ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

ঐতিহ্যের জব্বারের বলীখেলা বুধবার

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার, ০৮:১০ এএম

ঐতিহ্যের জব্বারের বলীখেলা বুধবার

চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী ময়দানে বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা। যেখানে শক্তির লড়াইয়ে নামবেন সারাদেশের কুস্তিগীররা। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা। বলীখেলাকে ঘিরে গতকাল থেকেশুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। এবার বসছে বলীখেলার ১০৯তম আসর।

বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের সংগঠিত করতেই ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারস্মৃতি বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন। এরপর থেকে প্রতি বৈশাখে লালদীঘি মাঠে নিয়মিত হয়ে আসছে এইআয়োজন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ জব্বারের বলীখেলা ঘিরে এবারও থাকছে নানা আয়োজন। তাই উৎসবের আমেজ পুরো বন্দর নগরীতে। আয়োজকরা চান, বাংলা সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠা, এই উৎসব স্বীকৃতি পাক বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে।

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জব্বারের বলী খেলার সেরার মুকুট পরা মুখটি ছিল একেবারেই পরিচিত। হয় মর্ম সিং ত্রিপুরা না হয় দিদার বলী। গত আসরে নিজের শেষ খেলাটি খেলে ফেলেছেন দিদার বলী। তারও আগে অবশ্য এই বলী খেলাকে বিদায় বলে দিয়েছেন মর্মসিং ত্রিপুরা। তাই এবারে শত বর্ষের জব্বারের বলী খেলা পাচ্ছে নতুন কোন এক চ্যাম্পিয়ন। আর সে চ্যাম্পিয়নকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি। চট্টগ্রামের দর্শকরাও আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করছে কে হচ্ছেন এবারের জব্বারের বলী খেলার নতুন চ্যাম্পিয়ন সেটা দেখতে। এক ধরনের উম্মুখ হয়ে যেন আছেন সবাই।

বলী খেলা শুধু নয়, এ খেলাকে ঘিরে বৈশাখি মেলার আয়োজনও হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যের নাগরিক আয়োজন এ মেলা প্রতিবছর হয়ে উঠে ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষ মহামিলনের ক্ষেত্র। রোদের গণগণে আঁচ উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে দোকানিরা হরেক রকমের পসরা নিয়ে গত দু’দিন ধরেই পছন্দের জায়গায় বসে পড়েছেন। আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা না করেই চলছে বিকিকিনি। শত বর্ষীয় এ বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলালিংকের সৌজন্যে।

দেশের নানা প্রান্তের বলীরা এসে নিজের ষ্ট্রেত্ব প্রমাণ করার জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা করে এই বলী খেলায়। যুগে যুগে অনেকেই এই বলী খেলা থেকে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অনেকেই একেবারে জিরো থেকে হিরো হয়ে গেছেন। আবার অনেকেই হিরো থেকে জিরো হয়ে শেষ করেছেন ক্যারিয়ার। একাধিকবার শিরোপা জেতা অনেক বলী দেখা গেছে পরের বছর অখ্যাত নতুন কোন বলীর কাছে ধরাশায়ী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। তবে এবারে তেমন সম্ভাবনা নেই। কারন এবারে থাকছেন না গত কয়েক আসরের নিয়মিত চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলী। কাজেই জব্বারের বলী খেলার এবারের আসর পাচ্ছে নতুন কোন হিরোকে। তবে গত আসরের রানার্স আপ উখিয়ার শামছু বলী গতকাল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তিনি অংশ নিচ্ছেন এবারের আসরেও। কাজেই গতবারের রানার্স আপ শামসু জিততে পারেন কিনা এই ট্রফি নাকি নতুন আরেকজন এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যান সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

কারন গতকাল পর্যন্ত যে শতাধিক বলী তাদের আসা নিশ্চিত করেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠিত শাহাবুদ্দিনের বলী খেলার চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলী এবং রানার্স আপ উখিয়ার কলিম উল্লাহ বলী। এছাড়া সীতাকুন্ডের রাশেদ বলীসহ অনেকেই তৈরী হয়ে আসছেন জব্বারের বলী খেলায় নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে। তবে লড়াইটা যে হবে সেয়ানে সেয়ানে সেটা অনুমান করা যায়। ডিজিটাল এ যুগেও যে শত বছরের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বলী খেলা এখনো মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে সেটা বিশাল একটি ব্যাপার। আয়োজকরা জানিয়েছেন শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা জব্বারের বলী খেলা সময় যত গড়াচ্ছে ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আজ দেশের বাইরেও ঐতিহ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে জব্বারের এই বলী খেলা।

আজ বিকাল তিনটায় লালদীঘি মাঠে বলী খেলার উদ্বোধন করবেন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। আর পরে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরষ্কার বিতরন করবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বরাবরের মত এবারের আসরেও চ্যাম্পিয়নের জন্য থাকছে ট্রফি এবং মেডেলসহ নগদ বিশ হাজার টাকা পুরষ্কার। রানার্স আপের জন্য থাকছে ট্রফি এবং মেডেলসহ নগদ ১৫ হাজার টাকার পুরষ্কার। তবে পুরষ্কারের চাইতে এই ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করাতেই যেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা বলীদের সবচাইতে বড় স্বপ্ন।