বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

মেয়র নাছিরের জীবনের গল্প যেমন...

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৯ রবিবার, ০৮:৪৭ এএম

মেয়র  নাছিরের জীবনের গল্প যেমন...

‘জাতীয় পার্টির রাজনীতি করার জন্য লোভনীয় অফার এসেছে, তারেক জিয়াও বলেছে বিএনপি করার জন্য, না হয় মৃত্যু মেনে নেওয়ার জন্য। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দলের নীতি-আদর্শকে সাথে নিয়েছিলাম। আপস করিনি, কঠিন সময়ে সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে যদি আদর্শচ্যুত না হয় তাহলে একদিন সফলতা আসবে, সেটা যে কোনো কাজে। যা নিজের জীবন থেকে উপলব্ধি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শনিবার থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে ‘দৃষ্টি আড্ডা সাথে নগর পিতা’ শীর্ষক এক আড্ডায় মেয়র নিজের জীবনের গল্প শোনালেন একঝাঁক তরুণদের।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই বার সহ-সভাপতি ছিলাম। এরপর নগর আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হয়েছি। মাঝখানে নানা কারণে ২৫ বছর পদবিহীন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে গেছি। অনেক ক্ষমতাসীন দল লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে। আমি আমার নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি।’

মানুষের জন্য রাজনীতি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এই নগরে আমার জন্ম। ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকে রাজনীতি করে আসছি। কখনো রাজনীতিকে ব্যবহার করে নিজে লাভবান হতে চাইনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে যে মাসিক ভাতা পায় সেটা আইনি বাধ্যবাধকতা কারণে তুললেও বিভিন্ন ফান্ডে দিয়ে ফেলি। বরং নিজের ব্যবসার আয় থেকে লাখ দুয়েক টাকা দুস্থদের সহযোগিতায় প্রদান করি। মিডিয়াতে এসেছে আমি চাঁদা নিয়ে চলি, ব্যবসায় সময় দিতে পারি না। ওয়ান ইলেভেনের সময় অনেকে আমার নামে ঢাকায় কয়েকটি ফাইল নিয়ে গেছে, কিন্তু আমার ইমেজ ক্লিন থাকার কারণে ষড়যন্ত্র করে তারা সফল হয়নি। আমি সব কিছু আমার ব্যবসা আর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ভোগ করছি।’

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার গল্প বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় ক্লিন হার্ট চলছে, তখন যে তালিকা করা হয়েছিল সেখানে আমার নামও ছিল। তখন আমার কাছে তথ্য আসে, কোনোভাবে যদি আর্মি ধরতে পারে তাহলে প্রাণে রক্ষা হবে না। সেভাবে তখন সে তথ্য গুরুত্ব দিইনি। একটি প্রোগ্রাম শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিউট থেকে বের হবার সময় একজন ফোন করে বলে- চট্টগ্রামে খালেদা জিয়া আসবে, তারপর থেকে আর্মি মাঠে নামবে। আর্মি যদি পায় তখন প্রাণে মেরে ফেলবে। আমি যাতে নিরাপদ স্থানে সরে যাই। পরের দিন প্রবর্তক মোড়ে এক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খাচ্ছিলাম, এমন সময় একজন ফোন করে নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ওইখান থেকে এসে বাসায় ঢুকে গেট বন্ধ করে ঘুমাতে গিয়ে দেখি কেমন জানি অস্বস্তি বোধ করছি, সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ঘড়ির কাটায় দেখি রাত তিনটা, পরে বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে যায়, গিয়ে দেখি মসজিদ বন্ধ। ডেকে মসজিদ খুলে সকালে নামাজ পড়ে বের হলাম, এমন সময় বাসা থেকে আমার ছোট ভাই এসে বলল- সমস্যা হয়ে গেছে, বাসার চারদিকে আর্মিরা ঘিরে আপনাকে খুঁজছে, কাউকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এ সময় মসজিদের পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে ট্যাক্সি নিয়ে আন্দরকিল্লা থেকে পাথরঘাটা চলে যায় এক বন্ধুর বাসায়। এমন অনেক দিন গেছে বাসা থেকে বের হয়নি, আত্মগোপনে ছিলাম।

সাইদুল ইসলাম ফাহিম নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ষোলশহর রেল স্টেশনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এ সময় মেয়র বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার প্রধান কারণ হচ্ছে দায়িত্বহীনতা আর অসাবধানতা। পরিকল্পনা না করে যার যেটা ইচ্ছা সেটা করেছে। রেললাইনের উপর বাজার বসছে, মানুষ রেল লাইনের উপর হাঁটছে। অন্য কোনো দেশে গিয়ে সে দেশের আইন মানলেও নিজ দেশের আইন মানছি না আমরা। যার কারণে দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।

এছাড়া ট্রেনের বগিতে বিভিন্ন গ্রুপের নাম লিখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বসার উপর যারা নিষেধাজ্ঞা জারি করছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চবি উপাচার্যকে আহবান জানান মেয়র।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আরাফাত ও সামির। কবি আসলাম সানির কবিতা আবৃত্তি করেন শিশু আবৃক্তিকার শ্রুতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার, চসিকের প্যানেল মেয়র ড. নেছার উদ্দীন আহমদ মঞ্জু, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, কবি জিন্নাহ চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফ চৌধুরী।