রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

আনোয়ারায় প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, ভোট হচ্ছে না

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ১১:০৩ এএম

আনোয়ারায় প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, ভোট হচ্ছে না

আনোয়ারায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তার চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি ছিল অনুমিত। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন , মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন মনোনযনপত্র জমা দেন। তাই অন্তত এ দু’টি পদে নির্বাচন হতে পারে এমন ধারণা ছিল সাধারণ ভোটারদের।

শেষ পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসলামী ফ্রন্টের ডিআইএম জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রওশন আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমান ৩ জনের বিজয়ী হওয়া সময়ের ব্যাপার। রোববার প্রতীক বরাদ্দের দিনে অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় ৩ জনকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আগামী ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম দক্ষিণ চট্টগ্রামে আনোয়ারাসহ ৬ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। আনোয়ারায় ৩জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকী ৫ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলা  পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটির সদস্য তৌহিদুল হক চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। তার বিপরীতে কোন প্রার্থী না থাকার কারণে শুরুতেই তিনি একক প্রার্থী ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধরের সঙ্গে দুইজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগমের সঙ্গে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

প্রার্থিতা যাচাই বাছাইয়ে মহিলা ভাইস চেযারম্যান পদের দুই প্রার্থীর মধ্যে রওশন আকতার মুন্নীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আবারো নির্বাচিত হচ্ছেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম।

কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজনই বৈধ প্রার্থী হওয়ার কারণে অনেকে ধারণা করেন এ পদে নির্বাচন হবে। বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ডিআইএম জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো. শওকত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। যার কারণে শেষ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামাল হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের দিন যখন দেখা যাবে তিনজন ছাড়া তিন পদের জন্য আর কোন প্রার্থী নাই , তখন তাদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, বিগত পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি আনোয়ারার আপামর জনগণের উন্নয়ন সাধন করার জন্য। চেষ্টা করেছি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার। জানি না কতটুকু পেরেছি । তবে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য আরো বেড়ে গেছে। আগামী পাঁচ বছর অতীতের মতো জনগণের সেবা করে যাব।

আনোয়ারা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃনাল কান্তি ধর বলেন, বিগত সময়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারণে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আমাদের তিনজনকে পুনরায় সমর্থন দিয়েছেন। অতীতে যেভাবে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে আনোয়ারা উপজেলার উন্নয়ন করেছি, ভবিষ্যতেও সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন ও জনগণের সেবা করে যাব।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা। গতকাল ছিল প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান  জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬ উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র আনোয়ারা ছাড়া অবশিষ্ট ৫ উপজেলায় নির্বাচন হবে। আনোয়ারা উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এখানে তিন পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী নেই। সে হিসেবে এখন পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সুষ্ঠু ভাবে ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬ উপজেলায় ৪৯৭টি ভোট কেন্দ্র ও সাড়ে ১১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করেছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। চলবে ২২ মার্চ পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, ৬ উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহণের জন্য ৪৯৭টি কেন্দ্রে ৪৯৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩ হাজার ৭০৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৭ হাজার ৩৬৪ জন পোলিং অফিসার প্যানেল চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।