মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এডভোকেট রানুর শুভকামনায় ২ হাজার সাড়া !

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ১২:২৪ এএম

এডভোকেট রানুর শুভকামনায় ২ হাজার সাড়া !

একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কয়েকজন নারী প্রার্থী। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীদের সাংগঠনিক ভূমিকা, এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের পাশে থাকা এসব বিষয় চুলচেরা বিশ্রেষণ চলছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা, লেখালেখি। এদের বেশিরভাগই বলছেন দু:সময়ে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এমন নেত্রীদের মনোনয়ন দিলে দল চাঙ্গা হবে, উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ।

সামাজিক মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে বেশি লেখালেখি হচ্ছে সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানুকে নিয়ে।  চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতমুখ এই নেত্রী পরপর তিনবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন।গত ১৭ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।  এক-এগারোর চরম দুঃসময়ে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামের রাজপথে দাঁড়ানো রেহানা বেগম রানু।  

গত ২৪ জানুয়ারি নিজের ফেইসবুক আইডিতে নিজেরই জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেন পরপর তিনবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া রেহানা বেগম রানু। সেখানে এ পর্যন্ত দেড় হাজার লাইক, ২৬৮ মন্তব্য, ৭১ বার শেয়ার মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার জনের এনগেজমেন্ট (সাড়া) দেখা গেছে। চট্টগ্রামের আর কোন মনোনন প্রত্যাশীর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে এভাবে সামাজিক মাধ্যমে সাড়া দেখা যায়নি বলে জানান এ বিষয়ে ওয়াকিফহাল বিভিন্ন সূত্র।  

 বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। ইতিমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রি করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের বৃত্তান্ত, যোগ্যতা-অযোগ্যতা শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধ-আগ্রহে শেয়ার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের সক্রিয় এ কর্মী। ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা রেহানা বেগম রানুর এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারীর নানা মন্তব্য এসেছে।
 
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাবরিনা চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমি বারবার খুঁজছিলাম চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে এমন কে আছেন যিনি ছাত্রলীগ করে আসা নারী... আপনার জীবনবৃত্তান্ত দেখে জানলাম.. ভালো লাগলো.. সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের মূল্যায়ন হোক।’

ফেইসবুকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ সভাপতি মাসুদ ফরহান অভি লিখেছেন, চট্টগ্রামে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বজ্রকণ্ঠে চট্টগ্রামজুড়ে গণতন্ত্র আর মুক্তির স্লোগান ধরেছিলেন যে নারী তার নাম রেহানা বেগম রানু। আপনার সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে বর্তমানে দেশের খুব কম নারী নেত্রীর তুলনা হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে আপনার ভূমিকা এ অঞ্চলের রাজনীতি সচেতন মানুষ মাত্রই স্বীকার করে, কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে আপনার প্রতি। সমাজ, রাজনীতি আর নারীদের নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আপনার যৌক্তিক ও মুগ্ধকর শব্দে-গল্পে উপস্থাপন আমাদের অনুপ্রাণিত করে। শুভ কামনা আপনার জন্য।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ ভুঁইয়া লিখেছেন, ‘আমি আশা করি আপনার কাজের মূল্যায়ন হবে।’ আওয়ামী যুবলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন লিখেছেন, ‘যোগ্যতা তো অনেক। মূল্যায়ন হবে কিনা তাই ভাবছি।’ ‘পরিবারতন্ত্র আমাদের রাজনীতিকে শেষ করেছে। বাবা রাজনীতি করতো তাই মেয়েকেও দিতে হবে অদ্ভুত নিয়ম। রানু আপাদের মতো শিক্ষিত নারীরা সংসদে এলে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সংরক্ষিত আসনে তাকে দরকার।’

মন্তব্য করেছেন চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ ও যোগাযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জুয়েল। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ওমর ফারুক হিমেল লিখেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে আপনার মতো সচেতন নারী, উচ্চশিক্ষিত মানুষ পার্লামেন্টে দরকার।’ শামীম হোসেন নামে রেলওয়েতে কর্মরত একজন লিখেছেন,‘ খুব যোগ্যতাসম্পন্ন, আমাদের দাবি এমপি করা হোক।’
 মো. নাজিম উদ্দিন নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা লিখেছেন, ‘চমৎকার মেধাপূর্ণ কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা অতীতই প্রমাণ করে, সংসদে গিয়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার যথেষ্ট যোগ্যতা আপনার রয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিজয় হবেই। শুভ কামনা।’

এনজিও কর্মী মো. মাইনুল ইসলাম লিখেন, ‘আমার দেখা অন্যতম যোগ্যতম নারী রানু আপা। দোয়া করি আপনি যেন এমপি হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন।’ ফেইসবুকে রেহানা বেগম রানুকে উদ্দেশ্য করে আরশাদ উর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী লিখেছেন, ‘নিজগুণে আর মহিমায় এগিয়ে যান। ইনশাল্লাহ মূল্যায়িত হবেন।’

 এম আলী রেজা লিখেছেন, ‘আপনার মেধাপূর্ণ কর্মকান্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করে আপনি একজন যোগ্য প্রার্থী। আপনার প্রাপ্ত অর্জন ও অভিজ্ঞতাই বলে দেয় সংসদে গিয়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণে আপনি অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। ইনশাআল্লাহ্ বিজয় আপনার হবেই। শুভ কামনা ও দোয়া।’

যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেহানা বেগম রানুর স্ট্যাটাসটির নিচে নগরীর ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম লিখেছেন, ‘যোগ্যতার পরিমাপ হোক।’ বাল্যবিয়ে বন্ধ ও নারীর প্রতি সহিংসতারোধ ও নারী নির্যাতন বন্ধে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কাজ করে প্রশংসিত রানুর বিষয়ে মো. রফিক লিখেছেন, এমন নেত্রী দরকার আছে। দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এমপি হলে ভালো হয়।

আরিফুল ইসলাম লিখেন, যোগ্য নেতৃত্ব বিকশিত না হলে, পথ রুদ্ধ হবে জননেত্রীর শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়ার পথ। আপু আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। কাইছার আলম লিখেছেন, শুভ কামনা। যোগ্য মানুষের মূল্যায়ন কম হয় আপা। ব্যবসায়ী মো. মুরাদ লিখেন, চেনা বামনের পৈতা লাগে না। আপনি কে সেটা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো করে চিনেন এবং জানেন। আপনি তো কোন হাইব্রিড নেতা নন। আপনি পরীক্ষিত রাজপথের সৈনিক। ইনশাআল্লাহ আপনাকে নেত্রী মূল্যায়ন করবেন।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আবদুল আহাদ মো. শাহজাহান লিখেছেন, শুভকামনা রইলো। অবশ্যই পাওয়া উচিত। আবছার রাফি লিখেছেন, এমন যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকেই সাংসদ হিসেবে দেখতে চাই। শুভ কামনা। পৃথক আরেকটি কমেন্টে আবছার রাফি লিখেন, দলের দুঃসময়ে বিরোধীদল কর্তৃক নির্যাতিত নিপীড়িত ত্যাগী নেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু’র মূল্যায়ন চাই। আশা করি, সুসময়ের কোকিলদের ব্যতিরেকে আপনার মূল্যায়ন হবে, জননেত্রী শেখ হাসিনার আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন না।

নারী নেত্রী রেহানা বেগম রানুর জন্য শুভ কামনা জানিয়ে কমেন্ট করেছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল ও পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া দীপু। শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী কমলেশ ধর লিখেছেন, শুধু আশা নয়, মনোনয়নের জন্য আমাদের দাবীও জানালাম। মো. চৌধুরী লিখেছেন, শুভ কামনা আপা। আপনার পরিচয়টা অনেক ত্যাগের। ভালো থাকুন। নূর মোহাম্মদ ইকবাল লিখেছেন, শুভকামনা। আপনার মতো প্রতিভাবান, পরিশ্রমী মানুষ যদি মনোনয়ন না পায়, তবে দুঃখজনক। মাহবুব আলম সুমন লিখেছেন, আপনার মতো ত্যাগী, আদর্শ রাজপথের সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হোক। শুভ কামনা রইল।

দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক এম জাহেদ চৌধুরী লিখেছেন, শুভ কামনা। মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। জসিম উদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন, তোমার যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। শুভ কামনা রইল। ঢাকার উত্তরা আধুনিক ল’ কলেজের সহকারী অধ্যাপক অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান লস্কর লিখেছেন, অনন্য প্রতিভাবান এ নারী আইনজীবী উপযুক্ত প্রার্থী। বিদর্শন বড়ুয়া লিখেছেন, শুভ কামনা। আশা করি আপনাকে এমপি হিসাবে দেখবো। ইয়ুথ ইউনিটি অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ফায়াজ বিন হাকিম লিখেছেন, আপনাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় চট্টগ্রামের জনগণ। শাহজাহান খান নামের একজন লিখেছেন, অনেক দোয়া ও শুভ কামনা। মহান আল্লাহ আপনার স্বপ্ন পূরণ করুন! আমিন।’ আইনজীবী সেলিম আনসার রানা লিখেছেন, আপনার ব্যবহারটা সবচাইতে ভালো। ছোট বড় সকলের সাথে সুন্দর ব্যবহার এটা সবাই পারে না, বিশেষ করে ক্ষমতাবানরা। কাদের নেওয়াজ নামের একজন লিখেছেন, আপনি যোগ্য ৯৯%। কিন্তু এখন রাজনীতিতে মানদ- নেই। তাই বলছিলাম কি, চেষ্টা করে যান। সফলতা আসুক না আসুক। যদি এ নিয়ে বিচলিত হন তাহলে বাদ দিন এসব। তবু রইল দোয়া এগিয়ে যেতে নেই মানা। ধন্যবাদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ড. কুন্তল বড়ুয়া লিখেছেন, আপনার মূল্যায়নটা এবার জরুরি। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। আহমেদ ইউসুফ হারুন লিখেছেন, এমন একজনকে সংসদের সংরক্ষিত আসনে স্থান দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আশা করি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন। ধন্যবাদ। ফেইসবুকে মানুষের এই আগ্রহকে কীভাবে দেখেন? জবাবে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেত্রী রেহানা বেগম রানু বলেন, দলের প্রতি আমার ত্যাগ আছে বলেই অনেকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং সেটাই স্বাভাবিক। যারা আমার এমপি প্রার্থীতা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, ইতিবাচক মন্তব্য করছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, আমি দুঃসময়ে রাজপথ থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগ কর্মী। দলের জন্য আন্দোলনকে আমি মনে করেছি পবিত্র দায়িত্ব। আমৃত্যু দলের জন্য কাজ করে যাবেন জানিয়ে রেহানা বেগম রানু বলেন, কিছু পাই বা না পাই। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এটা আমার বড় পরিচয়। আমাকে যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ দেন, তাহলে আমি বৃহত্তর অবস্থান থেকে সারাদেশের জন্য ও দলের জন্য বেশি করে কাজ করতে পারবো।