মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নিজের তরকারিতে পেঁয়াজ দিতে মানা প্রধানমন্ত্রীর !

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার, ০৩:৩৭ পিএম

নিজের তরকারিতে পেঁয়াজ দিতে মানা প্রধানমন্ত্রীর !

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রফতানি করা বন্ধ করে দেয়ায় তিনি রন্ধনশালার কর্মীদের তরকারিতে পেঁয়াজ না দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা জানান।

সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে রসিকতা করে বলেছেন, তিনি তার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছেন যেন পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করা হয়। তার এ কথায় হাসির রোল পড়ে যায় অনুষ্ঠানস্থলে।

বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে হিন্দি ভাষায়ই বলেন, পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গ্যায়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া। ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো। (পেঁয়াজ নিয়ে আমাদের সামান্য সমস্যা হয়ে গেলো। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আমার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছি যে, এখন থেকে রান্না-বান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।)

ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পণ্য রফতানি বন্ধ করার আগে জানালে বাংলাদেশ পণ্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব সময় জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। তাই দেশে বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

পরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সমঝোতা স্মারক সই হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়ায় হঠাৎ করে রাজধানীসহ সারাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। ৪০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হতে থাকে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সরকার টিসিবির মাধ্যমে ৪৫ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি করলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে টিসিবির ট্রাকসেলের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ২-১ কেজি পেঁয়াজ কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে । পূর্ব এশিয়া,ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল,পশ্চিমে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এবং ভারতের ব্যবসার অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে। আমরা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের নিজস্ব ১৬ কোটি জনগণ ছাড়াও প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজারের যোগাযোগের পথ হতে পারে বাংলাদেশ। সামাজিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আস্থাই বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল শক্তি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং শোষণহীন সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই লক্ষ্যই আমাদেরকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর আমরা কোরিয়াতে ১২টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট রপ্তানি করেছি। বাংলাদেশে তৈরি চারটি জাহাজ ভারতে আসছে। সম্প্রতি রিলায়েন্স বাংলাদেশে তৈরি বিপুল পরিমাণ রেফ্রিজারেটর কিনেছে। বাংলাদেশে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সারের বিশাল গোষ্ঠি রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গতানুগতিক খাতের বাইরে বাংলাদেশের শিক্ষা, হালকা শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার এখনই সময়।