টাকা,  ৪ নং ওয়ার্ডে ১১ প্রকল্পে সোয়া এক কোটি টাকা, ৫ নং ওয়ার্ডে ১১ প্রকল্পে সোয়া এক কোটি টাকা,  ৬নং ওয়ার্ডে ২৬ প্রকল্পে আড়াই কোটি টাকা, ৭নং ওয়ার্ডে ১৭ প্রকল্পে পৌনে ৩ কোটি টাকা,  ৮নং ওয়ার্ডে ১২ প্রকল্পে দেড় কোটি টাকা ও  ৯নং ওয়ার্ডে ১৪ প্রকল্পে দেড় কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

জানা যায়, আগামী বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সাতকানিয়া পৌর নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি, বাছাই হবে ১৯ জানুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ জানুয়ারি। ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।