বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

দু:সময়ে কাজ করেছি, জনগণের সঙ্গেই আছি : এডভোকেট রানু

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১১:৩৫ এএম

দু:সময়ে কাজ করেছি, জনগণের সঙ্গেই আছি : এডভোকেট রানু

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর, পেশাজীবীসহ এক ঝাঁক নারী নেত্রী। অনেকে এর মধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। 

এবারের মন্ত্রিসভায় নতুনদের প্রাধান্য থাকায় ধারণা করা হচ্ছে সংরক্ষিত আসনেও আসতে পারে নতুন মুখ। অতীতের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে দুই থেকে তিনজন মহিলা এমপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন, গত সংসদগুলোতে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা এবার দলের মনোনয়ন পাবেন না। সেই দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন নতুনরাই।

নতুনদের মনোনয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে সেখানে এগিয়ে থাকবেন চট্টগ্রাম নগরীর আওয়ামীলীগ রাজনীতির পরিচিতমুখ অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেকএই কাউন্সিলর নারী অধিকার ও বাল্য বিবাহ নিয়ে কাজ করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলাভেনের পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে রাজপথে সরব ছিলেন এই নেত্রী।

ক্ষমতার সেই পালাবদলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিল। একে একে গ্রেফতার হন ১৬০ জন শীর্ষ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী। এক পর্যায়ে ১৬ জুলাই ভোররাতে গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তাঁর গ্রেফতারের পরপরই দ্রুত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করে। রাজনীতির চেনা মানুষগুলো অচেনা হয়ে যায়। কেউ বিদেশ পালিয়ে, কেউ বা দেশের মধ্যেই আত্মগোপনে থেকে আত্মরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ অবতীর্ণ হন সংস্কারপন্থীর ভূমিকায়। আবার কেউ গ্রেফতার হয়ে আপাত বেঁচে যাওয়ার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

তখন রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের কঠোর পাহারা, নজরদারি তখন।  সেই অবস্থাতেই চরম ঝুঁকি নিয়ে রেহানা বেগম রানু  চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজন করেন বিশাল মানববন্ধনের। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সেদিনের কর্মসূচি সারাদেশে আলোডন সৃষ্টি করে।

সেনাসমর্থিত সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে  চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সেদিনের কর্মসূচিতে শামিল হন ৫ শতাধিক নারী। এক পর্যায়ে পুলিশের লাঠিচার্জে বন্ধ হয়ে যায় কর্মসূচি।
পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয় সেই সংবাদ।

এর পরপরই চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় মানববন্ধন কর্মূচিতেও সরব ছিলেন রানু। তখনও পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি আহতও হন।

সেদিন এমন ঝুঁকি কেন নিয়েছিলেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু  বলেন, প্রিয়নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যেদিন গ্রেফতার করে টেনেহিঁচড়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই দৃশ্য আমাকে যুগপৎ ব্যথিত করে। সেদিনই আমি মনে মনে পণ করি, যত ঝড়-তুফান আসুক শেখ হাসিনার পক্ষে চট্টগ্রাম থেকেই আন্দোলন গড়ে তুলব, তাকে মুক্ত করে আনব।’

আর এই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে, পাড়ামহল্লায় জনমত গঠনে নেমে পড়ি। নেমেই দেখি নেতাকর্মীদের অনেকেই গা-ছাড়া ভাব।  তাদের ধারণা, শেখ হাসিনার দিন বোধহয় শেষ। কাজেই তার জন্য কেঁদে লাভ কী। সেই তাদেরকেই উল্টো আমি হতাশ করে দিতাম। প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতাম, জরুরি অবস্থার কুশীলবদের পতন আসন্ন, শেখ হাসিনার বিজয় অবশ্যাম্ভাবী। আপনারা শেখ হাসিনার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন।- বলেন রেহানা বেগম রানু।

শুধু তাই নয়, সেনা সমর্থিত সরকারের শুরু থেকে পুরোটা সময় জাতীয় শোক দিবস, মুজিবনগর দিবস, জেলহত্যা দিবস, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসহ চট্টগ্রামে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করি আমি। জরুরি অবস্থার মাঝে এসব করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনের অনেক হুমকি-ধামকি, চোখ রাঙানি আমাকে সহ্য করতে হয়েছে। কখনো প্যানেল মেয়রসহ লোভনীয় জায়গায় বসানোর প্রস্তাবও এসেছে উপর থেকে। কিন্তু বরাবরই আমি বলেছি, নেত্রীকে জেলে রেখে, বঙ্গবন্ধুর গড়া আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের চেষ্টায় সমর্থন জুগিয়ে কোনো পদ-পদবী কিংবা চেয়ার আমার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে তাঁর গ্রেফতারের পরপরই স্বেচ্ছায় কারাবরণের কর্মসূচিও আমি গ্রহণ করেছিলাম। আমার সঙ্গে সেসময় স্বেচ্ছায় কারাবরণে রাজি হয়েছিলেন যে পাঁচজন নারী তারা হলেন মমতাজ বেগ, আলেয়া নূর, বানু আরা বেগম, শাহীন আকতার ও রাজিয়া বেগম। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এই কারাবরণের ঘোষণা দেওয়ার জন্য দিনক্ষণও ঠিক করি। ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। রাজনৈতি চরম দু:সময়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তৃণমূলের একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মী। কমিটমেন্ট থেকেই রাজনীতিতে এসেছি। কী পেয়েছি তার চেয়ে বড় কথা কী দিতে পেরেছি। দল ও নেত্রীর দু:সময়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।