ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

অসামান্য এক যোদ্ধা রইসুল হক বাহার

আজাদ মঈনুদ্দীন

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০১:৩৭ এএম

অসামান্য এক যোদ্ধা রইসুল হক বাহার

২৪ মার্চ ১৯৭১। সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের কাজে বাধা দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন নিউমুরিং কলোনিতে সামসুদ্দিনের নেতৃত্বে সমাবেশের আয়োজনে কাজ করেছিলেন আ ক ম রইসুল হক বাহার, আবদুস সাত্তার ও তারেক দিলু। আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান ও এম এ মতিনের নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি নিউমুরিং কলোনি থেকে ডবলমুরিং ৩ নম্বর জেটি পর্যন্ত আসার পর নৌবাহিনীর ফ্লিট ক্লাব থেকে গুলি ছোড়ে পাকিস্তানি সেনারা। এটি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিরস্ত্র প্রতিরোধ বলে জানালেন রইসুল হক বাহার।

তখন তিনি কাজ করতেন চট্টগ্রাম বন্দরে। তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহর ছিল মুক্তিকামী জনতার দখলে। চারদিকে চলছিল স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ও প্রতিরোধযুদ্ধ।’

৩০ মার্চের পর চট্টগ্রামের দখল নেয় পাকিস্তানি সেনারা। এরপর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাহার। ১৫ মে বন্ধু সাত্তারকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান ত্রিপুরা রাজ্যের হরিণা ক্যাম্পে। সাত দিনের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশ নিতে ফিরে আসেন চট্টগ্রামে। নানা কারণে ব্যর্থ হয়ে আবার হরিণা ক্যাম্পে ফিরে গেলেও মনোবল হারাননি বাহার। শুরু হয় নতুন করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ। ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে একজন বিস্ফোরণ ও পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ গেরিলাযোদ্ধা হিসেবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আবার প্রবেশ করেন অবরুদ্ধ চট্টগ্রামে। এরপর শুরু হয় নানা ধরনের গেরিলা অভিযান। তাঁর নেতৃত্বে একের পর এক সফল অভিযানে গেরিলারা কাঁপন ধরিয়েছিল শত্রু শিবিরে। ২৯ অক্টোবর কৈবল্যধামে পাকিস্তানি টহল ট্রেন এবং রেলসেতু বিস্ফোরণ অভিযানে ছয় সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রইসুল হক বাহার।

এমনই এক অসামান্য যোদ্ধা রইসুল হক বাহার। মৃত্যুর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাতকারে তিনি তুলে ধরেন স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে তার নানা চিন্তাভাবনা।

গত বছর ১৫ মার্চ চট্টগ্রামে ‘যোদ্ধার মুখে যুদ্ধের কথা’ অনুষ্ঠানের বক্তব্যে নিভৃতচারী  মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম রইসুল হক বাহার বলেন, আ ক ম রইসুল হক বাহার বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি দিনে বন্দরে চাকরি করতাম আর নৈশ শাখায় কলেজে পড়াশোনা করতাম। তাই দিনের বেলায় বন্দরে গিয়ে শ্রমিকদের জড়ো করে স্বাধীনতাযুদ্ধের ব্যাপারে বলতাম। রাতে কলেজে গিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতাম। ১৯৭১ এ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি ছাড়া সব গেরিলা অভিযানে আমার কমান্ডারের ভূমিকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭১ এর ২৪ মার্চ সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের কাজে বাধা দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন নিউমুরিং কলোনিতে সামসুদ্দিনের নেতৃত্বে সমাবেশের আয়োজনে কাজ করি আমি, আবদুস সাত্তার ও তারেক দিলু। আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান ও এমএ মতিনের নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিল যত সামনে এগুচ্ছিল, ততই মানুষের সংখ্যা বাড়ছিল। মিছিলটি নিউমুরিং কলোনি থেকে ডবলমুরিং ৩ নম্বর জেটি পর্যন্ত আসার পর নৌবাহিনীর ফ্লিট ক্লাব থেকে গুলি ছোড়ে পাকিস্তানি সেনারা। পরদিন পত্রিকায় দেখি এতে ২৩ জন মারা যান। আহত হন আরো কয়েকশ। এটি নিরস্ত্র জনতার ওপর পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ চালানোর আরো একটি বড় ঘটনা ছিল।’

১৯৭০ সালের নির্বাচন ও একাত্তর সালের মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলির নানা কথা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সংগঠক ও সাংবাদিক রইসুল হক বাহার বলেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের কাছ থেকে ৬ দফা মুক্তির সনদের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি করার সুবাদে রইসুল হক বাহার মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রইসুল হক বাহার বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ আমি চট্টগ্রাম বন্দরে ছিলাম। অফিসেই কর্মরত থাকাবস্থায় দুপুরের দিকে খবর পাওয়া গেলো যে ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তখন অধিবেশন বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সারাদেশে অফিস-আদালত, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।  ঢাকার লোকজন বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে এসে রাস্তায় নেমে পড়েন। তখন আমিও অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। এরই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।’

‘পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অধিবেশন বন্ধের খবরটি রেডিওতে প্রচার করা হয়। এসময় চট্টগ্রামের লোকজনও অফিস আদালত ছেড়ে দেয় এবং বাড়িঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে পড়েন। এরপর থেকেই রাস্তা ও পাড়া-মহল্লায় মিছিল-মিটিং ও বিক্ষোভ করে চট্টগ্রামের মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারি এম এ আজিজ মারা যাওয়ার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর লীগের সভাপতি জহুর আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আর সিদ্দিকী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান মার্চের আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি তৎকালীন আওয়ামী লীগের এম এ মান্নান, আতাউর রহমান খান কাউসার, বোয়ালখালীর ডা. মান্নান, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সুলতানুল কবির চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইদ্রিছ আলম, মৌলভী ছৈয়দ, চট্টগ্রাম কলেজের ভিপি জালাল উদ্দিন, জিএস মনিরুজ্জামান মন্টুর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।’

রইসুল হক বাহার বলেন, ‘আমার বাবাও আওয়ামী লীগ করতেন। সেই সুবাদে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আমিও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ি। বন্দরে চাকরি করার কারণেই হালিশহরে বসতি আমাদের। সত্তরের নির্বাচনের সময় হালিশহর এলাকায় ঘরে ঘরে ভোটার তালিকা ও কার্ড বিলি করতাম। তখন থেকেই মনে স্বাধীনতার বীজ বুনেছিলাম।’  

‘সত্তরের নির্বাচনের পর লালদীঘিতে এম এ আজিজের নেতৃত্বে একটি জনসভা হয়েছিল। সেখানে তৎকালীন ঢাকুসর ভিপি আ স ম আবদুর রব বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাদের নমোনেশন দিয়েছেন। বাংলার জনগণ আপনাদের রায় দিয়েছে। আপনারা সেই রায় বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। দেশবাসী আপনাদের কাছ থেকে অধিকার চায়। যদি আপনারা কেউ জনগণের এ রায়ের সাথে বেঈমানি করেন, তাহলে জনগণ গলায় গামছা বেঁধে আপনাদের কাছ থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেবে।’

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে দুধেল গাভী দিয়ে একটি প্রতিবাদী পোস্টার বের করেছিল। যেখানে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান এবং ভারতের মানচিত্র ছিল। পোস্টারে দুধেল গাভীর মুখটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের দিকে আর গাভীর ওলাং ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের দিকে। এই প্রতিবাদী পোস্টারটি ওই সময়ে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছিল। পোস্টারে বুঝানো হয়েছিল পূর্ব বাংলায় গাভীর যোগান দিতো আর পশ্চিম পাকিস্তান তা আহরণ করতো।’

‘এই পোস্টারটি মানুষকে সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত করে। পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ২৩ বছর শোষণ করেছিল। একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানকে লুঠপাট করেই পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি। পাট, চা, চামড়াসহ অর্থকরী সব ফসল পূর্ব পাকিস্তানেই উৎপাদিত হতো। যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অর্থকরী ফসল ছিল। একটি কথা না বললেই নয়, রাঙ্গুনিয়ায় বিশাল কর্ণফুলী পেপার মিলে যে কাগজ উৎপাদিত হতো। এখানে উৎপাদিত কাগজগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হতো। পরবর্তীতে সেখান থেকে পাকিস্তান পোপার প্রোডাক্টস হয়ে পুনরায় পূর্ব বাংলায় আসতো। তখন আমাদের পূর্ব বাংলায় উৎপাদিত এক দিস্তা কাগজ পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুন দামে লোকজনকে কিনতে হতো। পূ্র্ব পাকিস্তানকে শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন করতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃস্টির পর রাজধানী করা হয় করাচিকে। পরবর্তীতে নয়া দিল্লী ও ইসলামাবাদে স্থানারিত করা হয়। তখনকার ২৩ বছরে একটি দেশের রাজধানী তিনবার স্থানান্তর করা হয়। এখান থেকে বুঝা যায়, পূর্ব বাংলাকে শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তান চলতো। পশ্চিম পাকিস্তান ওপনিবেশিক কায়দায় পূর্ব বাংলার জনগণকে শোষণ করেছিল।’

‘বিট্রিশরা একসময় আমাদের পরাধীন করে রেখেছিল। সেই পরাধীনতার বিরুদ্ধে আমাদের বাপ-দাদারা লড়াই করে স্বাধীনতা এনে আবারো প্রতারিত হতে হলো। স্বাধীন হওয়ার পরেও আমরা পুনরায় নতুনভাবে পরাধীন জাতিতে পরিণত হলাম। আমাদেরকে পুনরায় আরেকটি রাষ্ট্র কাঠামোয় নিয়ে গেলো। সেখানেও ওপনিবেশিক কায়দায় আমাদের শোষণ ও বৈষম্য শুরু করল। তখন আমাদের প্রজন্ম প্রতিবাদ শুরু করলো।’

‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি নির্বাচনে মানুষকে প্রভাবিত করে। ৬ দফা ছিল বাংলার মুক্তির সনদ। ৬ দফা নিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণকে ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃবন্দ। তখন জনগণকে বুঝানো হয়েছিল তোমরা যদি ৬ দফার পক্ষে রায় দাও, তাহলে পূর্ব বাংলার মানুষ মুক্তি পাবে। এছাড়াও বিভিন্ন জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নানাভাবে প্রভাবিত করে। একটা মানুষের ব্যক্তিত্বের যে প্রভাব, তা সত্যিই অনুকরণীয়। পূর্ব বাংলার মানুষ তা মেনে নিয়েছে।’

‘সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর থেকেই ধারণা করা হতো পূর্ব বাংলার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তখন নির্বাচনের পর থেকেই মানুষের মনে জানার কৌতুহল ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কি নির্দেশ দিয়েছেন বা কি বলেছেন, তা শোনার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নবনির্বাচিত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের ((এমপিএ) নিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। খবরটি শোনার পর, হালিশহর থেকে আমি ও আমার বন্ধু জাফর ট্রেনে করে ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওয়ানা দিই।’

‘ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আয়েজিত শপথ অনুষ্ঠানের বিশাল মঞ্চটি নৌকার আদলে করা হয়েছিল। এই বিশাল মঞ্চে পাকিস্তানের ২০০ এমপিএ ও ১৬২ জন এমএনএ সদস্যসগ প্রায় ৪০০ জন বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনসভায় লাখো জনতার সামনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের এমএনএ ও এমপিএ সদস্যদের বলেছিলেন, ‘পূর্ব বাংলার জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তোমাদের রায় দিয়েছে। ৬ দফা প্রতিষ্ঠার জন্য, পূর্ব বাংলাকে শোষণ, বঞ্চনা থেকে মুক্ত করার জন্য। এ শপথ তোমরা মেনে চলবে।’
‘আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করানোর পর এমএনএ ও এমপিএ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু জনসভায় বক্তৃতার শুরুতেই বলেছিলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি জনতা সামনে নেয়া এ শপথ ভঙ্গ করো, তাহলে জনতা তোমাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে।’

পরদিন ৪ জানুয়ারি ঢাকার রমনা বটমূলে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু বক্তব্য রেখেছিলেন। ওই সময়েও ছাত্রলীগের মধ্যে দুইটি গ্রুপ খুব উত্তেজিত ছিল। ছাত্রলীগের একটা গ্রুপ চেয়েছিল সরাসরি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ শুরু করার জন্য। তারা স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছিল রমনা বটমূল। ছাত্রলীগের একটি পক্ষ যারা সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগান ছিল ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা। আরেকটি পক্ষ সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান ছিল না। তাদের স্লোগান ছিল ‘বাঁশের লাঠি তৈরি করো, পাতি বিপ্লবী খতম করো। হু হু-নাও নাও, চীনে যাও ব্যাঙ খাও।’

‘বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শুরু করার আগেই দু’পক্ষ উত্তেজিত ছিল। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠেই স্পষ্টভাবে বলে ওঠেন, ‘কখন সংগ্রামের ডাক দিতে হবে, আমি ভাল করে জানি। কখন বিপ্লব করতে হবে, সেটি আমি ভাল করেই জানি। তোমরা স্লোগান বন্ধ করো।’

এরপরেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘৬ দফা ভিত্তিতেই দেশের সংবিধান প্রণিত হবে। নির্বাচনে জনগণ রায় দিয়েছে, রায়ের প্রতি বিশস্ত থাকতে হবে।’

এক কথায় বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে আমরা পাকিস্তানীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। ওনার নেতৃত্বে ভারতের হরিণা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ সিয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধে নিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেছি-সেই সাক্ষাতকারে বলেন রইসুল হক বাহার।