শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাঁঠাল বিচি খেলে কী হয়

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার, ০১:৪৪ পিএম

কাঁঠাল বিচি খেলে কী হয়

গরম পড়তেই ফলের বাজারে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে থাকে কাঁঠাল। এখনও খুব ভালো বা মিষ্টি না হলেও, ইতিমধ্যেই কাঁঠালকে ঘরে তোলা শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। প্রোটিন, ভিটামিন ও পটাসিয়ামসমৃদ্ধ এই ফল গরমে শরীর সুস্থ রাখার পক্ষে একেবারে আদর্শ। তবে শুধু ফলেই নয়, গুণ রয়েছে ফলের বীজেও। কাঁঠালের বীজের উপকারিতা জানলে আর কোনওদিন সেটিকে ফেলে দেওয়ার কথা মাথাতেও আনবেন না।

কাঁঠাল এশিয়ার খুব জনপ্রিয় একটি ফল। খোসা ছাড়িয়ে কাঁঠাল খাওয়া হয়, আর এর বিচি খাওয়া যায় ভেজে বা সেদ্ধ করে। ডেজার্ট হিসেবেও অনেক সময় কাঁঠালের বিচি খাওয়া হয়।

কাঁঠালের বিচি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এর মধ্যে রয়েছে রিবোফ্ল্যাবিন ও থায়ামাইন। আরো রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও আঁশ। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াস, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন ও কপার। এগুলো চোখ, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে।
কাঁঠালের বিচি খাওয়ার কিছু গুণের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ।

১. কাঁঠালের মধ্যে থাকা প্রোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
২. কাঁঠালের বিচি হাড়ের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম। এই ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। এটি হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে।
৩. কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে লিগন্যানস, স্যাপোনিনস, আইসোফ্ল্যাবোনস ও ফাইট্রোনিউট্রিয়েন্টস। এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী।
৪. এই বিচির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ঠিকঠাকমতো কাজ করতে সাহায্য করে।
৫. লিগন্যানস, স্যাপোনিনস, আইসোফ্ল্যাবোনস ও ফাইট্রোনিউট্রিয়েন্টসের মধ্যে রয়েছে তারুণ্য ধরে রাখার উপাদান। এগুলো ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কার্যকর।
৬. কাঁঠালের বিচির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। যেসব ব্যাকটেরিয়ার কারণে খাবার থেকে অসুখ সৃষ্টি হয়, সেগুলো রোধে এটি সাহায্য করে। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই ভালো।

আরো যেসব উপকারিতা :

১.বলিরেখা দূর করে
ত্বকে বলিরেখা থেকে নিষ্কৃতি দিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে কাঁঠালের বীজ। একটি বীজ কোল্ড ক্রিমের সঙ্গে পিষে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেটি নিয়মিত ত্বকে লাগান। বলিরেখা পালাবে। কাঁঠালের বীজ আপনার ত্বককে করে তুলবে সজীব ও তরতাজা। দু-একটি বীজ সামান্য দুধ ও মধুতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে, সেটা দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সেই পেস্ট সারা মুখে লাগিয়ে শুকোতে দিন। তারপর উষ্ণ গরম জলে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ত্বকের ঔজ্জ্ল্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

২.মানসিক চাপ কমায়, ত্বকের রোগ সারায়
কাঁঠালের বীজ প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসে ঠাসা। সেজন্যই এটি মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ কার্যকরী। এটি ত্বকের নানা রোগও সারায়। ত্বকে ময়েশ্চারের মাত্রা বেশি রাখতে ও স্বাস্থ্যকর চুল পেতে নিয়মিত কাঁঠালের বীজ খাওয়া ভালো।

৩.রক্তস্বল্পতার শত্রু
রোজ মেনুতে কাঁঠালের বীজ রাখলে আপনার শরীরের আয়রনের মাত্রা বাড়বে। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। কাঁঠালের বীজ হিমোগ্লোবিনের একটি উপাদান। ফলে এটি খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূরে হঠবে। আয়রন সুস্থ রাখবে আপনার মস্তিষ্ক ও হার্টকেও।

৪.স্বাস্থ্যকর চুল ও ভালো দৃষ্টিশক্তি
কাঁঠালের বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। চোখের স্বাস্থ্যের জন্য এই ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি রাতকানা রোগ কাটাতেও সাহায্য করে। শুধু চোখ নয়, চুলের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে ভিটামিন এ। চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে এই ভিটামিন।

৫.হজমশক্তি বাড়ায়
বদহজম রোধে খুবই কার্যকরী কাঁঠালের বীজ। এটি রোদে শুকিয়ে বেঁটে পাউডারের মতো করে ফেলুন। বদহজমে সহজ হোমমেড রেমেডি হতে পারে এই পাউডার। এতকিছু না করে শুধু কাঁঠালের বীজ খেলে কমবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। কারণ প্রচুর ফাইবার থাকে কাঁঠালের বীজে।