মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

বকা দিয়েছি, থাপ্পড় দেইনি : মেয়র

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৯:০৩ এএম

বকা দিয়েছি, থাপ্পড় দেইনি : মেয়র

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী  বাজে আচরণ করছিলেন। বাজেভাবে কথা বলছিলেন। তাই একজন জনপ্রতিনিধির সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা ধমক দিয়ে তাকে বলেছি। তাকে বকা দিয়েছি, থাপ্পড় দিইনি।’

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশকে থাপ্পর মারার অভিযোগ উঠার পর সোমবার নগর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসময় তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজে বাধা দিচ্ছে তারা। যার কারণে সোজা নালা করা যাচ্ছে না। তাই তাকে বকাঝকা করেছি, থাপ্পড় মারার তো প্রশ্নই আসে না। নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্য নানা রকম কথা বলে গুজব ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মেয়র বলেন, যেখানে তারা সোজা নালা করতে বাধা দিচ্ছে, সেখানে অবৈধ বাজার বসিয়ে অবৈধভাবে আয় করছে। তাদের স্বার্থে আঘাত আসার কারণে তারা জনস্বার্থ কাজে বাধা দিচ্ছে। যখন বাজার ছিল তখন তারা কোনো ব্যবস্থা  নেয়নি। গত সোমবার আমার অফিসে আসার পর এটা বলার পর সে (প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ) বলেন, সিটি করপোরেশনের অনেক জায়গা তো হকাররা দখল করে আছে। এটা তো তার বলার বিষয় না, সে কে এ বিষয়ে বলার। সে তো আমার সাথে বেয়াদবি করেছে। এত বড় দুঃসাহস তাকে কে দিয়েছে। আমি তো আমার স্বার্থে সড়ক করছি না, জনস্বার্থে সড়ক করছি যোগ করে তিনি বলেন, ২০১০ সালের মে মাসে গৃহায়ণ কর্তৃপড়্গের চেয়ারম্যানের কাছে অস্থায়ী বাজার বসানোর জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল তৎকালীন তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী। কিন্তু চেয়ারম্যান অনুমতি দেয়নি। তারপরও তারা অবৈধ বাজার বসিয়েছে। তারা তো বাজার বসাতে পারে না সিটি করপোরেশন এলাকায়। মহিউদ্দিন ভাই একবার উচ্ছেদ করেছিল এটি, আমিও কয়েকবার উচ্ছেদ করেছি। এরপরও সেটি রয়ে গেছে।

গৃহায়ণ কর্তৃপড়্গ তথ্য গোপন করেছে অভিযোগ করে মেয়র বলেন, তারা যে জায়গা নিয়ে ঝামেলা করেছে সেটি মূলত সড়ক ও জনপদ বিভাগের। সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়ক নির্মাণের জন্য গৃহায়ণ কর্তৃপড়্গকে বুঝিয়ে দেয়। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেয়, তবে তারা পুরো জায়গা যে সড়কের জন্য দিয়েছে সেটি গোপন করে ১২০ ফুট জায়গা আমাদের দিয়েছে। পোর্ট কানেকটিং সড়ক সম্প্রসারণ ও সড়কের পাশে ড্রেন তৈরির কাজ করা হচ্ছে। পুরো সড়কের ড্রেনের কাজ শেষ, শুধুমাত্র গৃহায়ণের লোকজনের বাধার কারণে ঐ অংশে কাজ হয়নি। এতদিন আমি তা জানতাম না, স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে জানিয়েছে। গৃহায়ণের লোকজনের কথা হচ্ছে আবাসিক এলাকা দিয়ে ড্রেন করার জন্য, কিন্তু সোজা ড্রেন না করে বাঁকা ড্রেন করলে বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তখন মানুষ আমাকে ধরবে, ব্যর্থতার দায় আমাকে দেবে।

মেয়র আরো বলেন, তার (আশরাফুজ্জামান পলাশ) বাড়ি গোপালগঞ্জ নয়, সে মিথ্যা কথা বলছে। তার বাড়ি মাদারীপুরে, সে গোপালগঞ্জ পরিচয় দেয় মানুষকে। তার বিরম্নদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করছে। এ বিষয়ে যেখানে বলার প্রয়োজন সেখানে বলব। কোন জিডি করবেন কি না জানতে চাইলে মেয়র বলেন কেনো জিডি করব না। তার বিরম্নদ্ধে যত অভিযোগ আছে সব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।