মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

বগুড়ায় উপজেলা বিএনপির সম্পাদক খুন

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার, ০৭:৪৪ এএম

বগুড়ায় উপজেলা বিএনপির সম্পাদক খুন

বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুল আলম শাহীন (৪০) খুন হয়েছেন। রোববার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহীন বগুড়া সদরের ধরমপুর এলাকার আনিসুর রহমান দুলা মিয়ার ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশা ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন প্রতি রাতে নিশিন্দারা উপশহর বাজারে আড্ডা দিতেন। রোববার রাত ১০টার আগে তিনি তার প্রাইভেটকার নিয়ে উপ-শহর বাজারে আসেন। গোলাম মোস্তফা আবু তাহের নামে এক ব্যবসায়ীর বিসমিল্লাহ চাউল আড়ৎ থেকে চাল কেনেন। চালগুলো প্রাইভেটকারে রেখে তিনি মোবাইল ফোনে ফ্লাক্সিলোড নেন।

এরপর  উপশহর বাজারে ১০তলা বিল্ডিংয়ের সামনে একটি মোবাইল কল রিসিভ করেন। এ সময় আকস্মিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত সটকে পড়ে। স্থানীয় ব্যক্তিরা মাহবুবকে উদ্ধার করে প্রথম একটি ক্লিনিকে এবং পরে আড়াই শ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হামলার সময় মাহবুব আলমের সঙ্গে ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলিমুদ্দীন। তিনি বলেন, তাঁরা একসঙ্গে বাজারে গল্প করছিলেন। এরই মধ্যে মাহবুবের ফোনে একটি কল আসে। তিনি কল রিসিভ করে কথা বলতে বলতে প্রায় পাঁচ ফুট দূরে সরে যান। এ সময় বাজারে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত মাহবুবের ওপর হামলা করে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দুই থেকে তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে, বাকিরা দ্রুত হেঁটে পালিয়ে যায়। মাহবুব দৌঁড়ে কিছুদূর যাবার পর রাস্তার পাশে পড়ে যান। এসময় দুজন পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে প্রথমে নামাজগড় এলাকায় স্বদেশ ক্লিনিকে নেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা ও বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী। তাঁরা জানান, এই হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিএনপি নেতা মাহবুবের লাশ মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।