রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯

দক্ষিণে উৎসব আর উত্তেজনার ভোট

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার, ০৮:৫২ এএম

দক্ষিণে উৎসব আর উত্তেজনার ভোট

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ৪ উপজেলায় চলছে ভোটগ্রহণ।  কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রবিবার সকালে শুরু হয় ভোটগ্রহণ । র‌্যাব, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল দিচ্ছেন।

বিরোধীদলের অংশগ্রহণ না থাকায় উপজেলা নির্বাচন একতরফা নির্বাচনে পরিণত হয়। একতরফা নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। নিজেদের মধ্যে হলেও নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। কিছুটা উৎসব থাকলেও রয়েছে শঙ্কাও।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও আনোয়ারা-ছয় উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আনোয়ারা উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানেরা বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে যান।  বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আদেশে লোহাগাড়া উপজেলার ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। আনোয়ারা ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভোট হচ্ছে না। অন্য চার উপজেলা বোয়ালখালী, পটিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

চন্দনাইশ ও বাঁশখালীতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ এবং বোয়ালখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বোয়ালখালীতে ভোটের আগেরদিন (শনিবার সন্ধ্যায়) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রচার-প্রচারণায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ছিল উত্তাপ-উত্তেজনা। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আজ রোববার দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার উপজেলা বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে পটিয়ায় তিন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হলেও বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী।

বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। আওয়ামী লীগ সমর্থনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে আনারস প্রতীক নিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, শ্রমিকলীগ নেতা এস এম নুরুল ইসলাম দোয়াত কলম, সৈয়দুল আলম মোটরসাইকেল ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির দিদারুল আলম ফজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রার্থী নুরুল আলমের সাথে আনারস প্রতীকে আবদুল কাদের সুজনের মধ্যে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন চারজন তারা হলো আওয়ামী লীগ সমর্থিত এস এম সেলিম উড়ো জাহাজ, আওয়ামী লীগ নেতা রিদওয়ানুল হক চশমা, উপজেলা যুবলীগের একাংশের সভাপতি সেলিম উদ্দীন তালা ও সৈয়দ নুরুল কবির টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন তিনজন তারা হলো উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামীমা আরা বেগম প্রজাপতি, বিএনপি নেত্রী সাহিদা আকতার ফুটবল ও সুপ্রর্ণা বঞ্জ কলসী প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পটিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজন। তারা হলো আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম, দোয়াত কলম প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ও আনারস প্রতীকে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিল দলের নেত্রী আফরোজা বেগম জলি। এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক দুই ভাগে কাজ করলেও জলি পাবে বিএনপির প্রায় ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন তিনজন তারা হলো বই প্রতীক নিয়ে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সুন্নী নেতা মো. পেয়ারু, উড়োজাহাজ নিয়ে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ও তালা প্রতীক নিয়ে দেশরত্ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাব উদ্দীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মাজেদা বেগম শিরু।

বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তারা হলো নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিব চৌধুরী, আনারস প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দক্ষিণ জেলা শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদুল আলম ও কাপ পিরিচ নিয়ে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মৌলভী নুর হোসেন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকার চৌধুরী গালিবের সাথে আনারস প্রতীকের খোরশেদুল আলমের সাথে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন চারজন তারা হলো টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, উড়ো জাহাজ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমরানুল হক ইমরান, মাইক নিয়ে মো. সোলায়মান ও তালা প্রতীক নিয়ে যুবলীগ নেতা শাহাদাত রশিদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরীমন আকতার নুরী ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রেহেনা আকতার কাজেমী ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চন্দনাইশ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। একজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা একেএম নাজিম উদ্দীন ও এলডিপির সমর্থনে দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আবদুল জব্বার চৌধুরী। লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আর সদ্য যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত মাওলানা সোলায়মান ফারুকী ও তালা প্রতীক নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঈন উদ্দীন বাপ্পী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাস প্রতীক নিয়ে শাহনাজ বেগম, পদ্মফুল নিয়ে খালেদা আকতার চৌধুরী, কলস প্রতীকে সুন্সিতা বড়-য়া ও প্রজাপতি নিয়ে অ্যাডভোকেট কামেলা খানম লুফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।