রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

মেয়র নাছিরের প্রশংসার পর পদ গেল মনির

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার, ১০:২৯ পিএম

মেয়র নাছিরের প্রশংসার পর পদ গেল মনির

চট্টগ্রামের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের প্রশংসা করে পদ হারালেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর।

শুক্রবার লালখান বাজার এলাকায় দূর্গাপূজার এক অনুষ্ঠানে আ জ ম নাছিরকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেয়র হিসাবে আখ্যায়িত করেন বিএনপির সহযোগি সংগঠনের এই নেত্রী। মেয়র নাছির কোন কারণে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেলেও তিনিও আর কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামীলীগ দলীয় স্থানীয় কাউন্সিলর দিদারুল আলম মাসুমেরও প্রশংসা করেন।  

এর প্রেক্ষিতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনিকে । শনিবার মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সই করা এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে মনোয়ারা বেগম মনিকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এখন থেকে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফাতেমা বাদশা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেব দায়িত্ব পালন করবেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

কী বলেছিলেন মনোয়ারা বেগম মনি :

অনুষ্ঠান মনোয়ারা বেগম মনি বলেছিলেন, ‘আজকে শারদীয় দুর্গা উৎসবের প্রথম দিন। সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আ জ ম নাছির উদ্দীনের পক্ষ থেকে। আমাদের মাঝে আছেন মানবতার সেবক, জনতার মাটি ও মানুষের নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন। দলমত, ধর্ম-বর্ণ, গোত্র, অঞ্চল, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আ জ ম নাছির উদ্দীন পুরো চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করে যাচ্ছেন।’

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আ জ ম নাছির উদ্দীন সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। উনাকে আমি যখন ডেকেছি, যেকোনো প্রোগ্রামে, নাক ফোঁড়ানে, একটু অসুস্থ রোগীকে দেখা…সবকিছুতেই উনি হজির হন। সকাল ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত উনি জনগণের সাথে মিশে যান। উনি একঘণ্টাও রেস্ট নেন না। আমি নিজে দেখেছি। আমি অবাক হয়ে যাই, একজন মানুষ কিভাবে জনগণের জন্য এভাবে নিজেকে নিবেদিত করতে পারেন!’

মনি আরো বলেন, ‘আ জ ম নাছির একটা দল করেন, আমি আরেকটা দল করি। সেটাতে আমি বিশ্বাসী না। আমি বুঝি, দলমত ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবা। মানবতার জন্য কাজ করাই হচ্ছে রাজনীতি, সমাজনীতি। কে কোন দল করে সেটা বিবেচনা করে আ জ ম নাছির কাজ করেন না। উনি একটা জায়গায় আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। কিন্তু উনি চট্টগ্রামের অভিভাবক। আগামী দিনেও আমরা আ জ ম নাছিরকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই ইনশাল্লাহ। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আ জ ম নাছির সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মেয়র হবেন; আবার এখানে আসবেন। আমরা আবার ফুল দিয়ে বরণ করে নিব তাকে।’

তিনি বলেন, ‘উনি প্রতিটা ওয়ার্ডে কাজ করেছেন। কিন্তু সেটা বলার লোক খুব কম। উনার দলে উনার পিছনে ষড়যন্ত্র করছে। অন্য দল না। সাধারণ মানুষ আ জ ম নাছিরকে ভালোবাসে।’

মনি আরো বলেন, ‘যখন কেউ আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে কিছু বলে, প্রতিবাদ করি। আমি নিজে স্বাক্ষী, আ জ ম নাছির কখনো কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। যে যখন গিয়েছে নাছির ভাই তাকে সময় দিয়েছেন। আমি তিনটা মেয়র পেয়েছি। মহিউদ্দীন চৌধুরী, মনজুর আলম (বিএনপি সমর্থিত) ও আ জ ম নাছিরকে পেয়েছি। আমার দৃষ্টিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আপনারা যদি আ জ ম নাছিরকে আবার নির্বাচিত করতে না পারেন সেটা হবে আপনাদের জন্য ব্যর্থতা, চরম ব্যর্থতা। নাছির ভাই নমিনেশন না পেলে আমি নির্বাচন করব না। নাছির ভাই ছাড়া অন্য কোনো মেয়রের অধীনে কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছে নাই। অনেক করেছি, আর নির্বাচন করব কিনা সেটারও ঠিক নাই।’ মনি আরো বলেন, ‘আ জ ম নাছির একটি বিপ্লবের নাম।’

বক্তব্যের শেষ দিকে এসে ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমেরও প্রশংসা করেন নগর মহিলা দলের সভানেত্রেী। তিনি বলেন, ‘মাসুম জনতার জন্য কাজ করে যাবেন। আগামীতে আমরা মাসুমকেও দেখব।’

সমালোচনার জবাবে মনি যা বললেন :

আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, কমিশনার হিসেবে অনেক সময় বলতে হয় আমাদেরকে। আমাদের তো এলাকায় উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কাউন্সিলর হিসেবে জনগণের সেবা করতে না পারলে হবে?

আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, আমার প্রতি যদি দলের লোকের বিশ্বাসই না থাকে তাহলে দল কীভাবে চালাব? দলের জন্য আমার ত্যাগ কোনো অংশে কম না। আ জ ম নাছিরকে হাইলাইট করার অনেক কারণ আছে। এখন কেউ না বুঝে বললে তো করার কিছু নাই। সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। শরীরের অঙ্গ পুড়ে গেছে দলের জন্য। এখন আমাদের নেতারা যদি এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন তাহলে কিভাবে দল চালাব?

মনি বলেন, যখন রাস্তায় দলের জন্য স্লোগান দিই তখন পুলিশ কিন্তু আমাকে বাধা দেয়। কিছুদিন আগেও পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। কই আমাদের নেতারা তো এসব নিয়ে প্রতিবাদ করেননি। আমাকে উৎসাহিত করে কিছু করেননি।