রোববার, ৩১ মে ২০২০

ঢাকা থেকে আসলেও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন : সিভিল সার্জন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার, ০৯:১৪ পিএম

ঢাকা থেকে আসলেও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন : সিভিল সার্জন

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বী বলেছেন, প্রথমদিকে চট্টগ্রামকে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দর ও বিদেশী নাগরিকদের কারণে চট্টগ্রাম নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল বেশি। এর মধ্যে সবগুলো পথ আমরা মোটামুটিভাবে বন্ধ করতে পেরেছি। তাই এখন ঝুঁকিটা সারাদেশে যেমন , চট্টগ্রামেও তেমন। আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি। সতর্কতা হিসাবে এখন কেউ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসলেও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। 

চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন বলেন, এই মুহুর্তে চট্টগ্রামে ৯৪৭ জন হোম কোযারেন্টাইনে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে বেডে কেউ নেই। কোন করোনা পজেটিভ রোগীও পাওয়া যায় নি।

এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে সংগৃহীত সকল নমুনা নেগেটিভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন দিন আগে থেকে চট্টগ্রামে বিআইটিআইডি-তে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এখানে এ পর্যন্ত ১৫ জনের নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের সবাই নেগেটিভ। আরো কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রবিবার সেগুলোর ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন , সবগুলো সরকারি হাসপাতালে ফ্লু কর্ণার করা হয়েছে। বিআইটিআইডি যেখানে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে সেখানেও ফ্লু কর্ণার আছে। বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি এম্বুলেন্স ডেডিকেটেড করা আছে। একটি টিমও সার্বক্ষণিক প্রস্তত থাকে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ। কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করছে। সমুদ্র বন্দরে জাহাজে কোন নাবিক আসলে তাদেরকে ১৪দিন বহিনোঙ্গরে থাকতে হচ্ছে। এ সময়ের পর তারা বন্দরে আসলে আবার স্ক্রিনিং করা হয় । ফলে এখন চট্টগ্রাম আর আলাদা কোন ঝুঁকিতে নেই। পরিস্থিতি এখন সারাদেশের মতোই।

তিনি বলেন, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৫ হাজার প্রবাসী এসেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে।  প্রথমদিকে চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়াীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এই ছয় দেশ থেকে আসা প্রবাসী ও বিদেশীদের কোয়ারেন্টাইনের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয় সব প্রবাসীদের পরীক্ষা করা হবে। সে হিসাবে একটি গরমিল দেখা দেয়। এ কারণে সব প্রবাসীকে আমরা কোয়ারেন্টাইনে আনতে পারিনি। বর্তমানে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি দেখভাল করছেন।

বিদেশীরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি কিনা এ প্রশ্নে জেলার প্রধান এই চিকিতসা কর্মকর্তা বলেন, প্রবাসীদের কারনে ঝুঁকি বেড়েছে এটা ঠিক। এর বাইরে এখন বলা হচ্ছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসলেও ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনী স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।

আইসিইউ সংকট প্রসঙ্গে বলেন, করোনার ডেডিকেটেড কোন হাসপাতাল এখনো চট্টগ্রামে নাই। তবে তিনটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যা, বিআইডিআইটি-তে ৫০ শয্যা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। রোগীর চাপ বাড়লে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা পুরোটাই ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হবে। চমেক হাসপাতালে চারটি আইসিইউ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও তাদের আইসিইউ খালি রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হটলাইনে ফোন করে না পাওযা প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রামের যেসব হাসপাতালে ফ্লু কর্ণার ও আইসোলেশন বেড রয়েছে প্রত্যেকটির জন্য আলাদা হটলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এসব নম্বর ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আইইডিসিআর এর হটলাইন নম্বর বাড়ানো হয়েছে।  এছাড়া আরো দুইটি নম্বর ১৬২৬৩ ও ৩৩৩ -তেও যোগাযোগ করা হবে।