মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০

জামায়াত ছেড়ে এবি পার্টি

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০২ মে ২০২০ শনিবার, ১২:২৩ এএম

জামায়াত ছেড়ে এবি পার্টি

এক বছর আগে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের পর প্রায় হারিয়ে যাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ‘সংস্কারপন্থিরা’ এবার নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়েছে। দলের নাম দেওযাহয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

শনিবার নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত মজিবুর রহমান মঞ্জু।

নতুন এই দলে সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মনজুকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জনআকাঙ্ক্ষার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন, একবছর আগে আমরা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। একবছর কাজ করে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলের ঘোষণা হবে শনিবার (২ মে)। তিনি জানান, প্রথমে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হবে। এরপর মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় কমিটি গঠন করা হবে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জু একসময় চট্টগ্রাম কলেজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরেরও সভাপতি ছিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যও ছিলেন তিনি।

তিনি ২০১৮ সালে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।  তারপর তাদের আর কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি।

এক বছর পর করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে এক ভিডিও সংবাদ ব্রিফিংয়ে মঞ্জু বলেন, “আগামী ২ মে আমাদের নতুন দলের নাম, কর্মসূচি ও আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা কী করতে চাই তা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরব।”

ভিডিও সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াত থেকে পদত্যাগকারী সাবেক সচিব এএফএম সোলাইমান চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল ওহাব মিনার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো ব্যারিস্টার তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

একটি সংবাদ মাধ্যমকে মঞ্জু জানিয়েছিলেন, লন্ডনে অবস্থানরত জামায়াতের পদত্যাগী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে।

নতুন দলটি ধর্মভিত্তিক হবে না জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আমাদের দল ধর্মভিত্তিক দল হবে না। আমাদের স্বাধীনতার মূল নীতির আলোকে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণই এই দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমরা এটাকে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের আলোকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বিনির্মাণের লড়াই।”

শুরুতে ১১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে নতুন দলের কর্মকাণ্ড শুরু হবে বলে জানান তিনি।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, এম কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলীর মতো শীর্ষনেতারা দণ্ডিত হলে জামায়াত ব্যাপক চাপে পড়ে। এর মধ্যে একটি অংশ দলে সংস্কারের দাবি তোলে।

২০১৮ সালে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাজ্জাক একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা দিলে সংস্কারপন্থিরা আরও জোর পায়। তখনই রাজ্জাকের মতো মত প্রকাশের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হন মঞ্জু; তারপর তিনি বিকল্প দল গঠনের উদ্যোগ নেন।