সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পর মারামারি

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯ সোমবার, ১০:০০ পিএম

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পর মারামারি

সম্মেলনের এক বছর পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা। আর এতে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ।

একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানে হামলা চালিয়েছে সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এই ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যান পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মীরা। পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মীরা সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে, সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে গেলে পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা মুহুর্মূহ স্লোগান দিলে পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন বাধাগ্রস্ত হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, এ সময় পদপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে কয়েকজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে `শিবির` আখ্যায়িত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। একপর্যায়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হলে আহত হন দশ নেতা-কর্মী।

এসময় চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এছাড়া- ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর ভুঁইয়া শাকিল, ডাকসুর সদস্য ও কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক এবং রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তারও আহত হন।

হামলার বিষয়ে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আমরা মধুর ক্যান্টিনের সামনে আসার পর সাদিক খান ও রাকিব হোসেন ও তাদের সাত আটজন অনুসারী মিলে আমাদের কলার ধরে মারধর করে। এসময় তারা লিপি, তিলোত্তমা ও ফরিদা পারভীনের গায়েও হাত তোলে।

হামলার বিষয়ে তিলোত্তমা শিকদার বলেন, আমরা যখন মধুর ক্যান্টিনে সবাই মিলে মুভ করা শুরু করলাম তখন সাদিক খান আমার উপর ও লিপির উপর হামলা করে, এক পর্যায়ে তারা আমাদের ধাক্কা দেয় এবং লিপির উপর হামলা করে আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও হামলা করে। আমরা এমন ছাত্রলীগতো চাইনি।

সাদিক খানের ব্যাপারে বলতে যেয়ে তিলোত্তমা বলেন, সাদিক খান যিনি বিবাহিত, যার স্ত্রী কিছুদিন আগে মারা গেল; এমন বিতর্কিত ব্যক্তি কিভাবে এ কমিটিতে স্থান পায়।

এরআগে এদিন বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।