শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

সাংবাদিকদের চাকরি রক্ষা করবে `সম্প্রচার আইন`: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২০ রবিবার, ০৮:২৪ এএম

সাংবাদিকদের চাকরি রক্ষা করবে `সম্প্রচার আইন`: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার সম্প্রচার সাংবাদিক ও কর্মীদের চাকরি ও আনুষঙ্গিক সুবিধার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।তবে আইন পাস করা কোনো মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় নয়। আইন পাসের সঙ্গে মন্ত্রীসভা, আইন মন্ত্রণালয়, সংসদ ও সংসদীয় কমিটি যুক্ত। যেহেতু তথ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্বে এটি করা সম্ভব নয়, সুতরাং এটি নিয়ে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়াও সম্ভব নয়। তবে এটি সহসা করার চেষ্টা করছি। 

শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ বেতারের উদ্যোগে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা কেন্দ্রের মতো চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানও খুব সহসা সারাদেশে শোনানো হবে। সেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে। এটি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বেতারের অনেকগুলো অনুষ্ঠান অত্যন্ত ভাল এবং গণমানুষের কাছে সেই অনুষ্ঠানমালার ব্যাপক আবেদন রয়েছে। আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে লালন করার ক্ষেত্রে বেতার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বেতারই মানুষের কাছে খবর পৌঁছায়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বেতারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন স্বাধীন বাংলা বেতারের কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীর ঘটনাটা কোন টেলিভিশন কিংবা কোন পত্রপত্রিকায়, এমনকি কোন অনলাইনেও প্রথম প্রকাশ করেনি। এটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, এরপর অন্যান্য মূলধারার গণমাধ্যম সেটি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিন্তু এখন কোন ঘটনাই ঢাকা থাকে না। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্মার্টফোনের ব্যাপকতা বেড়েছে। এ অবস্থায় একটি রেডিও বহন করা সম্ভব নয়। তাই রেডিওকে অ্যাপসের মাধ্যমে টেলিফোনে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন অ্যাপসের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ বেতার মোবাইলেও শোনা যায়।

তিনি বলেন, ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও আশপাশে পাহাড়সহ নানা কারণে ফেনীতেও চট্টগ্রাম বেতারের অনুষ্ঠান শোনা যায় না। অথচ ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন খুলনা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রতিবন্ধকতা না থাকায় এখানে শোনা যায়। গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যবসা বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিসহ নানা সংবাদ ও কৃষ্টি সংস্কৃতির চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা কেন্দ্রের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আপলিঙ্ক করে সেটি আবার বিভিন্ন বেতার কেন্দ্রে ডাউন লিঙ্ক করে সারাদেশে শোনানো হয়।

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ, বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক এসএম আবুল হোসেন।