ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

বেড়াইন্যা লেক কেন যাবেন ?

রাকিবুল হক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১১:৪১ পিএম

বেড়াইন্যা লেক কেন যাবেন ? কায়াক নৌকায় প্যাডেল ঘুরিয়ে ভ্রমণকারীদের কায়াকিংয়ের স্বাদ

কাপ্তাইয়ের আসল রূপ দেখতে হলে পাহাড়ের ভাজে ভাজে কাপ্তাই লেকের সৌন্দয্য দেখার জন্য কায়াকিং করতে হবে।  কাপ্তাই লেকের নীল জলে, সাথে থাকবে একফালি নীলাকাশ আর চিরহরিৎ বৃক্ষরাজির চোখ ধাঁধানো সবুজ। হঠাৎ হঠাৎ আকাশ হালকা মেঘলা হয়ে আসবে, দিয়ে যাবে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির আগমনি বার্তা। পাহাড়ের পাতায় পাতায় এবং লেকের পানিতে ছোট ছোট ঢেউ করে শরীরে ছুয়ে যাবে হিম বাতাস।

আর বেরাইন্যা লেক শোর ক্যাফে যাওয়ার আঁকা-বাকা পাহাড়ি রাস্তা ও রাস্তা থেকে একপাশে পাহাড় ও অন্যপাশে কাপ্তাই লেকের দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবেই। রাস্তা থেকে কিনে নিতে পারবেন একেবারে গাছ থেকে পেড়ে নেয়া নানা রকম ফল।
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি সড়কের ১৯ কিলোমিটার সড়কের দু`পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই লেক ও সবুজ পাহাড় । যা বর্তমানে রাঙামাটি এবং দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে । সড়কটির আঁকাবাঁকা আর উঁচু নীচু পাহাড়ী পথ,পথের একধারে সুবিশাল সবুজ পাহাড় আর অন্যপাশে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদের বিশাল নীল জলাধার যে কাউকে এতোটাই মুগ্ধ করবে যে,পুরো চলতি পথে তার কখনই মনে হবেনা,এই স্থানটি রাঙামাটিতে ।

উনিশ কিলোমিটার পথের কোথাও বড় কোন পর্যটন স্পট নেই, কিন্তু পুরো পথটাই যেনো এক সাজানো পর্যটনকেন্দ্র । কাপ্তাই আসামবস্তি সড়কে রয়েছে রাজবন বিহারের প্রয়াত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের জন্মভুমি স্মৃতি মন্দির । কাপ্তাই হ্রদের মাঝখানে স্মৃতিমন্দিরটি পর্যটকদের জন্য এক অপুর্ব দর্শনীয় স্থান । পথের এই সৌন্দর্য আর সংলগ্ন পাহাড়ী গ্রামগুলোর মানুষের বর্ণিল জীবন যাপনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয় বেড়াতে আসা পর্যটকের চোখে মুখে । শহরে সবচে বড় সড়ক সেতুটি পাড় হওয়া দিয়েই যাত্রা শুরু কাপ্তাই রাঙামাটি সড়কের । মাত্র একটি সড়ক কি চমৎকারভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে সাধারন মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু তার প্রমাণ পাওয়া যাবে এই সড়কের প্রতি ইঞ্চিতে । কিন্তু এই সড়কে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য রাখা হয়নি কোন সুযোগ সুবিধা । বিশ্রাম বা জরুরী প্রয়োজনে নেই কোন সহযোগিতার হাত ।

সম্প্রতি এ সড়কটির পাশে সম্পুর্ন নিজস্ব অর্থায়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন গড়ে উঠেছে তিনটি রিসোর্ট। বেড়াইন্যা রিসোর্টের ব্যবস্থাপক হিল্লোল চাকমা বলেন, আমরা চাই পর্যটনের শহর রাঙামাটিকে নতুনভাবে বিকশিত করতে এ খাতে সরকারিভাবে যদি বিনিয়োগ করা যায় তাহলে এখানকার পর্যটন শিল্প আরো উন্নত হবে । আমরা আশা করি সরকার আমাদেরকে যথাযথভাবে মুল্যায়ন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে ।
অপরদিকে এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা বলেন, এ সড়কটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান। সরকারিভাবে সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে এ রাস্তাটি যদি পর্যটকদের জন্য স্থাপনা করা হয় তাহলে এটি হবে একসাথে পাহাড় এবং হ্রদ দেখার সুযোগ ।

শহরে সবচে বড় আসামবস্তি সেতুটি পাড় হওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া পথটি যেখানে মিলেছে সেখানেও কাপ্তাই নেভাল ক্যাম্পের অপরূপ সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি.এস.পি.আই এর ছিমছাম পরিবেশও নজর কাড়বে অনেকের । ভালোলাগা আর ভালোবাসার মুগ্ধতায় ছুঁয়ে যাবে উনিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মনকাড়া সড়ক ।

এদিকে চলচ্চিত্র, টিভি পর্দা বা ইন্টারনেটে অন্যদের ‘কায়াকিং’ করতে দেখে বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের ইচ্ছা জাগলেও ব্যবস্থা না থাকায় ভারত, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে এর অভিজ্ঞতা নিতে হত। এবার দেশেই সরু ও বিশেষ ধরনের কায়াক নৌকায় প্যাডেল ঘুরিয়ে ভ্রমণকারীরা কায়াকিংয়ের স্বাদ নিতে শুরু করেছেন। যাদের কখনো নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতা নেই তারাও চাইলে বিশেষ এই নৌযান চালাতে পারবেন। বর্তমানে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা আছে। রাঙ্গামাটির ‘বেরাইন্যা লেক শোর ক্যাফে সংলগ্ন কাপ্তাই লেকে কায়াকিং প্যাকেজ পরিচালনাকারী ডিসকভারি ট্যুরসের প্রধান রিটন চাকমা জানান, তাদের একটি কায়াক বোটে দুজন মানুষ আধা ঘণ্টা কায়াকিং করতে পারেন। এজন্য খরচ পড়ে দেড়শ টাকা। নিরাপত্তার জন্য সেখানে কায়াকিং করার সময় সেবাগ্রহীতাদের লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হয়ে থাকে। পর্যটকদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে ও অন্যদের কাছে শুনে রাঙ্গামাটিতে গিয়ে নতুন এই নৌযান চালানোর অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন।