বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

কালুরঘাট সেতুর দাবিতে যা বললেন সাংসদ বাদল

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার, ০৮:০৮ এএম

কালুরঘাট সেতুর দাবিতে যা বললেন সাংসদ বাদল

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামে কালুরঘাট ব্রিজের সৎগতি (কাজের সুরাহা) না হলে সংসদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল। তিনি বলেন, আমি শুধু বকাউল্লা, আর গরীবুল্লা, মাঝে মাঝে ফ্যাঁ ফ্যাঁ করি। আর সুপারিশ মোতাবেক বাহ, বেশ, বেশ করি।

মঙ্গলবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

মঈন উদ্দীন খান বাদল নিজের শিক্ষকের একটা গল্প শুনিয়ে সংসদকে বলেন, আমার শিক্ষক আমাকে বলছেন, তোমার কালুরঘাট সেতুর কি হইল। আমি বলছি চেষ্টা করছি। কয়, মিয়া তুমি আর কী চেষ্টা করবা। তোমার অবস্থা হইল তুমি হইলা বকা উল্লাহ, তুমি বইকা যাবা। শোনা উল্লারা শুইনা যাবে, করিমুল্লারা কইরা যাবে, খানে উল্লারা খাইয়া যাবে। আর গরীবুল্লারা চর্তুদিকে ফ্যাঁ ফ্যাঁ কইরা তাকাবে। রাজা রানীর কথা আসলে বেশ বেশ করবে। এখন তুমি কোনটা? বলছি স্যার প্রথমটা তো হইছি। বকা উল্লা বলতে পারেন। বকা ছাড়া কাজ নাই। গত ১০ বছরের দেখেছি বকা ছাড়া লাভ নাই। আরেকটা হয়েছি গরীবুল্লাও বটে। এদিকে সেদিক ফ্যাঁ ফ্যাঁ করি। মাঝে মাঝে সুপারিশ মোতাবেক বাহ বেশ বেশ করি।

জাসদের এই নেতা বলেন, এই প্রকল্পে চারবার ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ওদেরটা না মেনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানও আবার এটা করেছে। এই প্রজেক্টের নির্মাণ খরচ হলো ১ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৩৭৯ কোটি। বাকি পুরো টাকা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র ০.০১% সুদে ৪০ বছরে এই অর্থ পেমেন্ট করতে হবে। কিন্তু, কিছুই হলো না। এতকিছুর পরও বলবেন হাজার হাজার কোটি টাকার প্ল্যান পাস হচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে। আমি বকা উল্লা আমার এলাকায় গিয়ে কী বলবো? ডিসেম্বরের মধ্যে যদি এটার কোনও সদগতি না দেখি, আই উইল গো আউট ফ্রম দ্য পার্লামেন্ট। আমি চলে যাবো। এরকম অপমান নেওয়া যায় না। ৫০ হাজার লোক ওই রাস্তা দিয়ে ক্রস (যাতায়াত) করে প্রতিদিন। ৫০ হাজার লোক আমার মৃত মাকে গালি দেয়। আই উইল নট লেট বেয়ার ইট।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কী রকম সরকার চলছে? যিনি মন্ত্রী হবেন তিনি উনার বাড়িতে কাজ নিয়ে যাবেন। তাহলে আমরা কী? কিসের জন্য এই সংসদ।’

হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস হচ্ছে, হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে। আমি বকাউল্লা কী বলব, আমাকে সেটার উত্তর দিতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট ব্রিজের সৎগতি না হলে এই সংসদ থেকে বের হয়ে যাব। এই রকম অপমান মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোয় সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা কি তামাশার দেশ পাইছেন। ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সেটা বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। কি কারণে? কেন, কী কারণে? যারা প্রজেক্ট বানায় তাদের ধরে এনে পিটানো উচিৎ!

পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করা এবং বারবার খরচ বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা কী তামাশার দেশ পাইছেন? প্রকল্পের খরচ ২০ হাজার কোটি। সেই খরচ এখন হচ্ছে এক লাখ কোটি টাকা। একটা ব্রিজের কাজ শুরু করেন। বলেন, এটার খরচ ২০ হাজার কোটি। এখন কত কোটি? কী কারণে এটা হবে। যারা প্রজেক্ট বানায় তাদের ধরে পেটানো উচিত। তুমি আমার দেশের টাকা নিয়ে তামাশা করো?’

তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়িতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এক লাখ কোটি টাকা দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন করছেন? ‘হু উইল পে দিজ এক্সপেনসেস?’’