শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চন্দনাইশ বাদে ৩ উপজেলায় আওয়ামীলীগের জয়জয়কার

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৮:১৬ এএম

চন্দনাইশ বাদে ৩ উপজেলায় আওয়ামীলীগের জয়জয়কার

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ৪ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চন্দনাইশ বাদে বাকী উপজেলাগুলোতে জিতেছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী। চন্দনাইশে দু’টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ায় এখানে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। এই উপজেলায় এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

চন্দনাইশ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ ঘরানার আবদুল জব্বার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে দুই হাজার ৫৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। স্থগিত হওয়া ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা হচ্ছেন চার হাজার ৪০৯ ভোট।

চন্দনাইশ

চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ঘরনার আাবদুল জব্বার চৌধুরী (দোয়াত-কলম) পেয়েছেন ২২ হাজার ২৮১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম নাজিম উদ্দিন (নৌকা) পান ১৯ হাজার ৬৪৭ ভোট পান। ফলে চেয়ারম্যান পদে আবদুল জব্বার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ২ হাজার ৫৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ২ টি ভোটকেন্দ্রে স্থগিত রয়েছেন। এসব কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৪ হাজার ৪০৯ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান থেকে স্থগিত হওয়ায় ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলাফল ঘোষণা বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।

ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২২ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মঈন উদ্দিন (তালা) পান ১৮ হাজার ৭৯ ভোট। স্থগিত হওয়া ভোটকেন্দ্রে চেয়ে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বেশি হওয়ায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট কামেলা খানম (প্রজাপতি) ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সঞ্চিতা বড়–য়া (কলস) পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৯৬ ভোট। খালেদা আকতার চৌধুরী (পদ্মফুল) পান ৫ হাজার ৭৩০ ভোট, শাহনাজ বেগম (হাঁস) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৫ ভোট।

পটিয়া

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা) এক লাখ ২১ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজ্জাত হোসেন (দোয়াত-কলম) পান ২ হাজার ৬২৫ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক তিমির বরণ চৌধুরী (উড়োজাহাজ) ৯২ হাজার ৪৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু ( বই) পান ২৫ হাজার ৫৬ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাজেদা বেগম শিরু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

বাঁশখালী

চেয়ারম্যান পদে সাবেক সাংসদ সুলতানুল কবিরের ছেলে চৌধুরী মুহাম্মদ গালীব (নৌকা) ৫৯ হাজার ৪৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম (আনারস) পান ২৬ হাজার ১৩৪ ভোট। নূর হোসেন (কাপ-পিরিচ) পান দুই হাজার ৩৫৭ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে এমরানুল হক (উড়োজাহাজ) ৩৭ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল গফুর পান ২১ হাজার ৪৬ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেহেনা আকতার কাজমী (ফুটবল) ৪৬ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নূরীমন আকতার (প্রজাপতি) পান ৩৮ হাজার ৪৭৯ ভোট।

বোয়ালখালী 

চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী তিন প্রার্থীই দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সমর্থিত প্যানেল। ভোটার উপস্থিতি ছিল শতকরা ২৮.৫২।

ঘোষিত ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আ. লীগের সাবেক সম্পাদক সম্পাদক প্রবীণ-বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নুরুল আলম রাজা (নৌকা)। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আ. লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন (আনারস) পান ১৬ হাজার ১১১ ভোট। জাতীয় পার্টির দিদারুল আলম ফজু (লাঙ্গল) পান ৩ হাজার ৬৬৫ ভোট, জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দুল আলম (মোটর সাইকেল) ৬৩৭ ভোট ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম নুরুল ইসলাম (দোয়াত-কলম) পেয়েছেন ৪৪৬ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আ. লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সেলিম (উড়োজাহাজ) ১৮ হাজার ৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রিদুয়ানুল হক টিপু (চশমা) পান ১৪ হাজার ৯৬৭ ভোট। উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (তালা) পান ১৩ হাজার ২০১ ভোট। সৈয়দ মো. নুরুল কবির (টিউবওয়েল) ২ হাজার ১০৯ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আ. লীগের সভাপতি শামীম আরা বেগম (প্রজাপতি) ২৬ হাজার ৫৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা আকতার শেফু পান (ফুটবল) ১১ হাজার ৯৫৯ ভোট। সূপর্ণা ভঞ্জ (কলস) পান ১০ হাজার ১৯ ভোট।