বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯

নওফেল : আসলেন দেখলেন জয় করলেন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০১:১০ এএম

নওফেল : আসলেন দেখলেন জয় করলেন

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের উত্থান যেন আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন এ রকমই। কয়েক বছর আগেও তার পরিচয় ছিল শুধুমাত্র সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান হিসাবে।

চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী চমক দিলেন নওফেলকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দিয়ে। তারপরের সময়টুকু শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। প্রধানমন্ত্রী তাকে যখনই যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সফলতার পরিচয় দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের কোন আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না হলেও শুধুমাত্র চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বোয়ালখালী) আসনে আগের প্রার্থী বদল করে নওফেলকে মনোনয়ন দেন। ইভিএম পদ্ধতির ভোটে এই আসনে তিনি বিপুল ভোটে সাংসদ হন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন নওফেল।

রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এদিকে নওফেলের উপমন্ত্রী হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্ম। তারা বলছেন, এবারের সংসদে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করবেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উপমন্ত্রী হওয়ার খবরে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নির্বাচনী এলাকা কোতোয়ালি-বাকলিয়াতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল চট্টগ্রাম-৯ আসনের ১৪৪টি কেন্দ্রে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৩ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার নওফেল। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাবার পক্ষে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৪ সালে ৭১ সদস্যের আওয়ামী লীগের নগর কমিটির নির্বাহী সদস্য করা হয় নওফেলকে। যুক্ত ছিলেন যুবলীগের রাজনীতির সাথেও। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক থেকে স্নাতক করা মহিবুল পরে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। ১/১১ সময়কালীন লন্ডনে অবস্থানরত বিদেশি আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদদের একত্রিত করে শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের বাইরে জনমত তৈরির ভূমিকা রেখেছেন রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা নওফেল।

বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো আওয়ামী লীগের প্রতি ত্যাগ এবং নওফেলের বুদ্ধিদীপ্ত তারুণ্য পছন্দ হয় শেখ হাসিনার। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় নওফেলকে। সেই দায়িত্ব যোগ্যতা, মেধা এবং নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে পালন করছেন তিনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যেমন পালন করছেন তেমনি উন্নয়ন কাজে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করছে তরুণ এই নেতা। সুস্থধারার রাজনীতিতে তারুণ্যের আইকন হিসেবে মনে করা হয় ব্যারিস্টার নওফেলকে।