ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

ফেসবুকে পরিচয়, ১০ মাসে সব শেষ

প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০৭:৫৬ এএম

ফেসবুকে পরিচয়, ১০ মাসে সব শেষ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত শনিবার রাতে স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর চৌধুরী (ওম)। স্বজনদের অভিযোগ, সাগর তার স্ত্রী মাধব রাণী রায় পিংকি(২৫)কে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

এদিকে  রবিবার পিংকির বৃদ্ধা মা মঞ্জু রাণী রায় গুইমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র সাগর চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গুইমারার দার্জিলিং টিলার বাসিন্দা মৃত নিরঞ্জন চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রীর পুত্র ও উপচেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর চৌধুরী শনিবার বিকালে স্ত্রী মাধবী রাণী পিংকিকে বেদম মারধর করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে সাগর তাকে মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পথিমধ্যেই পিংকি মারা যায়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কক্ষে স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে তিনি পালিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার আনিসুল হক মাটিরাঙ্গা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ফেনীর ফুলগাজি উপজেলার সতেশপুর নতুন মুন্সিরহাট গ্রামের মৃত স্বপন কুমার রায়ের কন্যা পিংকির সাথে বিয়ে হয় সাগরের। পিংকি এমএসসি পাস। তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। অন্যদিকে, সাগর মাধ্যমিকের গন্ডিও পেরোয়নি। ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে কিছু ঠিকাদারি কাজ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের দুজনের মধ্যে বনিবনা ছিল না। প্রায়শই সাগর তাকে মারধর করতো। কিছুদিন আগেও অমানুষিকভাবে পিংকিকে নির্যাতন করে সাগর। এ কারণে স্ত্রী পিংকি গুইমারায় স্বামির বাড়িতে আসতেন না। দেন দরবার করে সপ্তাহখানেক আগে সাগর তাকে নিয়ে আসে। শনিবার বিকালে দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাগর তাকে বেদম মারধর করেন। মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলে সাগরের পরিবার থেকে এলাকায় প্রচার করা হয় পিংকি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, গলায় ফাঁসের চিহ্ন বা আত্মহত্যার কোন আলামত দেখা যায়নি। তবে তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে, স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা সাগর। পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়েও পাচ্ছে না। রামগড় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ জানান,

প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে পিংকির শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন দেখাগেছে। তিনি বলেন, সাগর গা ঢাকা দেয়ায় পুলিশ তাকে এখনও ধরতে পারেনি। রবিবার খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পিংকির লাশে

ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পিংকির মা ম্ঞ্জু রাণী রায় গতকাল রবিবার ফেনী থেকে গুইমারায় এসে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাগর চৌধুরীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।