বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

টিকা দেওয়া শেষে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২১ রবিবার, ১০:১৩ এএম

টিকা দেওয়া শেষে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের মহামারীতে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে ‘যত টিকা দরকার তত টিকাই কেনা হবে’ বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ নেতার সমাপনী ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে চলমান টিকাদান কার্যক্রম শেষ হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ অধিবেশনে তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিন এসেছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যত টাকা লাগে দেওয়া হবে, আরও টিকা নিয়ে আসা হবে দেশে। সব দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হচ্ছে। দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে বিনামূল্যে করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ভারত থেকে নগদ টাকা দিয়ে টিকা কেনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংক্রমণ প্রকট আকার ধারণ করলে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, ফলে বাংলাদেশ তখন কিছুদিন সমস্যায় পড়ে।

“কিন্তু বর্তমানে টিকা এসে গেছে। যেমন ফাইজারের টিকা যেটা এসেছে, আমরা বলেছি যারা বিদেশে আমাদের শ্রমিক, যারা যাচ্ছেন, তাদের অগ্রধিকার থাকবে এই টিকা পাওয়ায়।

“আর গতকাল রাতে এবং আজকে খুব ভোরে মডার্না এবং সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশে পৌঁছে গেছে। মডার্না থেকে ২.৮৫ মিলিয়ন চলে এসেছে আর সিনোফার্মের ২ মিলিয়ন এসে গেছে।”

সিনোফার্মের ওই ২০ লাখ টিকা যে বাংলাদেশের কেনা টিকার অংশ, সে কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “তার আগে তারা আবার আমাদেরকে চীন থেকে কিছু উপহারও পাঠিয়েছে এবং ভারতও কিছু উপহার দিয়েছে।”

পৃথিবীর অন্যান্য দেশ এবং টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আরো টিকা আমরা নিয়ে আসব কিনে। যত লাগে আমরা কিনব। তার জন্য আলাদা বাজেটে টাকাই রাখা আছে। এর জন্য কোনো চিন্তা হবে না।

“আমরা চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান থেকে শুরু করে সব দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ করছি। যেখানেই পাওয়া যাচ্ছে নিয়ে নিচ্ছি। আমাদের নিজেদের প্লেন পাঠিয়ে আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের টিকা নিয়ে এসেছি। এভাবে আমরা কিন্তু সংগ্রহ করছি।”

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “সমস্ত টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। আমরা কিনছি অনেক টাকা দিয়ে। প্রথমে যেটা কিনেছিলাম সেটা… কিন্তু এখন আমাদের অনেক দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তারপরও জনগণের জন্য, জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে আমরা বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি নিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাজেটেও প্রচুর পরিমাণে টাকা আমরা রেখেছি। ৩২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। আরো ১০ হাজার কোটি টাকা আলাদা রাখা আছে রিজার্ভ, যদি লাগে আমরা সেটা ব্যবহার করব।”

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মানুষ গ্রামে গিয়েছিল বলেই করোনা সংক্রমণ এতটা বেড়েছে। এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানান তিনি। গত ঈদে নিষেধ করা সত্ত্বেও মানুষ বাড়ি গিয়েছিল, তখন সরকারের কথা শুনলে এখন হয়তো পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না বা সংক্রমণও এতটা বাড়ত না।