বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

এসব মাস্ক কতটুকু নিরাপদ ?

ডা. ইকবাল মাহমুদ

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার, ১০:২৫ পিএম

এসব মাস্ক কতটুকু নিরাপদ ?

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এ মুহুর্তে ডাক্তারদের নিরাপত্তা বিশেষ জরুরি। এই চিন্তা থেকে শারীরিক অসুস্থতা নিযে এক দর্জির দোকানে গেলাম। কিছু প্রটেকটিভ গাউন,মাস্ক বানানোর জন্য।  গিয়ে দেখি দর্জি ভাই ভীষণ ব্যস্ত। কী নিয়ে ব্যস্ত জানতে চাইলাম? বললেন, চট্টগ্রামে শহরের সব ক্লিনিক ২০০-৫০০ করে মাস্ক বানাচ্ছে।

তিন লেয়ারের মাস্ক কিভাবে বানাতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভিডিও নিয়ে গিয়েছিলাম দর্জিকে দেখাবো বলে। যেহেতু সবাই বানাচ্ছে, ভাবলাম যাক কষ্ট কমে গেল। স্যাম্পল দেখতে চাইলাম,ওমা একি চায়না বয়েলের একপাটি তেনা, পাশে দুইটা রাবার লাগানো। এটা নাকি করোনা মাস্ক। মাস্ক দেখে হাসব নাকি কাঁদব এই অবস্থা। করোনারাও নিশ্চয়ই হাসবে।

আমি দর্জিকে ভিডিওটা দেখিয়ে বললাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তো তিন লেয়ার বানাতে বলছে। তাও কেউ কেউ বলছেন এই তিন লেয়ারও নাকি প্রটেকটিভ না। দর্জি বললেন,  স্যার আমাকে যেভাবে বানাতে বলছে সেভাবে বানাচ্ছি।

পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম দাম কত ? সে বলে এটা ২৫ টাকা করে। বললাম,তিন লেয়ার দিয়ে বানালে কত? সে বলে ৪০-৪৫ টাকা। সারা দুনিয়াতে পিপিই ( পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট) সংকট রয়েছে। পিপিই-হচ্ছে গাউন, মাস্ক, জুতা, মোজা ও গ্লাভস। চিকিৎসকদের জন্য এসব সরন্জাম বড় বেশি প্রয়োজন। ব্যাপারটা নিয়ে সবাইকে পজিটিভলি কাজ করতে হবে। আর যতটা সম্ভব সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে করোনা সচেতনতার মাস্ক নিয়েও এখন রমরমা বাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে। যে যেভাবে পারছে মাস্ক বানিয়ে খুচরা-পাইকারি বিক্রির যুদ্ধে নেমে গেছে।

যারা এই মাস্কগুলো বানাচ্ছেন তারা কি জানেন না যে, সবচেয়ে ভালো N95 মাস্ক।  না পেলে সার্জিক্যাল মাস্ক।  আর কাপড়ের মাস্ক বানাতে হলে তিন লেয়ার বানাতে হবে। কিন্তু এখন এক টুকরা গেন্জির কাপড় দিয়ে যেসব মাস্ক বানানো হচ্ছে কিংবা মোটা কাপড় আর ফিল্টার দেয়া যেসব মাস্ক মিলছে বাস্তবে সেগুলো কতটুকু ভাইরাস প্রতিরোধক ?

আর চিকিৎসকদের ঝুঁকি বিবেচনায় নিলে এটা তো আরো বেশি বিপদজনক। ডাক্তারের জীবনের চেয়ে ২০-৩০ টাকা  মূল্যবান হলো ? এই মাস্ক দিয়ে তো চিকিৎসকদের একটা ফলস্ হোপ দেয়া হবে।

সবাই শুধু সরকারের সমালোচনা করছি,বাস্তবে সারাদেশের প্রাইভেট ক্লিনিক,হাসপাতাল,মেডিকেল কলেজগুলোতে ডাক্তাররা আরো বেশি অনিরাপদ।

ক্লিনিক মালিকদের মধ্যে যারা কনসালটেন্ট তারাও রোগী দেখেন,ডিউটি রুমে যেতে হয়।যারা কনসালটেন্ট না তারাও হাসপাতালে যান,কারো বউ/ছেলে মেয়েও আবার কোথাও না কোথাও ডাক্তারী করেন।বাজারে দাম বেশি হলে ভাইরাস প্রতিরোধক মাস্ক মিরছে এখনো। প্রতি শিফটে সব ডাক্তারকে একটা করে সার্জিকেল মাস্ক দিলেও চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় হাসপাতালেও মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে না্

এটা তো গেল ডাক্তারদের প্রসঙ্গ।মাস্ক ব্যবসায়ীদের বেরি মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না। মাস্ক বানাতে হলে বা বিক্রি করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে মাস্ক বানান।তাতে মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।  

এতসব ভাবনা-চিন্তার মধ্যে একবক্স সার্জিক্যাল মাস্ক কিনে বাসায় ফিরলাম। ,দর্জিকে ২ টা গাউন অর্ডার করলাম।অনেক খুঁজেও কোন হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হেক্সিসল পেলাম না।

এমন অনিরাপত্তায় আমরা খুঁজে ফিরছি নিরাপদ জীবন।