শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

হঠাৎ সক্রিয় অলি আহমদ

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:৩১ এএম

হঠাৎ সক্রিয় অলি আহমদ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু নিয়ে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনও ডেকেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সময়কার এই সদস্য।

তবে কর্ণেল অলির এই উদ্যেগের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না বিএনপি নেতারা। এমনকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন যে ২০ দলীয় জোটে কর্ণেল অলির দল আছে, সেই জোটও ওয়াকিফহাল নয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির বাইরে অলি আহমেদের উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক?

এলডিপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে ২০ দলীয় জোটের গুরুত্ব কমে। নিষ্ক্রিয় রাখা হয় জামায়াতে ইসলামীসহ পুরো জোটকেই। বিষয়টি নিয়ে অলি আহমেদ নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং এই তৎপরতায় বিএনপি নেতারা নেতৃত্ব দিতেও ব্যর্থ। এ কারণেই অলি আহমেদ রাজপথে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অলি আহমেদের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার দাবি, এলডিপি সভাপতি সক্রিয় হওয়ার পেছনে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে চায়না ইস্যুতে ক্ষমতাসীন সরকারকে চাপে রাখার কৌশল থাকতে পারে, এমন দাবিও করছেন এলডিপির কোনও কোনও নেতা। আর এক্ষেত্রে ইস্যু হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে সামনে আনা হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলে মনে করেন তারা।

এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ অবশ্য বলছেন, তার কর্মসূচি বা সংবাদ সম্মেলনের পেছনে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তই কারণ। বুধবার (২৬ জুন) রাতে তিনি বলেন, ‘আমি তো সংবাদ সম্মেলনে খুল্লাম খুল্লাই বলবো। তবে এটুকু বলতে পারি, গত ১৩ মে ২০ দলীয় জোটের মিটিং হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে বলা হয়েছিল, আপনারা মেহেরবানি করে নিজ উদ্যোগে, নিজ দল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। সুতরাং ওটাই করতেছি।’

২০ দলীয় জোটকে রেখে নতুন মঞ্চ তৈরি করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো কালকে (বৃহস্পতিবার) বলা যাবে। আমার কাছে তো এমন কোনও খবর আপাতত নেই।’

তার এই নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘আমরা তো অফিসিয়ালি অলি আহমেদের উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু জানি না। একটি দলের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। তিনি তার মতো করে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। এটা তার ও দলের স্বাধীনতা। সেখানে আমাদের তরফ থেকে কিছুই তো করার নেই। তবে অবশ্যই ২০ দলের ব্যাপারে আমরা সে ধরনের কোনও খবর পাইনি বা সে ধরনের আলামত পাইনি, তারা ২০ দল ভেঙে যাচ্ছেন নাকি ২০ দলে থাকছেন না। বিষয়টিকে আমরা সেভাবে দেখছি না।’

জানা যায়, সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন  বুধবার বিকালে ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি দলের প্রধানকে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে না যেতে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, অলি আহমেদের দাওয়াত পেলেও তারা সেখানে যাচ্ছেন না।